kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ভূতুড়ে, নাকি অদ্ভুত? কী বলা যায় এই ধরনের ঘটনাকে? ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের গাফিলতির জেরে মধ্যপ্রদেশের ভিন্ড জেলার আলমপুর গ্রামে এমন এক ঘটনা ঘটেছে যা শুনলে হাসি পেতে বাধ্য। এই গ্রামের স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার শাখায় ভুলবশত একই নম্বরে দুই ব্যক্তির নামে অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলেছিল ব্যাঙ্ক। ব্যাস, ওখানেই গণ্ডগোলের সূচনা। দুই ব্যক্তিকেই একই নম্বরের পাসবুকও দেওয়া হয়। তারপর যেটা শুরু হয় সেটা কোনও বলিউড সিনেমার স্ক্রিপ্টের চেয়ে কিছু কম নয়।

এরপর শুরু হয় কনফিউশনের মহা পর্ব। একজন গ্রাহক রোজগার করে টাকা জমা দিতে থাকেন নিজের অ্যাকাউন্টে। আরেকজন সেটা সরকারি দান ভেবে তুলতে থাকেন। ছয় মাস ধরে এই অধ্যায় চলতে থাকে। ছয় মাসে প্রায় ৮৯ হাজার টাকা তুলে নেন।

আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা হুকুম সিং গত বছর নম্ভেম্বর মাসেই প্রথম স্টেট ব্যাঙ্কে নিজের অ্যাকাউন্ট খোলেন। ১২ নভেম্বর পাসবুক হাতে পান। এরপর কর্মসূত্রে হরিয়ানা গিয়ে সেখানেই বসবাস শুরু করেন। টাকা রোজগার করে নিয়মিত নিজের অ্যাকাউন্টেই জমা করতেন তিনি। চলতি বছর ১৬ অক্টোবর গ্রামে ফিরে ব্যাঙ্কে যান নিজের রক্ত জল করা টাকা তুলতে। গিয়ে তাঁর চোখ কপালে ওঠে। দেখেন, অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৯ হাজার টাকা উধাও হয়ে গিয়েছে তাঁর।

সঙ্গে সঙ্গে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার রাজেশ সোনকরের কাছে ছোটেন হুকুম। অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায়, একই অ্যাকাউন্ট দু’জনের নামে অ্যালট করে ফেলেছে ব্যাঙ্ক। দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন পাশের রোনি গ্রামের বাসিন্দা হুকুম সিং বাঘেল। ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন তিনি।

এরপর দুই হুকুম সিংকে ডেকে পাঠায় ব্যাঙ্ক। দ্বিতীয় হুকুম সিং সাফাই দিয়ে বলেন, টাকা তোলার জন্য তিনি বায়োমেট্রিক মেশিনে আঙুলের ছাপ ব্যবহার করতেন। যখন দ্বিতীয় হুকুম সিং বাঘেলকে প্রশ্ন করা হয় টাকা জমা না দিয়েই কীভাবে তুলে নিচ্ছিলেন। তখন তাঁর জবাব ছিল, ‘আমি ভাবলাম মোদীজি টাকা দিচ্ছেন তাই বের করে নিচ্ছিলাম।’ এই উত্তর শুনে রীতিমতো হাসির রোল ওঠে ব্যাঙ্কে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here