Bhaichung Bhutia remembering Eastbengal vs Mohunbagan derby under PK Banerjee
জীবনের সেরা ম্যাচটাই খেলেছি পিকেদা'র কোচিংয়: বাইচুং ভুটিয়া

শুভপম সাহা: ক্যালেন্ডার বলছে তারিখটা ছিল ১৩ জুলাই, সাল ১৯৯৭৷ সেদিন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লাল-হলুদ মশাল জ্বেলেছিলেন বাইচুং ভুটিয়া৷ ফেডারেশন কাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পাহাড়ি বিছের হ্যাটট্রিকে ইস্টবেঙ্গল ৪-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল মোহনবাগানকে৷ সেদিন সল্টলেক স্টেডিয়ামে ইস্টবেঙ্গলের এই ঐতিহাসিক জয়ের সাক্ষী ছিল রেকর্ড সংখ্যক মানুষ৷ ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৭৮১ জন সেদিন মাঠে এসেছিলেন৷

এই ম্যাচের কথা আজও ভুলতে পারেননি ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক বাইচুং৷ মহানগর২৪x৭-এর থেকে প্রাক্তন গুরু পিকে ব্যানার্জির প্রয়াণের খবরটা পেয়ে খানিকক্ষণ নীরব ছিলেন তিনি৷ ফোনের ওপার থেকে সিকিমিজ স্নাইপার বলছেন, “ভীষণ দুঃখের খবর শোনালেন আপনি৷ ভারতীয় ফুটবলে আজ অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল৷ দুর্দান্ত ফুটবলারের পাশাপাশি অত্যন্ত সফল কোচ ছিলেন পিকে ব্যানার্জি৷ সবার ওপরে একজন অসাধারণ মানুষ ছিলেন তিনি৷”

বাইচুংয়ের থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল বিশেষ কোনও স্মৃতির কথা আজ তাঁর মনে পড়ছে কিনা? ৪৩ বছরের ফুটবলার বলছেন, “একটা না, পিকেদা’র সঙ্গে আমার প্রচুর ভাল স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে৷ যদিও কোনও একটা বিশেষ স্মৃতির কথা বলতে হয়, তাহলে বলব, জীবনের সবচেয়ে বড় ম্যাচ আর সেরা ম্যাচটা পিকেদা’র কোচিংয়ে খেলেছিলাম৷ আমার কাছে উনি শুধু কোচ ছিলেন না, ছিলেন বাবার মতো৷ সবসময় কী হাসিখুশি থাকতেন৷ যখনই ওনার সঙ্গে দেখা হতো গল্পের ঝুলি খুলে বসতেন৷ সকলকে ভালরাখার মন্ত্রটা জানতেন পিকেদা৷”

৯৭ সালের ফেড কাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালটা শুধুই ইস্ট-মোহন মহারণ ছিল না৷ ভারতীয় ফুটবলের দুই দুঁদে কোচ পিকে ব্যানার্জী ও অমল দত্তের লড়াই ছিল৷ ম্যাচের আগে চলেছিল মাইন্ড গেম৷ বাগান কোচ অমল দত্ত “চুং চুং” বলেছিলেন বাইচুংকে৷ অন্যদিকে সবুজ-মেরুনের কেনিয়ান ডিফেন্ডার স্যামি ওমেলো হুঙ্কার ছেড়ে বলেছিলেন, “বাইচুংকে আমি অমলেটের মতো খেয়ে নেব৷”

অমলবাবুর অপ্রতিরোধ্য ডায়মন্ড সিস্টেম তখন ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে৷ বড় ম্যাচের দিন অমলের ৩-২-৩-২ (কারোর মতে ৩-৪-৩) এর বিরুদ্ধে পিকে-র ছক ছিল ৪-৪-২৷ ম্যাচের ২৫ মিনিটেই নাজিম-উল-হকের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল৷ তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি পিকে’র টিমকে৷বিরতিতে ১-০ এগিয়ে মাঠ ছাড়া লাল-হলুদ দ্বিতীয়ার্ধে বাগানের জালে তিনটে গোল ঢুকিয়েছিল৷ সৌজন্যে বাইচুং৷ ইস্ট-মোহন ডার্বির ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসাবে হ্যাটট্রিক (৪৬’, ৮৫’ ও ৮৮’) করেন তিনি৷ বাগানের হয়ে একমাত্র গোল ছিল চিমা ওকোরির (৬৬’)৷ আজও ইস্টবেঙ্গলের ফ্যানেদের মনে শুধু এই ম্যাচটার জন্যই স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন পিকে৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here