মহানগর ওয়েবডেস্ক: ঠিক এক বছর আগের ঘটনা। ক্যালেন্ডারে ১৪ জুলাই দিনটার তাৎপর্যই ছিল আলাদা। রোমহর্ষক ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল ইংল্যান্ড।
একশো ওভারের পরেও ম্যাচ ছিল টাই। ফাইনাল গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানেও দু’ দলের রান সমান থাকায় বেশি বাউন্ডারি মারার জন্য ইংল্যান্ড জিতে যায় বিশ্বকাপ। ম্যাচের নায়ক হয়ে গিয়েছিলেন ব্রিটিশ অলরাউন্ডার বেন স্টোকস।
বিশ্বজয়ের বর্ষপূর্তিতে এক অদ্ভুত তথ্য সামনে এল। জানা যাচ্ছে সুপার ওভারের আগে সিগারেট ব্রেক নিয়েই বিশ্বকাপে বাজিমাত করেন স্টোকস। শেষ ২ ঘণ্টা ২৭ মিনিট চূড়ান্ত চাপের মধ্যে ব্যাট করেছিলেন স্টোকস।
তিনি জানতেন সুপার ওভারে তাঁকেই ব্যাট করতে হবে। দেশকে বিশ্বকাপ জেতানোর পাহাড় প্রমাণ চাপ নেওয়ার আগে হুট করে লর্ডসের ড্রেসিংরুমের পিছনে চলে যান তিনি। সেখানে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের একটা ছোট্ট অফিস রয়েছে। ওই ছোট্ট অফিসের পাশে দাঁড়িয়েই বেশ কিছু ক্ষণ নিজের মতো সময় কাটান স্টোকস। জ্বালিয়েছিলেন একটা সিগারেটও। এই মাঠকে তিনি হাতের তালুর মতো চেনেন। ফলে হাজার হাজার লোক আর ক্যামেরার নজর এড়িয়ে স্টোকস ঠিক খুঁজে নিয়েছিলেন নিজের একটা জায়গা।
নিক হল্ট এবং স্টিভ জেমসের বই ‘মর্গ্যানস মেন: দ্য ইনসাইড স্টোরি অফ ইংল্যান্ডস রাইজ ফ্রম ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ হিউমিলিয়েশন টু গ্লোরি’ এ স্টোকসের এই ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। বইতে লেখা রয়েছে “সুপার ওভারের আগে ২৭ হাজার ক্রিকেট সমর্থকে ঠাসা দর্শকের মধ্যে শান্ত নিরিবিলি জায়গা খুঁজে পাওয়াই ছিল মুশকিল। কারণ প্রত্যেক ক্রিকেটারকেই ক্যামেরার লেন্স ফলো করছিল লং রুম থেকে ড্রেসিংরুম সর্বত্র। কিন্তু স্টোকস লর্ডসকে হাতের তালুর মত চেনেন। ইওন মর্গ্যান যখন ড্রেসিংরুমে সবাইকে শান্ত করে ট্যাকটিক্স তৈরির চেষ্টা করছেন, সেই সময়েই স্টোকস সবার নজর এড়িয়ে বেরিয়ে যান।”
বইতেই লেখা আছে স্টোকস কোথায় ধূমপান করেন। এরপরে “ইংল্যান্ডের ড্রেসিংরুমের পিছন দিয়ে এটেন্ডেন্স এর ছোট অফিস পেরিয়ে শাওয়ারের তলায় চলে যান স্টোকস। এরপর একটা সিগারেট ধরিয়ে কিছুক্ষন নিজের মধ্যে সময় কাটায়।”
সে দিন নির্ধারিত ওভারের খেলা শেষ হওয়ার পর সুপার ওভারেও ম্যাচ ড্র হয়ে যায়। দু’দলই ৬ বলে ১৫ রান তোলে। কিন্তু হিসেব করে দেখা যায় যে, ইংল্যান্ড মোট ২৬টি চার মেরেছে, যেখানে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানেরা ১৭টি বাউন্ডারি হাঁকান। আর এই নিয়মেই বিশ্বকাপ জিতে নেয় ইংল্যান্ড। আর ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হন স্টোকস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here