উত্তর পরগনার পাঁচপোতা সংলগ্ন ৪ ‘বাঁওড়’ ঘিরে পর্যটন সম্ভাবনা, দশটি প্রস্তাব

0
260
beri baor

জ্যোতিপ্রকাশ ঘোষ: পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার শিয়ালদহ-বনগাঁ লাইনের গোবরডাঙা স্টেশন থেকে মাত্র ১১ কিমি দূরে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সবুজেঘেরা সুন্দর একটি গ্রাম বেড়ি পাঁচপোতা। গ্রামটির বুকের উপর দিয়ে তিরতির করে বয়ে চলেছে ছোট্ট একটি অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ, স্থানীয় ভাষায় যাকে বাঁওড় বলা হয়। অনেকদিন আগে এটি ইছামতি নদীর অংশ ছিল। তারপর ইছামতি নদী আস্তে আস্তে দিক পরিবর্তন করে একটু দূরে চলে যাওয়ায় এটি মূল নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদে পরিণত হয়েছে। এই হ্রদটিই রাজ্যের সবচেয়ে বড় অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ। এছাড়াও বেড়ি পাচঁপোতা সংলগ্ন কাছাকাছি আরও অনেকগুলি হ্রদ (শশাডাঙা বাঁওড়, ডুমোর বাঁওড় প্রভৃতি) আছে, যাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাদের রাজ্য তো বটেই, গোটা দেশে বিরল।

beri baorআমরা চাই, ইউরোপিয়ান দেশগুলির ধাঁচে বেড়ি পাঁচপোতা সংলগ্ন চারটি পঞ্চায়েত নিয়ে গড়ে উঠুক ইকোট্যুরিজম। শুধুমাত্র দেশের নয়, বিদেশি পর্যটকদেরও অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠুক ‘বেড়ি পাঁচপোতা’। আমরা চাই, চারটি পঞ্চায়েতের কয়েক হাজার পরিবারের কর্মসংস্থানের কথা ভেবে ট্যুরিজম মন্ত্রক থেকে এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকেও এগিয়ে আসার আবেদন রাখছি। এজন্য নিম্নলিখিত বেশ কয়েকটি প্রস্তাব এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জানানো হল। প্রথমত, বেড়ি পাঁচপোতা সংলগ্ন সুটিয়া, রামনগর, ঝাউডাঙা ও সগুনা– এই চারটি পঞ্চায়েত নিয়ে গড়ে উঠুক ‘বেড়ি পাঁচপোতা পর্যটন কেন্দ্র’ উন্নয়ন পর্যদ। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এই পর্যদের মাধ্যমেই অতিদ্রুত পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা হোক।

beri baorদ্বিতীয়ত, কংক্রিট নির্মাণের বদলে জোর দেওয়া হোক ছোট ছোট কটেজ ও হোম-স্টের ওপর। বিশেষজ্ঞদের দ্বারা ডিজাইন করা হোক এই সমস্ত কটেজ ও হোম-স্টেগুলির। অন্যান্য জায়গার থেকে একটু আলাদা অভিনবত্ব থাকুক বেড়ি পাঁচপোতা পর্যটন কেন্দ্রের কটেজ ও হোম-স্টেগুলিতে। তৃতীয়ত, বেড়ি পাঁচপোতার পুরো তথ্য ট্যুরিজম ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটে থাকার পাশাপাশি তৈরি হোক বেড়ি পাঁচপোতার নিজস্ব ওয়েবসাইট, নিজস্ব লোগো এবং থাকুক নিজস্ব ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর (বিপণন দূত)। যার মাধ্যমে আমরা সারাবিশ্বের ভ্রমণপিপাষু মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারব। এছাড়াও পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় মানুষদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হোক। ভিনরাজ্যের ও বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে কথোপকথনের জন্য স্পোকেন হিন্দি ও স্পোকেন ইংলিশ শেখানোর ব্যবস্থা হোক। চতুর্থত, বেড়ি পাঁচপোতা সংলগ্ন ৮ থেকে ১০ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে চারটি বড় বড় হ্রদ আছে। পর্যটকদের মনোরঞ্জনের জন্য এই হ্রদগুলিতে থাকুক বোটিংয়ের সুব্যবস্থা। যন্ত্রচালিত বোটের পরিবর্তে থাকুক ইউরোপের দেশগুলির মতো রংবেরঙের পানসি নৌকার ব্যবস্থা। এছাড়াও পর্যটকদের জন্য থাকুক হাউস বোটিং ও ফিশিংয়ের ব্যবস্থা।

beri baorপঞ্চমত, এই পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মাটির ভাঁড় ও কাগজের ঠোঙা তৈরির জন্য উৎসাহ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও শালপাতা, কলাপাতা ইত্যাদি প্রাকৃতিক জিনিসের ওপর জোর দিতে হবে। ষষ্ঠত, সৌন্দর্যায়নের জন্য হ্রদের দু’ধার দিয়ে লাগানো হোক তাল, নারিকেল, সুপারি সহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির ফল ও ফুলের গাছ। এতে পাখিদের আনাগোনা তো বাড়বেই, সেই সঙ্গে পর্যটকদেরও ভাল লাগবে। সপ্তমত, চারটি হ্রদ ছাড়াও কাছেই আছে ইছামতি ও যমুনা নদী। এছাড়াও বেশ কিছু ছোট ছোট খাল ও জলাশয় আছে। যেগুলি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সরকারি উদ্যোগে দেশি মাছ ছাড়ার ব্যবস্থা করা হোক। স্থানীয় মানুষের জীবিকার পাশাপাশি পর্যটকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন দেশি মাছের সুস্বাদু পদ।

অষ্টমত, এছাড়াও এই এলাকার মানুষদের বিকল্প জীবিকার জন্য সরকারি উদ্যোগে হাঁস-রাজহাঁস-মুরগি প্রভৃতি প্রাকৃতিক ভাবে পালনের জন্য উৎসাহ দিতে হবে। এর ফলে একদিকে যেমন ডিম ও মাংস উৎপাদন বাড়বে, তেমনই পর্যটকদের কাছেও ফ্রেশ ও টাটকা খাবার পৌঁছে দেওয়া যাবে। নবমত, পর্যটকদের যাওয়া-আসার সুবিধার জন্য কলকাতার ধর্মতলা থেকে বেড়ি পাঁচপোতা পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি বাস পরিষেবা চালু করতে হবে। বেড়ি পাঁচপোতার নিকটবর্তী স্টেশন গোবরডাঙা থেকে বেড়ি পাঁচপোতা পর্যন্ত পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য বৈদ্যুতিক এসি বাস পরিষেবা চালু করা প্রয়োজন। দশম ও শেষ প্রস্তাব, পর্যটকরা যাতে এই পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে দূষণমুক্ত যানবাহনে চলাফেরা করতে পারেন তার জন্য টোটো, সাইকেল-ভ্যান, সাইকেল ইত্যাদি যানবাহনের ওপর জোর দিতে হবে।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here