রিঙ্কু ভট্টাচার্য, বর্ধমান: তার একের পর এক আবিষ্কার ক্রমশই চমকে দিচ্ছে ভারতবাসীকে। পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারী রসিকলাল স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী দিগন্তিকা বোস এবার আবিষ্কার করল স্মার্ট কার্ভিক্যাল কলার। যারা স্পণ্ডিলাইটিসের ব্যাথায় ভুগছেন তাদের জন্য দিগন্তিকার এই আবিষ্কার ইতিমধ্যেই দেশ জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আগামী ১৭ নভেম্বর গুজরাটে তাকে সম্মান জানাবেন দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। এর আগেও দিগন্তিকা একাধিক আবিষ্কার করে চমকে দিয়েছে দেশবাসীকে। ক্ষুদে বিজ্ঞানী হিসাবে ইতিমধ্যেই সে ছিনিয়ে নিয়ে একাধিক জাতীয় স্তরের পুরষ্কার। পেয়েছে স্বাধীনভাবে গবেষণা করার সুযোগও। সম্প্রতি সে আবিষ্কার করেছে একটি বিশেষ ধরনের চশমা যা আলোকের প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে তৈরি। এই চশমা ব্যবহার করলে ব্যবহারকারী তার সামনের দিক ছাড়াও পিছনের দিক দেখতে পারেন। ফলে বিভিন্ন পেশার মানুষের কাজে আসবে। বিশেষ করে সুন্দরবনে যারা মধু, কাঠ, মাছ, ইত্যাদি সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রায়শই বাঘের মুখে পড়তে হয় তাদের পক্ষে বিশেষ উপযোগী এই চশমা। এমনকি সেনাবাহিনী ও রেলওয়ের যে সমস্ত কর্মীদের রেল ট্রাকের উপর কাজ করতে হয় তাদেরও জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে এই চশমা সহায়ক হবে বলেই দিগন্তিকার দাবি। এই চশমা করতে দিগন্তিকার খরচ হয়েছে মাত্র ৫০ টাকা।

এছাড়াও সে আবিষ্কার করেছে আলোকের প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে ব্যবহার হওয়া হেলমেট। যা ব্যবহার করলে বাইক আরোহীদের বিশেষ সুবিধা হবে। তার আবিষ্কারের তালিকায় রয়েছে একটি বিশেষ ধরনের জুতো। যা ব্যবহার করে সহজেই গাছে ওঠা যাবে। দিগন্তিকার আবিষ্কারের মধ্যে রয়েছে বিশেষ ধরণের একটি যন্ত্রাংশ যা যে কোন হ্যান্ডড্রিল মেশিনের সঙ্গে যুক্ত করে কাজ করলে সমস্ত ধুলো একটি বিশেষ চেম্বারে জমা হবে। ফলে তা বাতাসে মিশবে না। এর ফলে বিবিধ উপসর্গ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। লাগাতার দিগন্তিকার এই আবিষ্কারের পর সম্প্রতি সে আবিষ্কার করেছে এই স্মার্ট কার্ভিক্যাল কলার। সে জানিয়েছে, তার ঠাকুমা লক্ষ্মীপ্রিয়া বসু দীর্ঘদিন ধরেই ঘাড়ের স্পন্ডিলাইটিসে ভুগছেন। কিভাবে তার যন্ত্রণায় উপশম দেওয়া যায় এই ভাবনা থেকেই তার বৈজ্ঞানিক চিন্তার শুরু হয়। অবশেষে আবিষ্কার, যার পোশাকি নাম রাখা হল স্মার্ট কার্ভিক্যাল কলার।

গত ১৫ অক্টোবর ড. আব্দুল কালামের জন্মদিনে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ২০১৮ সালের জাতীয় পুরষ্কার প্রাপকদের নামের তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। গোটা ভারতবর্ষ থেকে ৮০ হাজার নতুন আবিষ্কারের মধ্যে থেকে ৩১টিকে জাতীয় পুরষ্কারের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দিগন্তিকার এই কার্ভিক্যাল কলারে একদিকে যেমন ভিতরে ও বাইরের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে তেমনি তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের যন্ত্রও রয়েছে এই বেল্টে। আগামী ১৭নভেম্বর গুজরাটে অনুষ্ঠানে দিগন্তিকার হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। এই কলার ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্মার্টফোনের চার্জার ব্যবহার করে চার্জ দেওয়া যাবে। সম্পূর্ণ চার্জ করলে ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা ব্যবহার করা যাবে এই যন্ত্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here