নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্যারাকপুর: অতীতের পাপ পিছু ছাড়ে না বর্তমানকেও। এবার এই আপ্তবাক্যই কার্যত ফলতে চলেছে প্রাক্তন তৃণমূল নেতা তথা অধুনা বিজেপিগামী নেতা অর্জুন সিংয়ের জীবনে। বৃহস্পতিবারই তৃণমূল ছেড়ে দিল্লি গিয়ে গেরুয়া শিবিরে যোগদান করেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর মহকুমার ভাটপাড়া পুরসভার পুরপ্রধান তথা স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিং। মনে করা হচ্ছে তিনি ব্যারাকপুর থেকেই প্রার্থী হতে পারেন বিজেপির। তৃণমূল কিন্তু হাতগুটিয়ে বসে নেই। অর্জুনকে পাল্টা ঘাত দিতে এবার মেপে পা ফেলা শুরু করছে ঘাসফুল শিবির। বৃহস্পতিবারই বীজপুরে এক সাংবাদিক বৈঠক করে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক তথা মুকুলপুত্র শুভ্রাংশু রায় জানিয়ে দেন, অর্জুন ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে নোয়াপাড়ার তৃণমূল নেতা বিকাশ বসু খুনের ঘটনা প্রচারে তুলে ধরা হবে। শোনা যাচ্ছে বিকাশবাবুর স্ত্রী তথা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়িকা মঞ্জু বসুও তৃণমূলের হয়ে প্রচারে নেমে বিকাশ খুনের ঘটনায় অর্জুনের ভূমিকা নিয়ে সরব হবেন। সেই সঙ্গে অর্জুনকে প্রশাসনিক ভাবে গুরুত্বহীন করে দিতে ভোটের পরেই তার বিরুদ্ধে ভাটপাড়া পুরসভায় অনাস্থা আনার পরিকল্পনা নিয়েছে তৃণমূল। সব মিলিয়ে প্রার্থী হওয়ার আগেই বেশ বিপাকে পড়তে চলেছেন সদ্য তৃণমূল ত্যাগী দাপুটে নেতা অর্জুন সিং।

প্রায় দুই দশক আগে প্রকাশ্য দিবালোকে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হয়েছিলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর মহকুমার নোয়াপাড়া এলাকার তৃণমূল নেতা বিকাশ বসু। সেই সময় তার স্ত্রী মঞ্জু বসু অভিযোগ করেছিলেন বিকাশবাবুকে দুষ্কৃতী দিয়ে খুন করিয়েছেন অর্জুন সিং। মঞ্জু বসু সেই ঘটনার জেরে পুলিশের কাছে যে এফআরআর দায়ের করেছিলেন সেখানেও নাম ছিল অর্জুন সিংয়ের। যদিও পুলিশি তদন্তে বিকাশ খুনের ঘটনায় অর্জুনবাবুর জড়িত থাকার কোন প্রমাণ পাওয়া না যাওয়ায় এফআরআর থেকে তার নাম বাদ গিয়েছিল। বিকাশবাবু খুন হওয়ার পরপরেই মঞ্জু বসু তৃণমূলে যোগদান করেন এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ ও ২০১১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত দুই দফায় তৃণমূলের বিধায়ক হিসাবে কাজ করেন। বিধায়ক থাকার সময় মঞ্জুদেবীও বিকাশ বসু খুনের ঘটনায় সেভাবে সরব হননি বলেই নোয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য। কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে অর্জুনকে কোনঠাসা করতে বিকাশ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে যেমন তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে প্রচারে তুলে ধরে হবে তেমনি অর্জুনকে কোনঠাসা করতে মঞ্জুদেবীকে দিয়েও অর্জুনের বিরুদ্ধে প্রচার করানো হবে। যেখানে মূলত প্রাধান্য পাবে ব্বিকাশ খুনের ঘটনায় অর্জুনের ভূমিকা। বৃহস্পতিবার বীজপুরে সাংবাদিক বৈঠক করে মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায় জানিয়েছেন তৃনমূল নেতা বিকাশ বসুর খুনের ইস্যুকে সামনে রেখেই অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে প্রচারে নামতে চলেছে তৃণমূল।

 

শুভ্রাংশু কাঁচরাপাড়া পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নিজের দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, ‘অর্জুনবাবু ২ লক্ষেরও বেশী ভোটে পরাজিত হবেন। দল বীজপুরে আমাকে ভোট পরিচালনা করার দ্বায়িত্ব দিলে আমি ব্যারাকপুর লোকসভার ৭টি বিধানসভার মধ্যে সব থেকে বেশী ভোটে লিড দিয়ে জেতাব। অর্জুন সিংয়ের দল ত্যাগের ঘটনায় আমাকে সকলে প্রশ্ন করে ছিলেন আমি কি করছি? আমি আবার বলছি আমি তৃণমূলে ছিলাম, আছি, থাকব। আমার দলনেত্রীর নাম মমতা বন্দোপাধ্যায়। বাবার সঙ্গে আমার পিতা-পুত্রের সম্পর্ক নিশ্চই আছে। ওনার স্বাস্থ্যের খবর নেওয়া ছাড়া ওনার সঙ্গে আমার অন্য কোন বিষয় নিয়ে কথা হয় না। আর তৃণমূলে অর্জুন সিং ঘনিষ্ঠ বলে কিছু নেই। সবাই মমতা বন্দোপাধ্যায়কে দেখে দল করে। এক সময়ে অর্জুনবাবুর ঘনিষ্ঠরা এখন অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে ফেসবুকে বিষোদগার করছেন। আমার মনে হয় বীজপুরে এবার হয়ত বহিরাগতদের আগমন কমবে। তবে যে চলে গেছে সে যাক। যে গেছে তাকে নিয়ে ভাবার কোন কারন নেই। দলনেত্রীর নির্দেশ মেনে দল করি। নেত্রী যদি কখনও দিলীপ ঘোষ বা সুজন চক্রবর্তীকেও টিকিট দেয় তবে তাদের হয়েও আমি প্রচার করব। আমি দলের কর্মী ছিলাম, আছি এবং থাকব। আমার অনুরোধ, অর্জুনবাবু দলে নেই বলে তার পরিবারের সদস্যদের কেউ গালি দেবেন না। নারীদের সম্মান করবেন। আমার বাবা যখন দলত্যাগ করেছিলেন তখন অনেকেই আমার মা, স্ত্রীর নামে অশ্লীল কথা বলেছিল। সেটা ঠিক হয়নি। তবে আমি বলছি, গতবার দীনেশ ত্রিবেদী বীজপুর থেকে ৭৮ হাজার ভোটে লিড পেয়েছে। এবার আমি বীজপুরের দায়িত্ব পেলে ব্যারাকপুরের মধ্যে সব থেকে বেশী ভোটে লিড দেব।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here