kolkata bengali news

ঋদ্ধীশ দত্ত: ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি সিপিএম। তৃণমূল বনাম বিজেপির দ্বিমুখী লড়াইয়ের মাঝে অস্তিত্ব সংগ্রামের যুদ্ধে মানুষদের কতটা পাশে পাচ্ছেন বামফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীরা। সব নিয়ে মহানগর২৪x৭-এর প্রতিনিধির সঙ্গে মুখোমুখি হয়েছিলেন যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের বাম প্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। আলোচনায় বাম থেকে রাম, কন্যাশ্রী থেকে রূপশ্রী-সব নিয়েই খোলা মনে কথা বললেন বিকাশবাবু। মহানগরকে জানালেন, কীভাবে কাঁচা টাকা হাতে পাওয়ার প্রবণতা ক্রমশ সামাজিক অবক্ষয় ডেকে আনছে। একই সঙ্গে সমালোচনা করলেন তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির।

ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক সামাজিক প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের মনে দাগ কাটেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আন্তর্জাতিক স্তরে প্রকল্পগুলি প্রশংসাও আদায় করে নিয়েছে। কিন্তু এ প্রকল্পের মাধ্যমে আদতে সমাজকে পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান বিকাশবাবু। তাঁর কথায়, কন্যাশ্রী নিয়ে অনেক লম্পঝম্প হয়, কিন্তু নারী পাচারে পশ্চিমবঙ্গ সবার আগে থাকে। নাবালিকা বিবাহে পশ্চিমবঙ্গ সবার আগে। বামপন্থী এই বরিষ্ঠ আইনজীবী বলেন, ‘নাবালিকা বিবাহকে উৎসাহিত করার জন্য রূপশ্রী নামে কিছু টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। এগুলো অত্যন্ত নেতিবাচক পরিকল্পনা। আগে মানুষ বুঝতে পারেননি, এখন বুঝতে পারছেন। আর মানুষকে প্রলোভীত করার জন্য টাকা ধার করছেন। গত সাত বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে পরিমাণ ঋণ নিয়েছেন, তাতে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ঋণের জালে জড়িয়ে দিয়েছেন। প্রত্যেকটা মানুষের মাথার উপর ৪২ হাজার টাকা করে ঋণ। সরকারি টাকায় ইমামভাতা, দুর্গাপুজো করা, ক্লাবগুলোকে টাকা দেওয়া-এগুলো মানুষকে বিপথে পরিচালিত করার পরিকল্পনা। মোদী আর মমতাকেও এক পাতায় জায়গা দিচ্ছেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, মোদী যেভাবে হিন্দু মুসলমানের ধর্মীয় বিভাজন করছেন, মমতাও একই ভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান টাকা খরচ করার মধ্যে দিয়ে বিভাজন করছেন।

 

তবে বামেদের ৩৪ বছরের শাসনকালে এহেন প্রকল্পের অভাবই কি অনেকটা জায়গা করে দিয়েছে তৃণমূল নেত্রীকে? উত্তরে বিকাশ রঞ্জন বললেন, তিনি এমনটা মনে করেন না। কারণ, বাম আমলেও কন্যাশ্রী ছিল বলে জানান তিনি। বিকাশবাবু বলেন, আজ যেটাকে কন্যাশ্রী বলা হচ্ছে বাম আমলেও সেই প্রকল্প ছিল। কিন্তু সেটা হতে টাকা দেওয়া নয়। শিক্ষা এবং শিক্ষার উপকরণের জন্য সাহায্য করা। কন্যাশ্রীর টাকা হাতে পেয়ে একজন বুঝে যাচ্ছে যে কাঁচা টাকা আমি পেতে পারি। আর এটা বিপজ্জনক কারণ আরও একজন বেশি টাকা দিতে পারে। কন্যাশ্রীর পর নাবালিকা বিবাহ বেড়ে গেল কেন? রাজ্য সরকার উৎসাহিত করছে বিয়েতে পণ দেওয়ার জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here