ডেস্ক: দীর্ঘ ২৫ বছরের বাম শাসনের আধিপত্য ঘটিয়ে শরিক দল আইপিএফটি-কে সঙ্গে নিয়ে ত্রিপুরা জয় করেছে বিজেপি। কিন্তু নতুন মন্ত্রীসভা গঠন হতে না হতেই শরিক দলের সঙ্গে মত পার্থক্য প্রকাশ্যে চলে এলো বিজেপির। আইপিএফটি-র দাবি, আদিবাসীদের জন্য নতুন রাজ্য তৈরি করতে হবে। শুধু তাই নয়, তাদের দাবি মুখ্যমন্ত্রীও উপজাতি বিধায়কদের মধ্যে কাউকে করতে হবে। গতকাল সাংবাদিক সম্মেলন করে এই ঘোষণাগুলি করেন আইপিএফটি-র সভাপতি এনসি দেব বর্মা।

পৃথক রাজ্য এবং উপজাতি মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি জানিয়ে আইপিএফটি হুমকি দিয়েছে, তাদের দাবি না মানা হলে এবং সম্মানজনক স্থান না পেলে তারা বাইরে থেকে বিজেপিকে সমর্থন করবে না। এনসি দেববর্মা জানান, কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের দাবি খতিয়ে দেখতে একটা কমিটি গঠন করুক। প্রসঙ্গত, ত্রিপুরার ৬০টি আসনের মধ্যে ৫৯টি তে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে বিজেপি ৫১টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ৩৫টি আসনে জয়লাভ করেছে। অপরদিকে তাদের জোটসঙ্গী আইপিএফটি ৯টি আসনে লড়ে দখল করেছে ৮টি আসন। ফলে কোনও ভাবে যদি আইপিএফটি তাদের সমর্থন তুলেও নেয়, সেই ক্ষেত্রে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনে কোনও সমস্যা হবে না বিজেপির। কারণ, ৩১টি আসন দখল করলেই সরকার গঠনের জন্য তা যথেষ্ট।

উপজাতি মুখ্যমন্ত্রীর দাবি জানিয়ে দেববর্মা বলেন, কোনও উপজাতি বিধায়ককে মুখ্যমন্ত্রী করা হলে এখানকার ভূমিপুত্ররা ন্যয়বিচার পাবেন। এছাড়াও উপজাতি মুখ্যমন্ত্রী করা রাজ্যে রীতির মধ্যে পড়ে, এমনটাও জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, বিজেপির তরফ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে পৃথক রাজ্যের দাবি তারা কোনও ভাবেই মেনে নেবে না। এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা হেমন্ত বিশ্ব শর্মা নিজেই বলেছিলেন যে, উত্তর-পূর্ব এই রাজ্যে ‘এক ত্রিপুরা’ই তাদের মন্ত্রী। সেই ক্ষেত্রে আদিবাসীদের জন্য আলাদা রাজ্য হওয়ার সম্ভাবনা অদূর ভবিষ্যতে নেই বললেই চলে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here