মহানগর ডেস্ক: রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে নিশানা করে রবিবার এই প্রথম কংগ্রেসের হাত ধরে ব্রিগেডের ময়দানে বামেরা। আব্বাস সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর সঙ্গে জোটের জট এখনও কাটেনি। কিন্তু তা আপাতত সরিয়ে রেখেই বাম এবং কংগ্রেসের সঙ্গে ব্রিগেডের মঞ্চ ভাগ করে নিয়েছে আইএসএফ-ও। সমাবেশ মঞ্চে রয়েছেন সীতারাম ইয়েচুরি, বিমান বসু, অধীর চৌধুরী, আবদুল মান্নান-সহ অনেকেই। পৌঁছেছেন আব্বাস সিদ্দিকিও।

ব্রিগেডের সভা থেকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক বিমান বসু শাসক এবং গেরুয়া শিবিরকে একযোগে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ‘এই সমাবেশের পর এক দিকে থাকবে বিজেপি-তৃণমূল। অন্য দিকে থাকব আমরা সবাই।’

ভরা ব্রিগেডে লোকের সমাগম দেখে তিনি বলেন, ‘যাঁরা বলেন বামেদের দূরবিন দিয়ে দেখতে হয়, তাঁরা আজকের সমাবেশের খবর নিন।’

রবিবাসরীয় এই ব্রিগেডকে কার্যত ঐতিহাসিক সমাবেশ বলেন তিনি। এই প্রসঙ্গে ভরা সভা থেকে তিনি বলেন, ‘ব্রিগেডের সমাবেশে ঐতিহাসিক ভিড় হয়েছে।’  মঞ্চ এবং ময়দানে জমায়েতে জমাট ব্রিগেড, ভিড় দেখে যেতে বিরোধীদের ডাক দেন বিমান।

ভোটের আগে ব্রিগেডের সমাবেশ। সেখান থেকেই স্থির হবে দলের রণকৌশল। সেখান থেকেই বার্তা দেওয়া হবে গ্রামবাংলা থেকে সমাবেশে আসা দলীয় কর্মী এবং সমর্থকদের। কিন্তু সেই সমাবেশেই হাজির থাকতে পারছেন না প্রবীণ সিপিএম নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। এ নিয়ে আক্ষেপ এবং যন্ত্রণার কথা জানিয়ে শুক্রবার রাতেই বার্তা দিয়েছেন তিনি। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরেও, বাম কর্মী, সমর্থকদের কাছে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের উপস্থিতি গুরুত্ব অপরিসীম। ফেসবুকে তাঁর বার্তা, ‘এ রকম একটা বৃহৎ সমাবেশে যেতে না পারার মানসিক যন্ত্রণা বোঝানো যাবে না। মাঠে ময়দানে কমরেডরা লড়াই করছেন, আর শারীরিক অসুস্থতার কারণে ডাক্তারজের পরামর্শ মেনে চলছি আমি। মাঠে-ময়দানে মিটিং চলছে, আর আমি গৃহবন্দি, যা কোনদিন কল্পনাও করতে পারিনি। সমাবেশের সাফল্য কামনা করছি’।

কংগ্রেস ছাড়াও, রবিবার ব্রিগেডের মঞ্চে চমক হয়ে উঠতে চলেছে আইএসএফ। যদিও তাদের সঙ্গে জোটের জট এখনও কাটেনি। কিন্তু বাম এবং কংগ্রেস দু’পক্ষই আশাবাদী, খুব দ্রুতই জোটের জট কাটিয়ে ওঠা যাবে। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই ধারাবাহিক ভাবে ভোট কমেছে বামেদের। উল্টো দিকে শক্তি বাড়িয়েছে বিজেপি। গত লোকসভা ভোটেও সেই একই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। বামেদের ভোট শতাংশ নেমে এসেছে এক অঙ্কে। এমন একটি কঠিন সময়ে ক্ষয়রোগে আক্রান্ত সংগঠনকে চাঙ্গা করে তোলার জন্য কী বার্তা দেওয়া হয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here