ডেস্ক: যেটুকু বাকি ছিল তাও সম্পন্ন হল। কেষ্টভুমে একেবারে যাকে বলে ষোল কলা পূর্ণ। নির্বাচনের আগেই বিজয় উৎসব পালিত হয়েছে বীরভূমে। তবে গলায় কাঁটা বেঁধে থাকার মতো, বীরভূমের মোট ৪২ টি জেলা পরিসদের মধ্যে ৪১ টি বিরোধী শূন্য থাকলেও একটিতে প্রার্থী দিয়ে ফেলেছিল বিজেপি। কিন্তু বৃহস্পতিবার সি‌উড়িতে মহকুমা শাসকের দফতরে গিয়ে মনোনয়ন তুলে নিলেন তিনি বিজেপি প্রার্থী চিত্রলেখা রায়। সবমিলিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই গোটা বীরভূমের দখল নিল সেখানকার একছত্র অধিপতি অনুব্রত মন্ডল।

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সকালে জেলা শাসকের দপ্তরে যান চিত্রলেখা দেবী। তার সঙ্গে বিজেপির কেউ না থাকলেও সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের কর্মীরা। মহকুমা শাসকের দফতরে গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের সামনেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন তুলে দেন তিনি। চিত্রলেখা দেবী যে মনোনয়ন তুলে নেবেন তাঁর পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিলেন বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডল। এক সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গতকাল তিনি জানিয়েছিলেন, ‘জেলা পরিষদে যে একমাত্র বিরোধী প্রার্থী রয়েছেন, তিনি খুব মানসিক কষ্ট পাচ্ছেন। তিনি বুঝতে পারছেন, তিনি উন্নয়নের বিপক্ষে গিয়ে ভুল করেছেন। কষ্ট যখন পাচ্ছেন, তখন মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেন বলেই মনে হচ্ছে।’

বীরভূম জেলাপরিষদের একমাত্র বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর ফের সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন অনুব্রত। তিনি বলেন, ‘চিত্রলেখা রায় গত কাল আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি আমাকে বলেন, দাদা আমি মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে চাই। আমি জিজ্ঞাসা করি, কেন? তোমাকে কি কেউ জবরদস্তি করেছে? তিনি বলেন, না কেউ জোর করেনি। আমার বিবেক দংশন হচ্ছে। বিয়ে হয়ে আসার পর থেকে দেখেছি, রাজনগরে কোনও উন্নয়ন ছিল না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই রাজনগরে উন্নয়ন এসেছে। আমি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না।’ তবে একমাত্র প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার নিয়ে অনুব্রত মণ্ডল যাই বলুক তা মানতে রাজি নন রাজ্যের বিজেপি সংগঠন। বিজেপির তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, ‘এটা বোধহয় নতুন করে বলার দরকার পড়ে না কেন বীরভূমের একমাত্র বিজেপি প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন। অনুব্রতবাবু যা বলছেন তা সম্পুর্ন হাস্যকর। রীতিমতো হুমকি দিয়েই প্রত্যাহার করিয়ে নেওয়া হয়েছে মনোনয়ন।’ শাসানি, ধমকানি ও অস্ত্র হাতে বিরোধীশূন্য করতে বীরভূমে মাঠে নেমে পড়েছে তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী। আর সেই গুন্ডাবাহিনীর হুমকির শিকার হয়েছেন চিত্রলেখা দেবী।’

উল্লেখ্য, শুধু জেলা পরিষদ নয় পঞ্চায়েতের অন্যান্য স্তরও একে একে বিরোধীশূন্য হচ্ছে। নলহাটি ১ নং পঞ্চায়েত সমিতি থেকে দুইজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন বুধবার। বৃহস্পতিবারও সেখান থেকে চারজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন বলে জানিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। শুধু তাই নয়। তার কথায়, ‘মহম্মদ বাজারের পঞ্চায়েত সমিতিও আজ বিকেলের মধ্যে তৃণমূলের হয়ে যাবে।’