মহানগর ওয়েবডেস্ক: এ যেন মৃত্যুমিছিল চলছে। একের পর এক নক্ষত্রপতন দেখছি আমরা। এবার ভারতীয় ফুটবলে হয়ে গেল অপূরণীয় ক্ষতি। ৮২ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন কিংবদন্তি চুনী গোস্বামী। বৃহস্পতিবার বিকাল পাঁচটায় দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার। ১৯৬২ সালের এশিয়ান গেমসের সোনা জয়ী ভারত অধিনায়ক চললেন অভিন্ন হৃদয়ের বন্ধু পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন চুনী। শেষ কয়েক মাস ধরেই তাঁর সুগার, প্রস্টেটের সঙ্গে স্নায়ুর সমস্যাও হচ্ছিল।

স্ট্রাইকার হিসেবে দেশের জার্সিতে ৫০টি আন্তর্জাতিক ফুটব্যাল ম্যাচ খেলা চুনী আবার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিও খেলেছেন। ঘরোয়া লিগে মোহনবাগানের হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন তিনি। এশিয়াড জেতানো চুনীকে ১৯৬৩ সালে ভারত সরকার অর্জুন পুরস্কারে সম্মানিত করে। ১৯৮৩তে তাঁর মুকুট যুক্ত হয় পদ্মশ্রী। ২০০৫ সালে প্রাণের ক্লাব মোহনবাগান থেকে মোহনবাগান রত্নে সম্মানিত হন চুনী গোস্বামী। তাঁর মৃত্যুতে ফুটবলমহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

চুনী গোস্বামীর আসল নাম সুবিমল গোস্বামী। পূর্ববঙ্গের মানুষ ছিলেন তিনি। অধুনা বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে ১৯৩৮ সালে জনগ্রহণ করেন তিনি। জীবনে মোহনবাগান ছাড়া অন্য কোনও ক্লাবে খেলেননি চুনী। ১৯৪৬ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত মোহনবাগানের জুনিয়র দলে খেলতেন। তখন বলাইদাস চট্টোপাধ্যায় ও বাঘা সোমকে কোচ হিসেবে পান তিনি। আট বছর বয়সে বলাইবাবুই তাঁকে স্পট করেছিলেন। এরপর ১৯৫৪ থেকে ১৯৬৮ অবধি মোহনবাগানের সিনিয়র টিমে খেলেন তিনি। ১৯৬০-৬৪, টানা পাঁচ মরসুম বাগানের অধিনায়কত্ব করেন। ক্লাবকে তিনবার ডুরান্ড কাপ ও চারবার কলকাতা লিগ জেতান তিনি।

চুনীর ফুটবল জীবনের সবথকে বড় কৃতিত্ব অবশ্যই ভারতের অধিনায়ক হিসাবে ১৯৬২ তে জাকার্তায় এশিয়ান গেমসের সোনা জয়। ফাইনালে ভারত দক্ষিণ কোরিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল। গোল দুটি করেছিলেন পি কে ব্যানার্জী এবং জার্নেল সিং। এছাড়া চুনী অধিনায়ক হিসাবে তেল আভিভে এশিয়া কাপে ভারতকে রুপো জেতান। সবচেয়ে বড় ব্যাপার চুনীর ভারত অলিম্পিক খেলছিল, অংশ নিয়েছিল মারডেকা কাপেও।

ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পরেই তিনি ক্রিকেট খেলায় মনোনিবেশ করে ছিলেন। এবং রঞ্জি ট্রফিতে তিনি বাংলার অধিনায়কত্বও করেন। তিনি দুবার রঞ্জি ট্রফির ফাইনালও খেলেছিলেন। চুনী ডানহাতি ব্যাটসম্যান ও মিডিয়াম পেসার ছিলেন। ১৯৭২-৭৩ মরসুমে বাংলার হয় ৪৬টি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট ম্যাচ খেলেন। একটি সেঞ্চুরিও হাঁকান তিনি। ব্যাট হাতে ১৫৯২ রান করার পাশাপাশি, বল করে পান ৪৭টি উইকেট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here