kolkata news

 

মহানগর ডেস্ক: বরাহনগরে আজ রবিবার ভোট প্রচারে গিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলেছন, শীতলকুচিতে যারা দুষ্টুমি করেছে, তারা উপযুক্ত সাজা পেয়েছে৷ ভোটের পর রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠন হবে৷ তখন আর এসব দুষ্টুমি চলবে না৷ এইসব দুষ্টু ছেলেরা কালকে শীতলকুচিতে গুলি খেয়েছে৷ এ রকম দুষ্টু ছেলেদেরকে ’সোনার বাংলায়’ রাখা হবে না৷ যারা আইন হাতে তুলে নেবে তাদের হাল এমনই হবে৷ বাড়াবাড়ি করলে দেখেছেন কাল শীতলকুচিতে কী হয়েছে, এবার জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে৷ তিনি এও অভিযোগ করেন, খোদ মুখ্যমন্ত্রী তার দলের কর্মীদেরকে খেপানোর চেষ্টা করছেন৷ লাগাতার উসকানি দিচ্ছেন৷ আর তাঁর কথায় যারা খেপছে, তেমনই কয়েকজন কাল শীতলকুচিতে মারা গিয়েছে৷

দিলীপের কথায়, মমতা আগে ছিলেন দিদি, তারপর হলেন পিসি, এখন হয়েছেন মেয়ে৷ এই পরিবর্তন বাংলার মানুষ চায়নি৷ বাংলার মানুষ ওনাকে ১০ বছর আগে চেয়েছিল৷ কিন্তু কী পেয়েছে বাংলা৷ দিদি কী দিয়েছে বাংলাকে৷ কাটমানি, সিন্ডিকেট ছাড়া আর কিছুই তিনি এই বাংলাকে উপহার দেননি৷ কিন্তু মেয়েকে বেশিদিন ঘরে রাখতে নেই, উপযুক্ত সময় হলে বিদায় করতে হয়৷ এবার সেই সময় এসেছে, বাংলার মেয়েকে মানুষ আর রাখতে চাইছে না, তারা বাংলায় মেয়েকে বিদায় করতে চায়৷ দিদিও সেটা স্পষ্ট বুঝতে পারছেন যে, ওনার সময় শেষ৷ দিদি বলেছিলেন, খেলা হবে৷ কিন্তু খেলা কোথায়? কিছু মানুষ খেলা দেখতে অপেক্ষা করছিল৷ কিন্তু খেলা নয়, ঠেলা হচ্ছে এখন৷ সবাই এখন দিদিকে ঠেলছে৷ দিদির হুইল চেয়ার ঠেলছে সবাই৷ এবার ঠেলে তাঁকে ভোট বৈতরণী পার করতে চাইছে৷ কিন্তু মেন রাখবেন ঠেলার নাম বাবাজি৷

দিলীপ ঘোষ এদিন বরাহনগরে এও বলেন, কোচবিহারে লাশ গুণতে যাচ্ছিলেন দিদি৷ ৪ জনের ডেডবডি নিয়ে গোটা রাজ্য ঘুরে ঘুরে ভোট চাইতেন তিনি৷ নির্বাচন কমিশন তাঁর বাড়া ভাতে ছাই ফেলে দিয়েছে৷ কাল রাতেই কমিশন ঘোষণা করেছে, উপদ্রুত এলাকায় ৭২ ঘণ্টা কারও যাওয়া চলবে না৷ তাঁর কথায়, ১০ বছর ধরে এই সাদা শাড়ি, হাওয়াই চটি মানুষকে অনেক ধোঁকা দিয়েছে৷ তাই এবার আর সাদা শাড়ি চলবে না৷ এবার সাদা দাড়ি চলবে৷ কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী গোটা দেশের মানুষ সাদা দাড়ির নরেন্দ্র মোদিকে চাইছে৷ তাই পায়ে প্লাস্টার করে ভোট ভিক্ষা চাইছেন দিদি৷ আল্লাহকে নাম পে ভোট দেদে বাবা৷ ভগবানকে নাম পে ভোট দে দে বাবা৷

অন্যদিকে দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করে তাঁর রুচি, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক চেতনা ও মানবতাবোধ নিয়ে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়৷ তিনি বলেন, দিলীপবাবু যা সব কুরুচিকর ও আপত্তিজনক কথাবার্তা বলছেন, শুনে মেন হচ্ছে যেন হিটলারের প্রেতাত্মা৷ বিজেপি ফ্যাসিস্ট দল৷ ওদের মতাদর্শই হল হিংসা মিশ্রিত৷ চারজনের মৃত্যুর পরেও তাঁর কোনও শোক-দুঃখ নেই৷ তিনি বলছেন, দুষ্টু ছেলেরা গুলি খেয়েছে৷ আইন হাতে তুলে নিতে গেলে যা হয়, তাই হয়েছে৷ দুষ্টু ছেলেরা উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছে৷ জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে বলেও হুমকি দিয়েছেন দিলীপ৷ সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, দিলীপ ঘোষকে নিয়ে যত কম বলা যায় ততই মঙ্গল৷ ওনার মুখের ভাষা বাংলার ঐতিহ্য-সসংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খায় না৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here