ডেস্ক: মঙ্গলবার ভারতীয় সময় রাত সাড়ে এগারোটায় চলতি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স-বেলজিয়াম৷ এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ নিয়ে টগবগ করে ফুটছে ফুটবল দুনিয়া৷ কে পাবে ফাইনালের টিকিট? কে হবে আজকে ম্যাচের নায়ক? তা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা৷ এগারো বনাম এগারোর লড়াইয়ে কে এগিয়ে, কে একটু পিছিয়ে, তা নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ৷ এখনও পর্যন্ত রাশিয়া বিশ্বকাপে দুই দেশের ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের তুল্যমূল্য বিচার করে দেখে নেওয়া যাক, কার দিকে পাল্লা ভারি৷ কার সঙ্গে কার লড়াই!

হুগো লরিস VS থিবো কোর্তোয়া (গোলকিপার)

দুই দেশের দুই গোলকিপার কিন্তু এদিন একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালাবে৷ কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের মার্টিন কাসেরেসের হেডে ফ্রান্সের গোলকিপার লরিসের দুরন্ত সেভ কিংবা ব্রাজিলের বিপক্ষে একেবারে শেষ মুহূর্তে বেলজিয়াম দুর্গের শেষ প্রহরী কোর্তোয়া যেভাবে আটকে দিয়েছেন নেইমারের শট, তা কিন্তু এককথায় অবিশ্বাস্য। তবে লরিসের চেয়ে ইঞ্চি ছয়েক লম্বা কোর্তোয়া একটু হলেও এগিয়ে রয়েছেন প্রায় সব পরিসংখ্যানেই। ৪ ম্যাচে লরিস দলকে বাঁচিয়েছেন ৮ বার, এক ম্যাচ বেশি খেলে কোর্তোয়া ১৮টির মধ্যে শুধু ব্রাজিলের বিপক্ষেই ৯টি শট বাঁতিয়ে দলকে রক্ষা করেছেন! গোল সেভে লরিসের ৬৬.৭ শতাংশ-এর চেয়ে এগিয়ে কোর্তোয়ার ৭৮.৩ শতাংশ।

স্যামুয়েল উমতিতি VS ভিনসেন্ট কম্পানি (ডিফেন্ডার)

বেলজিয়াম ডিফেন্ডার কম্পানি এগিয়ে অভিজ্ঞতায়৷ তবে ফ্রান্সের রক্ষণে দৌড়ঝাঁপ করছেন উমতিতি । ৩২ বছরের কম্পানির চেয়ে ৯ বছরের ছোট ফরাসি ডিফেন্ডার ম্যাচ প্রতি গড়ে দৌড়েছেন ২ কিলোমিটার বেশি (৯ কিলোমিটার)! বল ছিনিয়ে নেওয়ায়ও কম্পানির (১২ বার) চেয়ে এগিয়ে ফ্রেঞ্চ ডিফেন্ডার (২১)। তবে দল কর্নার পেলে প্রতিপক্ষ বক্সে কম্পানিই বেশি ভয়ঙ্কর, সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে ব্রাজিল৷

এনগোলো কান্তে VS মারুয়ানে ফেলাইনি (মিডফিল্ডার)

ফ্রেঞ্চ মাঝমাঠের অন্যতম স্তম্ভ কান্তে যেন পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে দৌড়চ্ছেন। পাঁচ ম্যাচে কান্তে দৌড়েছেন ৫১ কিলোমিটারের বেশি! প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়েছেন ৫২ বার। ৯০ শতাংশ সময় তাঁর ঠিকানা লেখা পাস পেয়েছে সতীর্থরা। সেই তুলনায় মাত্র দুটি ম্যাচে প্রথম একাদশে নামা বেলজিয়ামের ফেলাইনি স্বাভাবিকভাবেই সব পরিসংখ্যানে পিছিয়ে। তবে ৬ ফুট ৬ ইঞ্চির এই মিডফিল্ডার হেডে অনেক শক্তিশালী৷ জাপানের বিরুদ্ধে সেই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে একটি গোলও আছে ফেলাইনির।

পল পগবা VS কেভিন ডি ব্রুইনা (মিডফিল্ডার)

এখনও পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলেছেন, প্রথম তিনটিতে ডি ব্রুইনা ছিলেন বেলজিয়ামের মিডফিল্ডে, প্রতিপক্ষ পোস্ট থেকে অনেক দূরে। কিন্তু ব্রাজিলের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ওপরে খেলার সুযোগ পেয়েই গোল আসে বেলজিয়ান মিডফিল্ডারের পা থেকে। পগবাকে এবার ক্লাব ফুটবলের ছন্দেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ৯৩ শতাংশ সফল পাস (ডি ব্রুইনার ৮১)। ট্যাকল, প্রতিপক্ষের পা থেকে বল ছিনিয়ে নেওয়া, সবই দিক থেকেই এদিয়ে ডি ব্রুইনা।

কিলিয়ান এমবাপ্পে VS এডেন হ্যাজার্ড (উইঙ্গার)

এই ম্যাচে দুই দলের যে দুই ফুটবলারের উপর সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে, তাঁরা হলেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং বেলজিয়ামের এডেন হ্যাজার্ড৷ বেলজিয়ামের‘নম্বার টেন’ আক্রমণটা পরিচালনা করবেন, আর ফ্রান্সের ‘নাম্বার টেন’ তুলবেন গতির ঝড়। বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত এমবাপ্পের ৩ গোল তাঁর স্কোরিং এবিলিটির কথা জানান দিচ্ছে৷ অন্যদিকে, হ্যাজার্ডের দুই গোল করা আর আরও দুটি করানো তাঁকে বেলজিয়ান ‘প্লে–মেকার’ তকমা দিচ্ছে। তবে মজার ব্যাপার, গোল কম হলেও প্রতিপক্ষের পোস্ট লক্ষ্য করে হ্যাজার্ড শট নিয়েছেন এমবাপ্পের (৬টি) চেয়ে ৭টি বেশি!

আঁতোয়ান গ্রিজম্যান VS রোমেলু লুকাকু (স্ট্রাইকার)

যে ফর্মেশনে বেলজিয়াম খেলছে, তাতে লুকাকু দলের মূল স্ট্রাইকার৷ আর ফ্রান্সের হয়ে গ্রিজম্যান খেলছেন খেলেন মূল স্ট্রাইকারের একটু পেছনে উইথড্রল ফরোয়ার্ডের ভূমিকায়। লুকাকুর গোল যেখানে ৪টি, সেখানে গ্রিজম্যানের ঝুলিতে ৩টি (দুটিই অবশ্য পেনাল্টি থেকে)। তবে আক্রমণে ড্রাইভার গ্রিজম্যানই কিছুটা এগিয়ে। তাঁর সফল পাস যেখানে ১২৭টি, লুকাকুর সেখানে মাত্র ৪৮টি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here