ডেস্ক: ভীমা কোরেগাঁও মামলায় বড় ধাক্কা খেলেন ধৃত সমাজকর্মীরা। শেষ শুনানির দিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, পুণে পুলিশ যদি উপযুক্ত প্রমাণ না দিতে পারে তাহলে মামলার তদন্তভার সিটের হাতে তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু এদিন সিট গঠনের আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে এই কাণ্ডের তদন্ত পুণে পুলিশই করবে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের এই মুহূর্তে মুক্তি দিতেও রাজি হয়নি শীর্ষ আদালত।

আদালতে এদিনের রায়ের ফলে বিচারাধীন অবস্থায় গৃহবন্দি থাকতে হবে সকল সমাজকর্মীদের। এদিন আদালতের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বা তাদের আইনজীবীর কোনও অধিকার নেই তদন্তকারী সংস্থা চূড়ান্ত করার। একই সঙ্গে শীর্ষ আরও একটি বিষয় সাফ করে দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতিরা জানান, মাওবাদী যোগের প্রমাণ মেলার কারণেই গ্রেফতার করা হয়েছে ভারভারা রাও সহ ৪ সমাজকর্মীকে।

উল্লেখ্য, এই মামলার শুনানি চলাকালীন গত মাসেই সুপ্রিম কোর্ট জানায় পুণে পুলিশ যদি উপযুক্ত প্রমাণ না দিতে পারে তাহলে মামলার তদন্তভার সিটের হাতে তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু এদিনের রায়ে সেই তদন্ত যে সিটের হাতে যাচ্ছে না তাও আরেকবার সাফ হয়ে গেল।

প্রসঙ্গত, গত ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের ভীমা কোরেগাঁওয়ে এক দলিত সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হিংসা ছড়ায়। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে ওই দিনের ঘটনায় মাওবাদী তাত্ত্বিকরা জনসাধারণের উদ্দেশ্যে উস্কানি মূলক ভাষণ দিয়েছিলেন। এরপর ২৮ অগাস্ট দেশের বিভিন্ন শহরে শহরে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে ভারাভারা রাও, ভার্নন গঞ্জালভেস, সুধা ভরদ্বাজ, অরুণ ফেররা এবং গৌতম নওলখাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ যে তথ্য পায় তাতে তাঁদের চোখ কপালে ওঠে। তাদের একজনের কাছ থেকে একটি চিঠি উদ্ধার করে পুলিশ। যে চিঠিতে লেখা ছিল, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ছকেই খুন করা হবে মোদীকেও। আর তার জন্য আড়াই কোটি টাকা ব্যায়ে। এম ফোর রাইফেল ও প্রচুর পরিমাণ গোলাগুলি কেনা হবে বলেও জানা যায় ওই চিঠি থেকে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here