mamata and arjun

মহানগর ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে পুরভোটের দিনক্ষণ স্থির করেছ রাজ্য সরকার। এপ্রিল মাসেই দু’দফায় ভোট করানোর জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে রাজ্য সরকারের তরফে। নবান্ন সূত্রে খবর, প্রথম দফায় কলকাতা এবং হাওড়া পুরসভার ভোট হবে। ১২ এপ্রিল ওই দুই পুরসভায় ভোট করতে চাইছে রাজ্য। ওই দুই পুরসভা বাদে বাকি পুরসভায় ২৬ কিংবা ২৭ এপ্রিল ভোট করতে চাইছে সরকার।

কিন্তু, এই সময় ভাটপাড়া সহ ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের আট পুরসভায় ভোট করাতে চাইছে না নবান্ন। প্রশাসনের দাবি, ওই আট পুরসভা নিয়ে ব্যারাকপুর পুরনিগম গঠন করা হবে। সেই জন্য কাঁচড়াপাড়া, হালিশহর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, গারুলিয়া, উত্তর ব্যারাকপুর, ব্যারাকপুর ও টিটাগড়; এই
আট পুরসভায় ভোট এখন হবে না। আর সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে উঠছে প্রশ্ন। কেননা, ভাটপাড়া সহ ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল অর্জুন সিংহের গড় হিসাবে পরিচিত। লোকসভা ভোটে বিজেপির টিকিটে ব্যারাকপুরের সাংসদ হয়েছেন অর্জুন। তারপরে একের পর এক পুরসভা চলে যায় বিজেপির হাতে। শিল্পাঞ্চলে কোণঠাসা হয়ে পরে তৃণমূল কংগ্রেস। তারপরে নানা ‘কৌশলে’ পুরসভা পুনর্দখল করেছে শাসকদল। কিন্তু আত্মবিশ্বাস যে ফেরেনি ওই এলাকায় পুরভোট না করার সিদ্ধান্ত থেকে তা পরিষ্কার বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাদের মতে, ওই আট পুরসভায় ভোট হলে তার বেশিরভাগই ফের বিজেপির হাতে চলে যেতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই ব্যারাকপুর পুর নিগম গড়ার কথা বলে শিল্পাঞ্চলে ভোট আটকে দেওয়ার ভাবনা।

যদিও সরকারের এই ইচ্ছা শেষ পর্যন্ত সত্যি হবে কিনা তা পুরোটাই নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের উপর। নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে যে রাজ্য সরকারের কাছে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভোট না করানোর জন্য যথেষ্ট কারণ রয়েছে, তবেই তা পিছিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। নতুবা, ‘এক যাত্রায় পৃথক ফল’ হবে কেন?

আগামী ১২ এপ্রিল কলকাতা ও হাওড়া পুরসভায় একসঙ্গে ভোট করানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, মেয়র হিসেবে ফিরহাদ হাকিমের পারফরম্যান্সে খুশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই তাঁকে মেয়র হিসেবে প্রজেক্ট করেই কলকাতার পুরভোটে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একুশের সেমিফাইনাল হিসেবে এই লড়াইয়ের জন্য নতুন কর্মসূচি নিচ্ছে রাজ্যের শাসক দল। সূত্রের আরও খবর, ‘আমার গর্ব মমতা’ – এই কর্মসূচির সূচনা হবে মার্চের গোড়ায়।
ওই একই দিনে অর্থাৎ ১২ এপ্রিল হাওড়া পুরনিগমেও ভোট করাতে চাইছে নবান্ন। বারাকপুরের ৮টা পুরসভা বাদ দিলে বাকি পুরসভাগুলিতে ২৬ অথবা ২৭ এপ্রিল ভোটের পরিকল্পনা। এই প্রস্তাব নিয়ে এবার নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। এ নিয়ে সর্বদল বৈঠকের ডাক দিতে পারে কমিশন। তারপর চূড়ান্ত দিনক্ষণ স্থির হবে। তবে রমজানের আগেই ভোটপর্ব মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে খবর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here