ডেস্ক: কর্ণাটকে সরকার গঠনে বিজেপিকে আটকাতে সবচেয়ে ছোট দল জেডিএসকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস৷ শুধু তাই নয়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়ার পুত্র জেডিএস সুপ্রিমো কুমারস্বামীকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনেও বসাতে চায় কংগ্রেস৷ সরকার গঠনে কংগ্রেস এতটাই মরিয়া, যে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে তড়িঘড়ি ইস্তফা দিয়েছেন সিদ্দারামাইয়া৷ এবং কুমারস্বামীকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাতে ছুটে গিয়েছেন৷ আসলে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে কোনওভাবেই বিজেপিকে কর্ণাটক উপহার দিতে চান না সোনিয়া ও রাহুল গান্ধি৷ কিন্তু কুমারস্বামীকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসাতে ঘোর আপত্তি বেশকিছু কংগ্রেস বিধায়কের৷

দলের অন্দরে বিদ্রোহ এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে, শেষপর্যন্ত কর্ণাটক হাতছাড়া হতে পারে কংগ্রেসের৷ সরকার গঠনে জেডিএস কুমারস্বামীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন কংগ্রেসের লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের বিধায়করা। জাতপাতের বিষয়টি এখানে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে৷ কুমারস্বামী ভোক্কালিগা সম্প্রদায়ের, তাই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী মানতে নারাজ বিদ্রোহি কংগ্রেস বিধায়করা৷ এবং কংগ্রেসের লিঙ্গায়েত বিধায়করা যদি শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে, তাহলে সরকার গঠনে বিজেপি অ্যাডভান্টেজ তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷

কংগ্রেস বা জেডিএসের সরকার গঠনে সমস্যা এখানেই শেষ নয়৷ জেডিএসের বেশ কয়েকজন বিধায়ক আবার প্রবল কংগ্রেস বিরোধী বলে পরিচিত। তাঁরা চাইছেন বিজেপির সঙ্গে জোট হোক। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি ‘হর্স ট্রেডিং’ করে এই বিদ্রোহী কংগ্রেস ও জেডিএস বিধায়কদের দলে টানতে মরিয়া৷

এদিকে, বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ইয়েদুরাপ্পা লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের। ফলে বিদ্রোহের নেপথ্যে তাঁর হাত আছে বলে মনে করছে কংগ্রেস। রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে ইতিমধ্যেই সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন ইয়েদুরাপ্পা। এদিন রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালকে ইয়েদুরাপ্পা বলেন, ‘বৃহত্তম দল হিসেবে বিজেপিকে সর্বপ্রথম সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সুযোগ দেওয়া হোক।’ রাজভবন থেকে বেরিয়ে বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা বলেন, ‘বিধানসভায় রাজ্যপাল আমাদের আস্থাভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের অনুমতি দিয়েছেন।’

ঘন্টায় ঘন্টায় নাটকীয় পচপরিবর্তনে সবমিলিয়ে এই মুহূর্তে কর্ণাটকে সরকার কে গড়বে তা নিয়ে দেশজুড়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here