নিজস্ব প্রতিবেদক, বীরভূম: সমাজ ও আর্থিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে লড়াই করে আন্তর্জাতিক ক্যারাটে প্রতিযোগিতায় জয়ী হল বীরভূমের সিউড়ির এক স্কুলছাত্রী। লামিশা সিদ্দিকী। বাড়ি শহরের সোনাতোর পাড়া। সে সিউড়ির  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। বাবা ওয়াসিম রাজা সিদ্দিকী একসময় নিরাপত্তারক্ষী সংস্থায় কাজ করলেও বর্তমানে তিনি কর্মহীন। মা পায়েল বেগম গৃহবধূ।

গত ২৭ এবং ২৮ এপ্রিল নেপালে আন্তর্জাতিক কারাটে প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়৷ সেখানে লামিশা ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী বিভাগ বিজয়ী হয়েছে৷ পাশাপাশি, অন্য একটি বিভাগেও সে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। এই প্রতিযোগিতায় নেপাল বাংলাদেশ এবং ইউক্রেনের  প্রতিযোগীদের পরাজিত করে সে শিরোপা অর্জন করে। প্রতিযোগিতাটিতে ভূটানও অংশগ্রহণ করেছিল।

এর আগে সে মধ্যমগ্রামে অনুষ্ঠিত রাজ্য ক্যরাটে চ্যাম্পিয়নশিপেও সেরা হয়েছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে দুর্গাপুরে আয়োজিত একটি ক্যরাটে প্রতিযোগিতায় জুনিয়র গ্রুপে সে প্রথম হয়। উখড়াতে আন্ত জেলা কিওকোশিন ক্যরাটে চ্যাম্পিয়নশিপে বিজয়ী হয়। ক্যারাটেতে স্কুলেই প্রথম হাতেখড়ি হয় লামিশার৷ সেখানে শিখতে শিখতেই প্রশিক্ষক অভিজিৎ লেটের নজরে আসে সে। তখন সে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত৷ তারপর থেকেই সেই প্রশিক্ষকের কাছেই তার বিশেষ প্রশিক্ষণের শুরু। সে প্রতি সপ্তাহে অভিজিৎবাবুর বাড়ি তারাপীঠে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিতে থাকে। যদিও তার এই পথ চলা খুব একটা সুখকর নয়।  একে সংখ্যালঘু, তায় আবার বাবা কর্মহীন। অনেক আত্মীয় এবং প্রতিবেশিরাও তার ক্যারাটে শেখা ঠিকভাবে মেনে নিতে পারেনি। তবে অধ্যাবসায়ের জোরে এক বছরের মধ্যেই লামিসা সকলের নজর কাড়তে শুরু করে। এবারে আর্ন্তজাতিক ক্যরাটে চ্যাম্পিয়নশিপে বিজয়ী হওয়ার জন্য খুশি পরিবারের সদস্য সহ প্রতিবেশীরা।

ওয়াসিম রাজা সিদ্দিকী মেয়ের এই সাফল্যের পুরো কৃতিত্বটাই দিয়েছেন তার প্রশিক্ষককেই। তিনি বলেন, ‘অভিজিতবাবুর জন্যই আমার মেয়ে এই সাফল্য পেয়েছে৷’ তবে মেয়েকে নিয়ে তিনি আর কতটা এগিয়ে যেতে পারবেন, তা নিয়ে বিষম চিন্তায় তিনি৷ কারণ, এই মুহুর্তে তিনি কর্মহীন৷ তার আশা, যদি সরকার বা কোনও বেসরকারি সংস্থা যদি তার মেয়েকে অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করে, তবে সে আরও সাফল্য পাবে। অভিজিৎবাবু বলেন, ‘আমি জেলা জুড়ে মোট কুড়িটি স্কুলে মেয়েদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করি৷ স্কুলগুলিতে পঞ্চম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সর্বশিক্ষা মিশনের সহায়তায় এবং নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত কন্যাশ্রী প্রকল্পে প্রশিক্ষণ দিতাম। আশা করছি 2019 সালের বিশ্বকাপ ক্যারাটে প্রতিযোগিতায় লামিসা অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং সে ভাল ফল করবে। তবে এজন্য সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন৷ সাহায্য করলে সে অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারবে৷’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here