kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, মেদিনীপুর:  সিআইডির দেওয়া নোটিশ উপেক্ষা করে মনোনয়ন জমা করলেন ঘাটাল লোকসভার বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ৷ সিআইডি ১৮ এপ্রিল জিজ্ঞাসাবাদের নোটিস করলেও ভারতী জানিয়ে দেন, ওই দিন আমার মনোনয়ন রয়েছে, তাই ওইদিন আমি পারবো না৷ বৃহস্পতিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা শাসকের দফতরে মনোনয়ন জমা করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের প্রতিও৷ বলেন, ‘মানুষের করা অভিযোগ এলাকায় গিয়ে ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিক পুলিশ পর্যবেক্ষক ও কমিশন৷ নাহলে ভোটের দিনে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিলেই মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা যায় না৷’

বৃহস্পতিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থেকে বিশাল সুসজ্জিত শোভাযাত্রা করে মেদিনীপুর শহরে প্রবেশ করেন ভারতী ঘোষ৷ এরপর কেরানীতলা থেকে পায়ে হেঁটে কয়েক হাজার সমর্থক নিয়ে আধ কিমি পদযাত্রা করে জেলা শাসকের দফতরে মনোনয়ন জমা করেনি ভারতী দেবী৷ এরপরেই সংবাদ মাধ্যমের সামনে তিনি বলেন ”সিআইডি আমাকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে ১৮ তারিখ সাড়ে দশটায় আপনার কাছে আমরা যাচ্ছি। আপনার সঙ্গে আমরা কেস সংক্রান্ত ব্যাপারে আলোচনা করব এবং আপনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। এটা চৌদ্দ মাসের পুরনো কেস, সিআইডি চৌদ্দ মাস কোন নোটিশ আমাকে দেয়নি। হঠাৎ সিআইডির মনে হলো ভারতী ঘোষ যেদিন মনোনয়ন জমা দেবে সেদিনই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। আমি চিঠি দিয়ে জানালাম আমি ঐদিন পারবো না, আমার মনোনয়ন রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, ”আমি সবসময়ই সহযোগিতা করতে রাজি। কিন্তু দেড় বছর ধরে মামলাগুলো নড়াচড়া হয়নি, হঠাৎ প্রচার বন্ধ করার জন্য নড়াচড়া শুরু করা হলো। যাতে বিজেপির প্রার্থী প্রচার ও মনোনয়ন জমা দিতে না পারে। দেশের মানুষকে বোকা নয় সবাই বুঝতে পারছে। এগুলো পুরো মিথ্যা মামলা। আমি শুধু বিজেপির হয়ে লড়ছি না, সাধারণ মানুষ যারা প্রচন্ডভাবে অত্যাচারিত হয়ে এসেছে, দম বন্ধ করা অবস্থায় রয়েছে, ভোট দিতে পারছে না ভোট লুট হয়ে যাচ্ছে-আমি তাদের প্রতীক।”

না থেমে ভারতী বলেন, যে সমস্ত মহিলারা চলতে-ফিরতে নিরাপদ নয়, ধর্ষিত হচ্ছেন, উল্টো দিকে দাসপুরে ধর্ষণ কেসে এক অভিযুক্ত যাকে নিরাপত্তা দিয়ে রেখে দিয়েছেন এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, আমি এসবের প্রতিবাদের প্রতীক। যে সমস্ত পুলিশকর্মীরা দিনরাত্রি কাজ করে চলেছেন, তাদের কাজের সময় নির্ধারিত নেই, তাদের জন্য কোন কর্মসূচি নেই, যে সমস্ত সিভিক ভলেন্টিয়াররা কাজ করছে পুলিশে চাকরি দেওয়া হয়নি, পাশ করে মেরিট লিস্টে থাকা সত্ত্বেও যারা অনশনে বসে থাকছে, আমি এরকম অত্যাচারিতদের প্রতীক। আমার ওপরেও অনেক অত্যাচার করা হয়েছে, আমার স্বামীকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করে আমার বাড়ি ঘর গুলো তালা বন্ধ করে রেখেছে।”

এদিন সংবাদ মাধ্যমের তরফে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি যাকে এক সময় মা বলেছিলেন, তখন তার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ ছিল না, এখন এত অভিযোগ কেন? ভারতী ঘোষ বলেন,  সঞ্চালকের কাজই হল যা লেখা থাকে তা পড়ে। আমি শুধু সঞ্চালনা করেছি। এটা আমার কোনও ব্যক্তিগত বিবৃতি ছিল না।  মনোনয়ন জমা দিয়ে যাওয়ার পথে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ভারতী। তিনি বলেন, ”এত কিছু করার পরেও ভোট শান্তিপূর্ণ হচ্ছে না, তার মানে পুরো পদ্ধতিগত কাজটা একবার খতিয়ে দেখার দরকার রয়েছে। পুলিশ পর্যবেক্ষকদের বলবো যেখান থেকে প্রার্থী বা অন্য কেউ অভিযোগ করছে আপনারা একবার হলেও ওই এলাকায় আসুন, মানুষের সঙ্গে কথা বলে দেখুন। কোথাও না এসে শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠালেই হবে না। কেশপুরে পিংলা পাঁশকুড়ায় আক্রান্ত হয়েছি অভিযোগ জানিয়েছে কিন্তু কোনো তদন্ত কেন হল না? আমি নিজে প্রার্থী হয়েও অভিযোগ করা সত্ত্বেও কেন তদন্ত হলো না আজ পর্যন্ত? কোথায় নির্বাচন কমিশন জানিনা। পুলিশ পর্যবেক্ষকদের মাঠে নেমে দেখা উচিত। তবে মানুষ তাদের দেখে সাহস করে বেরিয়ে আসবে। ওসি এবং আইসিরা তৃণমূলের সঙ্গে যোগসাজস করে প্রত্যক্ষভাবে বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করছে। এগুলো তদন্ত করছেন না কেন? নির্বাচন কমিশনকে এখান থেকে অনুরোধ করছি তারা এসে ঘটনাগুলো তদন্ত করে দেখুন।তা না হলে ভোটের দিন দুটো কেন্দ্রীয় বাহিনী দিলে মানুষের বিশ্বাস তৈরি করা যায় না।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here