news bengali

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ক্রমেই নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠছে চিন। প্রধানমন্ত্রী পদে কে থাকবে কে যাবে সেটা নির্ধারিত করার চেষ্টা করছে বেজিং। আবারও নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক পিছিয়ে যাওয়ায় স্পষ্টতর হয়ে উঠল চিনের উদ্যোগী ভূমিকার। দলের মধ্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি’র অপসারণের দাবি যতই জোরালো হয়ে উঠছে ততই নেপালে চিনের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে বেজিং সক্রিয়তা বাড়াচ্ছে।

সম্প্রতি প্রবল বর্ষণ, ধস এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কারণ দেখিয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকটি মুলতুবি করে দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক বাতিলের প্রস্তাবে ওলি’র প্রধান বিরোধী পুস্প কমল দহল, যিনি ‘প্রচণ্ড’ নামে অধিক পরিচিত প্রবল আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরে আরও দুই শীর্ষ নেতা মাধব নেপাল ও ঝালনাথ খানাল–এর সঙ্গে কথা বলে বৈঠক বাতিল প্রস্তাবে তিনি সম্মতি জানান।

ভারতীয় একটি সংবাদ মাধ্যমে ওলির সম্মানহানীকর একটি ভিডিও সম্প্রচারিত হয়েছে এই প্রচারে ভর করে উগ্র জাতীয়তাবাদের হাওয়া তৈরি করতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী। কিছু কেবল টিভি অপারেটর ভারতীয় কিছু চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দিলেও ওলি এই বিষয়টির জন্য সরাসরি ভারত সরকারকে আক্রমণ করে নেপালে দিল্লি বিরোধী হাওয়া তৈরি করতে তৎপর হয়ে উঠেছেন। নেপাল রাজনীতির এক পর্যবেক্ষকের অভিমত, ”নেপালে রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সবথেকে নিরাপদ উপায় হল দেশের সমস্ত নেতিবাচক ঘটনার জন্য ভারতকে দায়ী করা। সকলেই জানে বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ওপর ভারত সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই তবু প্রধানমন্ত্রী ওলির পক্ষে দেশের অভ্যন্তরে তার ওপর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক চাপ কমাতে সব থেকে সুবিধাজনক উপায় হল ভারত বিরোধী তাস খেলে দেওয়া।”

নেপালের দুর্দশার জন্য ভারতের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ওলি অজস্র অভিযোগ তুললেও চিনের রাষ্ট্রদূত হোউ ইয়ানকি’কে নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি। অথচ আন্তর্জাতিক কূটনীতির সমস্ত রীতিনীতি বিসর্জন দিয়ে চিনের রাষ্ট্রদূত ওলির পদ বাঁচাতে সমস্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বাড়ি বাড়ি ঘুরে চলেছেন। আপাতভাবে জানানো হচ্ছে চিনের রাষ্ট্রদূতের এই অতি সক্রিয়তার কারণ কমিউনিস্ট পার্টির বিভাজন রোধ করা কারণ কেপি শর্মা ওলি ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে তাকে সরালে তিনি দল ভেঙে দেবেন।

প্রাথমিক ভাবে ‘প্রচণ্ড’ চিনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয় উদাসীনতা দেখিয়েছিলেন। অবশেষে ক্রমাগত অনুরোধে তিনি বৃহষ্পতিবার সকালে হোউ ইয়ানকি’র সঙ্গে দেখা করেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির যুগ্ম চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুস্প কমল দহল বেজিং–এর সক্রিয়তার আসল উদ্দেশ্য বুঝতে চাওয়ার জন্যই রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎকার এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। সূত্রের খবর ‘প্রচণ্ড’ চিনের রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করেছেন ওলিকে পদ ছাড়তে রাজি করানোর জন্য। দলে স্থিতাবস্থা আনার জন্য ওলির পদত্যাগ করাই যে একমাত্র বিকল্প সে কথা চিনা রাষ্ট্রদূতকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন ওলি বিরোধী ‘প্রচণ্ড’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here