kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, মেদিনীপুর: প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘোষনা হওয়ার পরে প্রথমে ২৫ মার্চ ঘাটালে কর্মী বৈঠক করেন বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ। এরপরে ২৬ মার্চ ঘাটাল শহরে জনসভা করেন তিনি। এরপর ফের কর্মী সভা। মাঝে ছিল বড় জনসভা। কিন্তু তার পরেই নিজের প্রচারের কায়দা বদলে ফেললেন ভারতী। নেত্রীর ধাঁচে নয়, একেবারে গৃহস্থের হেঁশেলে প্রবেশ করার কর্মসুচী নিলেন তিনি। এখন রোজ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন অঞ্চল হেঁটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে। এলাকার সকলের সামনে হাতজোড় করে ভোট চাইলেও আসর জমাচ্ছেন কিন্তু মহিলাদের সঙ্গেই। খোঁজ নিচ্ছেন, কি পেয়েছেন, আর পাননি, তা নিয়ে। অনেকেরই ধারনা ছিল ভারতী ঘোষ ভিভিআইপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদিনই তারকা দেব-কে টেক্কা দিতে প্রচারে বিশাল বিশাল চমক দেবেন। কিন্তু আদপেও তা হয়নি। প্রশাসনিক স্তর থেকে উঠে আসা ভারতী ঘোষ জাঁকজমকের তুলনায় সুকৌশলে ঢুকছেন গৃহস্থের বাড়ির হেঁশেলে। যেখানে দেব কয়েকটা সভা করেই কর্মীদের ওপরে ছেড়ে দিয়েছেন সেখানে ভারতী চষে বেড়াচ্ছেন গ্রামের পর গ্রাম।

ভারতী শুরুটা করেছিলেন দাসপুর থেকেই, যেখানে ভারতী ঘোষের বিরুদ্ধে সোনা প্রতারনার মামলা উঠেছে। শনিবার নির্জলা উপবাস করেও সদর্পে সেই এলাকা হেঁটে চষে বেড়িয়েছেন দিনভর। সোমবার মানস ভুঁইয়ার এলাকা সবং-এ হেঁটে প্রচার করেন সারাদিন। সকাল ১১টায় সবং এর রুইনান থেকে সেই প্রচার করেন তিনি। সন্ধা পর্যন্ত প্রায় কুড়ি কিমি এলাকা প্রচার করেছেন, কখনও রোড শো, কখনও পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে লোকজনের সঙ্গে কথা বলে। বেশির ভাগ জায়গাই ভারতীর প্রচার দেখতে কৌতুহলী মানুষের ভীড় জমে গিয়েছে। একসময়ের দুঁদে পুলিশ সুপার এখন প্রার্থী হিসেবে প্রচারে বেরিয়েছেন , তাকে দেখা ও তার সঙ্গে সেলফি তুলতে তাই ভিড়ও জমে যাচ্ছে। বেশিরভাগ স্থানেই মহিলাদের ভীড় জমছে বেশি। আর সেখানেই আসর জমিয়ে নিচ্ছেন কৌশলী ভরতী ঘোষ। সবং এর বলপাই, যেখানে মানস ভুঁইয়া ও অমুল্য মাইতিদের শক্ত ঘাঁটি, সেখানও মহিলাদের সঙ্গে কথা বলে ভারতী জেনে নেন এলাকার মানুষ কি কি পেয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পের কি পেয়েছেন? বেশিরভাগ স্থানেই উঠে এসেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বঞ্চনার অভিযোগ।

 

মহিলা প্রার্থীকে হাতের কাছে পেয়ে গ্রামের মহিলারা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শাসকদলের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে। তাদের সামনে ভারতী ঘোষের আর্জি, ‘অনেক দিন ধরে একটা দলকে সমর্থন দিয়েছেন। কেচ্ছা রুখে কিছু পরিষেবা পেতে বিজেপিকে একবার সুযোগ দিন। ভারতী ঘোষ তাদের সমানে প্রশাসনিক কর্তা হিসেবে নিজের করে আসা উন্নয়নের ফিরিস্তিও দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী আমাকে কিছুই দেননি, আমিই মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়েছি। জঙ্গলমহলে নিরাপত্তা এনেছি। শত শত মাইন উদ্ধার করে, হাজার হাজার মাওবাদীকে আত্মসমর্পন করিয়ে জঙ্গলমহলে শান্তি এনেছি। মুখ্যমন্ত্রী যা দিয়েছেন তা হল বঞ্চনা ও কষ্ট। বিজেপিতে যোগ দিতে বাধা হিসেবে তার স্বভাব অনুসারে নানা অপপ্রচার করেছেন। তবে আমি আজ মানুষের কাছে এসে দেখে নিয়েছি মানুষ কি চান।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here