kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক:   শাসক বিজেপিকে ডুবন্ত জাহাজ মনে করে শরিকরা ভোটের আগে পালাচ্ছে৷ এমটাই বললেন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হেমন্ত সোরেন৷ ৩০ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দফয়া ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা নির্বাচন হবে৷ ২৩ ডিসেম্বর ফল প্রকাশিত হবে৷ এই রাজ্যে শাসক বিজেপি৷ তাদের অবস্থাও কি মহারাষ্ট্রের মতো হবে? বছরের শেষর দিকে এর উত্তর পাওয়া যাবে৷ আপাতত বিজেপি বিরোধী কংগ্রেস জোটের অন্যতম দল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা(জেএমএম)৷ এই জোট ভোটে জিতলে মুখ্যমন্ত্রী হবেন জেএমএম- এর প্রধান মুখ তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবুর ছেলে হেমন্ত সোরেন৷ উল্লেখ্য এই ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মধু কোড়া৷ বিরোধীদের দাবি, রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে কোনও কথা বলে না শাসক বিজেপি৷ তারা দেশপ্রেম এর টোটকায় উন্নয়নকে ভুলিয়ে দিতে চাইছে বলে অভিযোগ করেন সোরেন৷ তাঁর সোজা প্রশ্ন, এই ভোটে রাজ্যর সমস্যা তুলে না ধরলে আর কোথায় এই নিয়ে সরব হব?

রাজ্যের দলিত, আদিবাসীদের শত্রু বিজেপি৷ স্পষ্ট দাবি জেএমএম প্রধান হেমন্ত সোরেনের৷ তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস ছোটনাগপুর ও সাঁওতাল পরগণা নিয়ে কার্যত কিছু উন্নয়নই করেননি৷ তাঁর কথায়, বিজেপি জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা লোপ করে লাফাচ্ছে কিন্তু এটা অন্তত রাজ্য ভোটে প্রধান ইস্যু হতে পারে না৷ এই রাজ্যের অন্যতম বিষয় হল জমি অধিগ্রহণ৷ ছোটোনাগপুর ও সাঁওতাল পরগণায় আদিবাসীদের জন্য জমি সংরক্ষণের মতো জরুরি ইস্যুকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বিজেপি৷ এমনটাই অভিযোগ সোরেনের৷ পাশাপাশি পেশি শক্তি দিয়ে রাজ্যের উন্নয়ন জোর করে ঠেকিয়ে রেখেছ রঘুবর প্রশাসন বলে সোজা অভিযোগ করলেন তিনি৷ হেমন্তের কথায়, ‘বিজেপির বন্ধুরাও বুঝতে পারছে এবার ঝাড়খণ্ডে হাওয়া তাদের অনুকূলে নেই৷ আর তাই তারা পদ্ম ছেড়ে দিচ্ছে৷’উল্লেখ্য ঝাড়খণ্ডের মোট ৮১টি আসনের মদ্যে জেএমএম ৩১টি আসলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে৷

বিজেপিকে হারিয়ে বিরোধী জোট ক্ষমতায় আসলে ঝাড়খণ্ডে ভূমিপুত্রদের স্বার্থে অন্যান্য রাজ্যগুলির মতো(তেলেঙ্গনা, কর্নাটক) ডোমেসাইল নীতি চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন হেমন্ত সোরেন৷ তাঁর কথায়, ঝাড়খণ্ডের যুব সম্প্রদায়ের জন্য সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে ৭৫ভাগ সংরক্ষন চালু করা হবে৷ কাজের ক্ষেত্রে রাজ্যবাসীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি৷ তাঁর কথায়,আমাদের জোট ইস্তেহারে ক্ষমতায় আসলে রাজ্যে পাঁচ লাখ নয়া চাকরি হবে৷সেই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ‘প্রচুর সম্ভাবনা থাকলেও রঘুবরের আমলে রাজ্যে কৃষক মারা যাচ্ছে, অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছে মানুষ. জমি মাফিয়াদের জন্য ভুগছে আমজনতা- সব মিলিয়ে একেবারে উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়েছে রাজ্যে৷’ তাই বিজেপির ডুবন্ত জাহাজ ছেড়ে দলে দলে শরিকরা পালাচ্ছে বলে মনে করেন  হেমন্ত সোরেন৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here