holhata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ‘মওকা, মওকা’ এই বিজ্ঞাপন ভারত -বাংলাদেশ- পাকিস্তানের দর্শকদের ঝামেলার অন্যতম উপাদান৷ ইংল্যান্ডের কাছে বিশ্বকাপ গ্রুপ লিগ ম্যাচে হেরে ভারত পড়শি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সমর্থকদের প্রবল হতাশ করেছে৷ তাছাড়া এই হারের জন্য নিজেদের সমর্থকদের প্রবল সমালোচনার মুখে টিম ইন্ডিয়া৷ এই ‘মওকা’য় ২০০৭ ফিরিয়ে আনতে মরিয়া বাংলাদেশ৷ ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে সেবার প্রথম সৌরভ, দ্রাবিড়, শচিন, ধোনিদের শক্তিশালী ভারতকে হেলায় হারিয়েছিল বাংলাদেশ৷ ১৩ বছর পরে সেই সুখস্মৃতি কি ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারবেন ‘টাইগার’ বাহিনী? এমনিতে বাঘ নয় শশক হয়েই ভারতের সামনে থাকতে হয় বাংলাদেশকে৷ তবে মাঝে মাঝে ব্যতিক্রম হয়৷ তখন সেটা দুর্ঘটনা৷ অবশ্যই ঘটনা নয়৷

২০১১ ও ২০১৫-র বিশ্বকাপে ভারতের কাচে হেরেছে বাংলাদেশ৷ ধার ও ভার এর ক্রিকেটীয় যুক্তিতে এজবাস্টনে হাসতে হাসতে জেতা উচিত কোহলিদের৷ মনে রাখতে হবে একদিবসীয় ক্রিকেটে আইসিসি র‍্যাঙ্কিং এ ১ নম্বরে ছিল ভারত, ২নম্বরে ছিল ইংল্যান্ড৷ ইংল্যান্ড জেতায় একে ব্রিটিশরা৷ দুইয়ে ভারত৷ সেখানে ৭ নম্বরে বাংলাদেশ৷ তাই মঙ্গলবারে মঙ্গল ভারতের হওয়া উচিত৷ তবে ক্রিকেটকে মহান অনিশ্চয়তার খেলা বলা হয়৷ আর সেখানেই আশার আলোর অন্বেষণ করছে বাংলাদেশ৷ বাংলাদেশি সমর্থকদের কথায়, আমরা ক্রিকেটটা হৃদয় দিয়ে খেলি৷ এই খেলার সঙ্গে তাই আমাদের আবেগ  যুক্তির চেয়ে বেশি কাজ করে৷

খেলায় যাইহোক ইতিমধ্যে বাইশ গজের বাইরে ভারত-বাংলাদেশের সমর্থকদের মধ্যে গলাবাজি শুরু হয়ে গিয়েছে৷ অন্যদিকে নেট যুদ্ধও চলছে রমরমিয়ে৷ বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্তাজা অবশ্য বাংলাদেশি সমর্থকদের কাছে মাথা ঠাণ্ডা রাখার জন্য আবেদন করেন৷ তাঁর কথায় খেলা নিয়ে কোনও হিংসায় জড়িয়ে পড়া ঠিক নয়৷ তবে তিনি বলেই খালাস৷ তাঁর আবেদর সমর্থকরা দুরস্ত তাঁর দলের খেলোয়াড়রা কি মানবেন? এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচে তা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল৷ এদিন বাইশ গজে র যুদ্ধে দু’দলই দু’দলকে ব্যাপক স্লেজিং করবেই৷ গতবার কোয়ার্টার ফাইনালে রোহিত শর্মার আউট নিয়ে মাঠের মধ্যে মেজাজ হারিয়েছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটারেরা৷ এবারে তাঁদের অনেকেই খেলছেন৷ খেলছেন রোহিতও৷ এবারে বিশ্বকাপে বেশ ভাল খেলছে বাংলাদেশ৷ তাদের ৭ ম্যাচে মাত্র সাত পয়েন্ট৷ অন্যদিকে সমসংখ্যক ম্যাচ খেলে ভারতের সংগ্রহ ১১ পয়েন্ট৷ তাই আজ বাংলাদেশ জিতলেই সেমিফাইনালে পৌঁছাবেই এমনটা নিশ্চিত বলা সম্ভব নয়৷ অন্যদিকে আজ হারলেও ভারতের শেষ চারে ওঠার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাচ্ছে না৷ বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ৯ পয়েন্ট পাওয়া পাকিস্তানের সঙ্গে৷ মোদ্দা কথা, বাংলাদেশকে সেমিফাইনালে যেতে গেল পরপর দুটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে হবে৷ যা ক্রিকেটীয় যুক্তিতে কার্যত অসম্ভব৷

 

এত পাটিগণিতের হিসাব মানতে চাইছেন না ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলির আশা এবার বাংলাদেশ ভারতকে হারিয়ে ফের অঘটন ঘটাবে৷ তবে তিনি বিশ্বাস করেন ম্যাচের ফল যাইহোক তাতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না৷ তাঁর কথায়, একটা সময় বাংলাদেশকে ক্রিকেট বিশ্ব তেমন গুরুত্ব দিত না৷ ২০০৭ সালে ভারতকে হারনোর পর থেকে আজ আমাদের সব দেশ সমীহ করে৷ আজকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ অন্যতম শক্তিধর দেশ৷ তাঁর মতে, আমরা কিন্তু নিধাস ট্রফি ও এশিয়াকাপে ভারতে যথেষ্ট বেগ দিয়েছি৷ কাজেই ভারতের বাংলাদেশকে অত সহজে হারানো সম্ভব নয়৷ বাংলাদেশের সাংবাদিক শামিমা মনে করেন ভারত সবসময়েই বাংলাদেশকে হারাতে চায়৷ তাই ম্যাচ গড়াপেটার কোনও সম্ভবনা নেই বলেই বিশ্বাস করেন তিনি৷ এদিন দুইদেশের সমর্থকরা মাঠ ভরিয়ে দেবে৷

 

ভারতীয় সমর্থকদের মধ্যে দিল্লির সমাদৃতার আশঙ্কা এবার ভারত এই প্রেশার ম্যাচে হেরে যেতে পারে৷ তাঁর কথায়, পর পর তিনটি ম্যাচে ৩০০র নিচে রান করেছে ভারত৷ দুর্বল আফগানিস্তানকে হারাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে ভারতকে৷ তাই তাঁর এমন আশঙ্কা৷ বাংলার ক্রিকেটার মনোজ তেওয়াড়ি বাংলাদেশি ক্রিকেটর বিশেষ করে সাকিবের ভূয়সী প্রশংসা করেন৷ বাংলাদেশকে হেলাফেলা করতে রাজী নন লক্ষ্ণণ, সঞ্জয় মঞ্জরেকর , সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এর মতো প্রাক্তন জাতীয় তারকারা৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here