ডেস্ক: কেরলের পরতে পরতে এখন নিপার বিভীষিকা, দক্ষিণী মারন এই ভাইরাসের আক্রমণ প্রাণ কেড়েছে ১২ জনের, আক্রান্তের সংখ্যাও বহু। কেরলের ছায়া যাতে বাংলায় না পড়ে তার জন্য আগেভাগে সতর্ক হয়ে উঠল পশ্চিমবঙ্গও। রাজ্যে নিপার সন্ধানে বিশেষ অনুসন্ধান শুরু করলেন রাজ্যের ডাক্তার-গবেষকরা।

বাংলা যাতে আর একটা কেরল হয়ে না ওঠে তাই আগেভাগে কোমর বেধে নামা হল মাঠে। এই ভাইরাসের সন্ধানে বারুইপুরের লিচু বাগানে অভিযান চালালেন ডাক্তার ও গবেষকরা। এই গবেষক দলের অন্যতম সদস্য, পার্ক সার্কাসের ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. অভিষেক দে বলেন, ‘লিচু এবং আঙ্গুর বাদুড়ের অত্যন্ত প্রিয় খাদ্য। তাই রাজ্যের লিচু বাগানগুলি থেকেই নিপার বিরুদ্ধে এই বিশেষ অনুসন্ধান শুরু করা হবে। বারুইপুর থেকে অনুসন্ধান শুরু করা হলেও রাজ্যের অন্যান্য জেলা গুলিতেও একে একে শুরু করা হবে অভিযান। সংগ্রহ করা হবে বাদুড়ের বিষ্ঠা এবং মাটিতে পড়ে থাকা পাখিতে খাওয়া ফল। একইসঙ্গে এই রাজ্যে এই নিপা ভাইরাস নির্ণয় করার মতো অত্যাধুনিক ব্যাবস্থা নেই। ফলে নিপা ভাইরাসের চরিত্র নির্ণয় করার জন্য অধ্যাপক ডা. অভিষেক দে বলেন, ‘পলিমারাইজড চেন রিঅ্যাকশন’-এর মাধ্যমে মৃত ভাইরাসের রাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড বা আরএনএ বিশ্লেষণ করা হবে। নিপা ভাইরাস নির্ণয়ের জন্য।’

উল্লেখ্য, সাবধানের মার নেই এর আগে দু’ দফায় পশ্চিমবঙ্গে আক্রমণ করেছিল এই মারণ ভাইরাস। এর আগে ২০০১ সালে শিলিগুড়িতে নিপার ছোবলে প্রাণ হারান ৪৫ জন। ২০০৭ সালে নদিয়ায় এই ভাইরাসের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছিলেন পাঁচজন। পুণরায় যাতে নিপার আক্রমণ বাংলায় না ঘটে তাই কেরল থেকে শিক্ষা নিয়ে তড়িঘড়ি মাঠে নেমে পড়ল পশ্চিমবঙ্গও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here