মুম্বইয়ে বাঙালি চিত্রশিল্পীর রহস্য মৃত্যুতে শোকের ছায়া কোন্নগরে

0
133

নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্রীরামপুর: মুম্বইতে রহস্যজনকভাবে খুন হয়ে গেলেন এক বাঙালি চিত্রশিল্পী। কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী নামের ওই শিল্পীর বাড়ি এরাজ্যের হুগলি জেলার কোন্নগরে। শিল্পীর মৃত‍্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে শিল্পীর বাড়িতে। এই পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালে কোন্নগর মাস্টারপাড়া থেকে মুম্বাইয়ে পাড়ি দেন কৃষ্ণেন্দু। গোরেগাঁওতে থাকতেন, সেখানেই আর্ট স্কুল চালাতেন। দিন তিনেক আগে এক বন্ধু কৃষ্ণেন্দুর মাকে ফোন করে জানায় তার আর কোনও ফোন নম্বর আছে কিনা, কারন তাকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। শেষে রবিবার সকালে কৃষ্ণেন্দুর ফ্ল্যাট থেকে কিছুটা দূরে তার গলাকাটা মৃতদেহের সন্ধান পায় পুলিশ। খবর পেয়ে কৃষ্ণেন্দুর মাসতুতো ভাই মুম্বই রওনা দিয়েছেন ইতিমধ্যেই।

জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার কৃষ্ণেন্দুর সঙ্গে তার মায়ের শেষবার কথা হয়েছে। শিল্পীর মা ছায়াদেবী সেই সময় মোবাইলে রিচার্জ করে দেওয়ার কথাও বলেন। কোন্নগরে স্কুলে পড়াশোনার পর দমদমে আর্ট কলেজে পড়াশোনা করেন কৃষ্ণেন্দু। পরে পাড়ি দেন মুম্বইয়ে। সেখানে একাই থাকতেন। শেষ চার বছর কাজের চাপে বাড়ি আসেননি কৃষ্ণেন্দু। তবে মায়ের সঙ্গে নিয়মিত ফোনে কথা বলতেন‌। রবিবার পুলিশ মারফত তার পরিবার খবর পায় গোরেগাঁওতে তার ফ্ল্যাট থেকে কিছুটা দূরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে মুম্বই পুলিশ। কি কারনে কৃষ্ণেন্দুর মত একজন ভালো শিল্পীর এই পরিনতি হতে হল বুঝে উঠতে পারছেন না শিল্পীর পরিবার। কৃষ্ণেন্দুর মৃত্যুর খবর শুনে প্রতিবেশিরাও হতবাক। খুন না অন্য কোন কারনে মৃত‍্যু হয়েছে শিল্পীর তা নিয়ে ধন্দে পড়ে গিয়েছেন তার প্রতিবেশী। তারা ঘটনার পূর্ণ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে অনুমান খুন করা হয়েছে শিল্পীকে। তবে এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ একজনকে আটকও করেছে বলা জানা গিয়েছে। মুম্বইতে শিল্পীর বন্ধুদের সঙ্গেও কথা বলছে পুলিশ। কৃষ্ণেন্দুর বন্ধুরা পুলিশকে জানিয়েছে, গত তিন দিন ধরে তারাও কৃষ্ণেন্দুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। তার ফোন সুইচড অফ বলছিল। কোন্নগরের বাড়িতে ফোন করেও কিছু জানা যায়নি। কৃষ্ণেন্দুর পরিবার জানিয়েছে, শিল্পী হিসেবে নামডাক ছিল কৃষ্ণেন্দুর। তার সঙ্গে কারও ঝামেলা বা মনোমালিন্যের কথা তারা জানতেন না। কৃষ্ণেন্দু সে বিষয়ে কখনওই কিছু বলেননি। একই দাবি কোন্নগরে তার প্রতিবেশীদেরও। এলাকায় ভালো ছেলে হিসেবেই পরিচিতি ছিল কৃষ্ণেন্দুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here