ডেস্ক: সাত সকালেই নরেন্দ্র মোদী অ্যান্ড কোং-কে মারাত্মক ধাক্কাটা দিয়েছিলেন চন্দ্রবাবু নাইডু। বিকেল হতে না হতেই মোদীর পিঠে ছুরি মারার কাজটা করল নীতিশ কুমারের দল। ঠিক যেই কারণে এনডিএ জোট ছেড়ে চন্দ্রবাবু বেরিয়ে এসেছিলেন, সেই একই রকমের দাবি তুললেন জেডি(ইউ) নেতা কেসি ত্যাগী। চন্দ্রবাবুর সুরে কথা বলে কেসি ত্যাগীরও দাবি, বিহারকেও বিশেষ অধিকার বা স্পেশাল স্টেটাস দিতে হবে।

দীর্ঘদিন যাবত অন্ধ্রের জন্য স্পেশাল স্টেটাস দাবি করে এসেছিলেন চন্দ্রবাবু। আলাদা করে আর্থিক প্যাকেজ দিতে রাজি হলেও স্পেশাল স্টেটাস দেওয়ার ক্ষেত্রে বেঁকে বসে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের এই দ্বন্দ্বই শেষ পর্যন্ত জোটসঙ্গী এনডিএ ও তেলেগু দেশম পার্টির মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ও জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন চন্দ্রবাবু নাইডু। লালুর হাত ছেড়ে বিহারে কয়েকমাস আগেই রীতিমতো নাটকীয় ভাবে মোদীর হাত ধরেছিলেন নীতিশ কুমার। অন্যদিকে ২০১৯ সালে বিজেপিকে রুখতে এক ছাতার তলায় আসার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে বিরোধী দলগুলি। এবং এর সুফল ইতিমধ্যেই টের পাওয়া গিয়েছে উত্তরপ্রদেশের ফুলপুর ও গোরক্ষপুরে লোকসভা উপনির্বাচনে। মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীর গড় হওয়া সত্ত্বেও মুখ থুবড়ে পড়েছে বিজেপি। লালু জেলে থাকলেও তাঁর ছেলে তেজস্বীর দৌলতে বিহারে দু’টি আসনে জয়লাভ করে লালুর দল। আঁচড় কাটতে পারেননি নীতিশ কুমার।

বিহারকে আলাদা করে স্পেশাল স্টেটাস নিয়ে নীতিশ মুখ না খুললেও কেসি ত্যাগীর বলেন, ”নীতীশ কুমার বহু আগে থেকেই বিহারের জন্য বিশেষ অধিকারের দাবি করে আসছেন। এ বার আমরা সেই দাবি নিয়ে লড়াই করব।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এনডিএ সঙ্গ ছাড়ায় এখন কোণঠাসা অবস্থায় বিজেপি। লোকসভায় আজই অনাস্থার দাবিতে সরব হয়েছিলেন বিরোধীরা। এই সুযোগকেই কাজে লাগাতে চাইছেন নীতিশ। এমতবস্থায় এই বিষয়ে নিজে কোও মন্তব্য না করে দলের সাংসদদের এগিয়ে দিচ্ছেন নিজের দাবিদাওয়া পূরণ করতে।

কিন্তু শুধুই কি দাবি? নাকি অন্য অংকও কাজ করছে? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের আবার মত, বিহারে সম্প্রতি উপনির্বাচনে নীতিশও টের পেয়েছেন লালুকে ছেড়ে বিজেপির হাত দেওয়া তাঁর পক্ষে যায়নি। পরবর্তী নির্বাচনে এর প্রভাব ইভিএম ও ভোটবাক্সে পড়া অবশ্যম্ভাবী। তাই বিহারের জন্য স্পেশাল স্টেটাস ছেয়ে রাজ্যবাসীর ‘সিমপ্যাথি’ ও ‘সেন্টিমেন্ট’-এও খোঁচাটা দিতে পারবেন নীতিশ। চন্দ্রবাবুর তেলেগু দেশম পার্টি এনডিএ-র সঙ্গ ছাড়লে মোদীর উপর চাপ যে বাড়বে তা জানাই ছিল। কিন্তু বাকি রাজ্যগুলিও যদি চন্দ্রবাবুর দেখাদেখি নিজেদের জন্য স্পেশাল স্টেটাসের দাবি জানানো শুরু করে তার ফল সুবিধাজনক হবে না অমিত শাহদের জন্য। কারণ, অন্ধ্রের মতোই পশ্চিমবঙ্গ বা পঞ্জাবও ঋণভারে ডুবে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাকিরাও স্পেশাল স্টেটাস দাবি করলে বিজেপি কোন পথ নেই তা দেখার জন্যই উদগ্রীব রাজনৈতিক মহল।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here