মহানগর ওয়েবডেস্ক: পুরানো ভাড়ায় রাস্তায় বাস নামতে হবে, কিছুদিন আগেই যে বর্ধিত বাস ভাড়া ঘোষণা করা হয়েছিল তা নেওয়া যাবে না যাত্রীদের কাছ থেকে। গতকাল এমনটাই জানান পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন বাস মালিক সংগঠনের তরফে একটি বৈঠকে স্থির করা হয় আগামী সোমবার থেকে রাস্তায় বাস নামাবে না বেসরকারি বাস সংস্থার মালিকরা।

মূলত করোনা সংক্রমণ- এর কথা মাথায় রেখে বাসে ২০ জনের বেশি যাত্রী না তুলে , কন্টেনমেন্ট জোন এড়িয়ে বাস চালানো কার্যত অসম্ভব বেসরকারি সংস্থার বাস মালিকদের কাছে। তাই তাদের দিকটা না দেখলে রাস্তায় এই মুহূর্তে বাস নামানো যাবে না বলেই জানিয়েছেন জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট- এর সভাপতি তপন ব্যানার্জী। এদিন তিনি আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন, ‘রাজ্য সরকার কিংবা কেন্দ্র সরকারের নির্ধারিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে বাস চালাতে গেলে ভাড়া বাড়াতে হবে, তা না হলে বাস চালানো যাবে না।

কিছুদিন প্রতিটি রুটে নির্ধারিত ভাড়া কী হওয়া উচিত সেই নিয়ে একটি তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছিল রাজ্য সরকার। এবার কতটা ভাড়া বাড়ানো হবে রাজ্য সরকার সেই সিদ্ধান্ত নেবে। অভিযোগ, তা না করে গতকাল ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভাড়া বাড়ানো যাবে না। সংগঠনের দাবি, মাত্র ২০ জন যাত্রী নিয়ে কন্টেনমেন্ট জোন বাদ দিয়ে পুরানো ভাড়ায় বাস চালানো সম্ভব নয়। বলা হয়, ‘রাজ্য সরকার বছরে ১৪০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে বাস চালায়, এখন করোনার জন্য হয়ত আরও ৪০০ কোটি টাকা বাড়তি ভর্তুকি দেবে আর বলবে ২০০ টা  বাস চালিয়েছি। কিন্তু আমাদের পক্ষে তা সম্ভব নয়।’

তাদের দাবি, বেসরকারি মালিকদের পক্ষে নিজের ঘর থেকে টাকা ইনভেস্ট করে বাস চালানো কার্যত অসম্ভব। তাই সরকার ভাড়া না বাড়ালে রাস্তায় বাস নামানো সম্ভব নয়।

এর আগে,  বাস মালিকরা দাবি করেছিলেন, ন্যূনতম ২০-২৫ টাকা ভাড়া করতে হবে, এরপর প্রতি ৪ কিলোমিটারে ভাড়া বাড়বে, সর্বোচ্চ ভাড়া হবে ৫০ টাকা। মিনিবাসের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ভাড়ার দাবি ৩০ টাকা। সেই পথে হেঁটেও নানা বিতর্কের জন্য পিছিয়ে আসে রাজ্য সরকার। গতকাল পরিবহন মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই দুঃসময়ে সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই বাস ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে না। আর তাতেই বেজায় চটেছেন বাস মালিকরা। তাই আগামীকাল থেকে প্রস্তাবিত থাকলেও রাস্তায় কোনও মতেও বাস নামাবে না স্পষ্ট আভাস দিয়েছেন মালিকরা।

এরই সঙ্গে রাজ্য সরকারের প্রচেষ্টা প্রকল্পে বাসের কর্মচারীদের আর্থিক সাহায্য ও ১০ লক্ষ টাকা বীমা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অর্থাৎ রাজ্য সরকার ও বাস মালিকদের টানা পোড়েনে আপাতত থমকে রইল বেসরকারি বাসের চাকা।

 

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here