নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার আর বাকযুদ্ধ নয়। করোনা মোকাবেলায় রাজ্য সরকারের একাধিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এবার হাইকোর্টের বঙ্গ বিজেপি। জনস্বার্থে মামলা করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানা গিয়েছে রাজ্য বিজেপি সূত্র মারফত। সূত্রের খবর, বুধবার এই মামলা করা হয় হাইকোর্টে। প্রায় ৪ থেকে ৫ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট জমা দেওয়া হয়েছে কোর্টে। রাজ্য বিজেপি সভাপতির পক্ষে মামলা শুরু করেছেন রাজ্য বিজেপির লিগাল সেলের প্রমুখ আইনজীবী পার্থ ঘোষ।

প্রথম থেকেই রাজ্যের করোনা মোকাবেলায় রাজ্য সরকারের একাধিক পদক্ষেপের সমালোচনা করে এসেছে রাজ্য বিজেপি। কখনও করোনায় মৃতদের লাশ গায়েব করা, কখনও বা হাসপাতালগুলিতে সঠিক পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে না বলে একাধিকবার সরব হয়েছে বঙ্গ বিজেপি। অন্যদিকে গেরুয়া শিবির থেকে বারবারই উঠে এসেছে রেশন দুর্নীতিতে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ। রাজ্য বিজেপি সূত্রের খবর, এই সকল অভিযোগ একত্রিত করেই মামলা দায়ের করা হয়েছে হাইকোর্টে। তার মধ্যে রয়েছে বর্তমানে সবচেয়ে সমালোচিত অডিট কমিটির বিষয়টিও।

করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিকবার সরব হয়েছেন খোদ রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, ‘রাজ্য সরকার সমানে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা লুকাচ্ছে। এদের দেহ লুকিয়ে কবর দেওয়া হচ্ছে, দাহ করা হচ্ছে। পরিবারের কাছে দেওয়া হচ্ছে না মৃতদেহ। অথচ সরকার স্বীকার ও করছ না করোনায় আক্রান্ত হয়েই তাদের মৃত্যু। এতে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করা হচ্ছে।’

এদিকে রাজ্যে করোনায় আক্রান্তদের মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করছে অডিট কমিটি। এই কমিটি গঠনের প্রথম থেকেই তার স্বচ্ছতা নিয়ে উঠতে শুরু করে প্রশ্ন। রাজ্যে করোনায় মৃত্যুর হার প্রসঙ্গে অডিট কমিটির দেওয়া রিপোর্টের দিকে প্রথম থেকেই আঙুল তুলেছিল বঙ্গ বিজেপি। এরপর রাজ্যে আসা কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলও অডিট কমিটির গঠন সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে। যদিও তার পরেও কোন উচ্চবাচ্য শোনা যায়নি নবান্নের তবে। অবশেষে বুধবার নবান্নের সাংবাদিক সম্মেলন করে, মুখ্যমন্ত্রী জানান অডিট কমিটির সম্পর্কে তার কোনো ধারনাই নেই। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই সরব হন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। রাজ্য বিজেপি সূত্রের খবর, এই অডিট কমিটির প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে হাইকোর্টের অভিযোগপত্রে।

অন্যদিকে রাজ্যের হাসপাতালগুলোতেও সঠিক পরিষেবা দান করা হচ্ছে না, এই অভিযোগও প্রথম থেকেই উঠছিল বঙ্গ বিজেপির তরফ। রাজ্য বিজেপির সূত্রের খবর, এই বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে হাইকোর্টের অভিযোগপত্রে। এ বিষয়ে দিলীপ ঘোষের অভিযোগ ছিল, ‘করোনা মোকাবেলায় রাজ্যকে ২২০০ কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু সেই টাকা কি খাতে খরচ হচ্ছে তার হিসেব নেই। রাজ্যের হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে না। পর্যাপ্ত মাস্ক ও পিপিই বিলি করা হচ্ছে না। বিভিন্ন হাসপাতালে সাফাই কর্মীরা হাফ প্যান্ট পরে, চপ্পল পরে কাজ ক‌রছেন। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর যেভাবে কাজ করছে তাতে খুব শীঘ্রই অনেক বেশি করে ডাক্তার, নার্স অসুস্থ হয়ে পড়বেন।’

উল্লেখ্য, করোনা আবহের মধ্যে প্রথম থেকেই উত্তপ্ত ছিল রাজ্য রাজনীতি। রাজ্যের করোনা মোকাবেলায় মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক ভূমিকা নিয়ে সরব হতে দেখা গেছে বিরোধী দলগুলিকে। তারমধ্যে প্রথম থেকেই সংখ্যক লেগেছিল বিজেপির শাসক দলের মধ্যে। যে সংঘাত চরমে ওঠে কখনও রাজ্যপাল কখনোবা রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে রাজ্য সরকারের বাকযুদ্ধে। তবে এবার আর বাকযুদ্ধে আবদ্ধ বইলো না বিজেপি রাজ্য শাসকদলের সংঘাত।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here