ডেস্ক: ত্রিপুরার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বড় পরিবর্তন ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। এই জয়ের সিংহভাগ শ্রেয় পাচ্ছেন ত্রিপুরা বিজেপির রাজ্য সভাপতি বিপ্লব দেব। গত দু বছর ধরে এই উত্তর-পূর্ব রাজ্যে বিজেপির অন্যতম মুখ বিপ্লব দেবের নামই আগামী মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী হিসাবে উঠে এসেছে। বিজেপির অন্দরমহল সূত্রে খবর, দলীয় বৈঠকের পরই মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হবে যেখানে প্রথম পছন্দই হচ্ছেন বিপ্লববাবু। কিন্তু কে এই বিপ্লব দেব? জানা যায় ২০১৪ সালে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রচারক বিপ্লব দেবকে ত্রিপুরা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন নরেন্দ্র মোদী। আর মোদীর এই সিদ্ধান্ত যে একেবারে সঠিক ছিল তার হাতেনাতে প্রমাণ, ২০১৩ সালে মাত্র ১.৫ শতাংশ ভোট পাওয়া বিজেপি ৫ বছরের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট নিয়ে শূন্য থেকে ৪০টিরও বেশি আসন দখল করে সরকার গঠন।

বিপ্লববাবুর বর্তমান বয়স ৪৭ বছর। দক্ষিণ ত্রিপুরার উদয়পুরের মানুষ দিল্লিতে মাস্টার ডিগ্রি পড়াশুনা করেন। এরপর পেশাগত ভাবে দিল্লিতে একটি জিমে ‘ইনস্ট্রাকটর’ ছিলেন তিনি। তখন থেকে আরএসএস শাখায় যাওয়া আসা শুরু হয় বিপ্লব দেবের। এরপর সক্রিয়ভাগে আরএসএসের প্রচারক হওয়ার সুবাদে ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের পর তাঁকে ত্রিপুরায় সংগঠন গঠনের কাজে পাঠায় সংঘ। ১৫ বছর ত্রিপুরার বাইরে থাকার পর নিজের জন্মভুমিতে ফিরে এসেই একে একে ক্ষমতার পরিচয় দেওয়া শুরু করেন বিপ্লব। ক্রমশ তাঁর দৌলতে জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে বিজেপির।

২০১৬ সালে প্রথমবার ত্রিপুরা বিজেপির সভাপতি হন বিপ্লব দেব। প্রাক্তন সভাপতি সুধীন্দ্র দাসগুপ্তকে সরিয়ে তাঁকে সভাপতির আসনে বসায় বিজেপি। সুধীন্দ্রবাবু দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও তাঁর আমলে বিশেষ সুবিধা করে উঠতে সক্ষম হয়নি বিজেপি। কিন্তু বিপ্লব দেব ক্ষমতায় আসার পরই শুরু হয় ত্রিপুরায় বিজেপির পরিবর্তন। সুধীন্দ্রবাবুর আমলে কয়েক বছরেও বিজেপি ত্রিপুরায় যেই শক্ত মাটি খুঁজে পায়নি, বিপ্লব দেবের আগমনে আচমকাই বদলে যায় দৃশ্যটা। অবশেষে বিপ্লববাবুর নেতৃত্বেই ২৫ বছরের বাম শাসনের রাজপাঠ চুকিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। উল্লেখ্য, বিপ্লববাবুর স্ত্রী বর্তমানে এসবিআই-এর ডেপুটি ম্যানেজারের পদে রয়েছেন। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here