kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিউড়ি ও মেদিনীপুর: স্বামী ‘জয় শ্রী রাম’ বলায় স্ত্রীকে বিবস্ত্র করে মারধর করার অভিযোগ উঠল বীরভূমের এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার সদর মহকুমার সাঁইথিয়া ব্লকের সাংরা গ্রাম পঞ্চায়েতের ধোবাজল গ্রামে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সময় ধোবাজল গ্রামের এক বৃদ্ধ ‘জয় শ্রী রাম’ বলে চিৎকার করে উঠেছিলেন। তার জেরেই শনিবার সকালে তার স্ত্রী যখন বাড়ির বাইরে জল আনতে যান তখন স্থানীয় তৃণমূলের বুথ সভাপতি সুবোধ মণ্ডল ও তার স্ত্রী নীলিমা মন্ডল তাকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। বৃদ্ধার আরও অভিযোগ মারধরের সময় তাকে বিবস্ত্র করে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার পর থেকেই তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয় ধোবাজল গ্রামে।

ঘটনার জেরে ওই বৃদ্ধ দম্পতি আমোদপুর ফাঁড়িতে এসে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে সাঁইথিয়া ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি প্রশান্ত সাধুর দাবি, ‘এটা রাজনৈতিক কোনও সংঘর্ষ নয়। পাড়ার টিউবওয়েল থেকে জল নিতে গিয়ে দুই মহিলার ঝামেলা আর মারামারি। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এই ঘটনার সঙ্গে কোন ভাবেই জড়িত নয়। ইচ্ছা প্রণোদিত ভাবে বিজেপির লোকজন এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের নাম জড়াচ্ছে।’

এই ঘটনার পাশাপাশি শনিবার এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠল জেলার সদাইপুর থানার হাজরাপুর গ্রাম। বিজেপি ও তৃণমূল দুই দলের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছে পরস্পরের কর্মী সমর্থকদের মারধর ও বাড়ি ভাঙচুর করার। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে সদাইপুর থানায় হাজরাপুর গ্রামের তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক মারামারি হয়। তৃণমূলের অভিযোগ বিজেপি এলাকায় কর্তৃত্ব কায়েম রাখতে সন্ত্রাসের রাজনীতি শুরু করেছে। তাদের প্রায় ৪০টি কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি ভাঙচুর করার পাশাপাশি তাদেরকে মারধরও করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিজেপি কর্মীদের পাল্টা দাবি শুধুমাত্র বিজেপি করার অপরাধে বহিরাগত লোক নিয়ে এসে তৃণমূলের কর্মীরা তাদের একটি পাড়াতে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই হামলা চালায়। বাড়ির পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদের কেও মারধর করা হয় বলে দাবি বিজেপির। স্থানীয় বিজেপি কর্মী শেখ আবু সহিদ ও তার বৌমা নাজিমা বিবি বলেন, ‘তৃণমূল নেতা নুরুল হুদার নেতৃত্বে আক্রমণ করা হয়। আমাদের এলাকায় স্বপন মন্ডল এবং প্রধান ডালিম এরা পঞ্চায়েতের দুর্নীতি করে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি করেছে। এরই প্রতিবাদে আমরা বিজেপি করি। সেই অপরাধে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বাড়িতে বেছে বেছে হামলা করা হয়েছে।’ অন্য দিকে স্থানীয় তৃণমূল কর্মী শেখ সানাউল বলেন, ‘এলাকায় নিজেদের দখলদারি বাড়াতে বিজেপি কর্মীরা আমাদের কর্মী সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মারধর করেছে।’

এদিকে শনিবার সকালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সদর মহকুমার আনন্দপুর থানার লাউরিয়া গ্রামে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জানা গিয়েছে, ওই গ্রামে ভোটের ফলাফল বার হওয়ার পর কয়েকদিন ধরেই নতুন করে বিজেপির দলীয় কার্যালয় তৈরি হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই সেখানে বিজেপি কর্মীরা অন্যান্য দিনের মতো জটলা করে বসে ছিলেন। ওই সময় কেশপুরের দিক থেকে শ’দেড়েক বাইক নিয়ে একটি তৃণমূলের বাইক মিছিল ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। ওই বাইক মিছিলকে লক্ষ্য করে জয় শ্রীরাম স্লোগান দেন দলীয় কার্যালয়ে বসে থাকা বিজেপির কর্মীরা।

অভিযোগ, তারপরই মিছিলের তৃণমূল কর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে বিজেপি কর্মীদের ওপর। বিজেপি কর্মীদের বেধড়ক মারধর করার পাশাপাশিউ বিজেপির ওই কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই বিজেপি কর্মী। তাদের ভর্তি করা হয়েছে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সদস্য তথা স্থানীয় নেতা মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা জয় শ্রী রাম স্লোগান দেওয়াতে তৃণমূলের বাইক মিছিলে আগত দুষ্কৃতীরা এভাবে হামলা করেছে। পুলিশকে জানানো হলেও তৃণমূলের ইশারায় পুলিশ কোন পদক্ষেপ নেয়নি সেই মুহূর্তে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here