ছিপ ফেলো মাছ তোলো, একুশের লক্ষ্যে তৃণমূল ভাঙতে মুকুল রণেই শিলমোহর বিজেপির

0

মহানগর ওয়েবডেস্ক: মুকুলের বিজেপি যোগের পর উদ্দেশ্য ছিল গোটা রাজ্যে তৃণমূলের তাবড় তাবড় নেতাদের ধরে ধরে পদ্ম শিবিরে ঢোকানো। শুরুতে সে পথে ব্যাপক সাফল্য এলেও, পরে ধীরে ধীরে মুকুল পন্থায় যারপরনাই অশান্তি শুরু হয় রাজ্য বিজেপির অন্দরেই। তৃণমূলের যে সব নেতাদের সঙ্গে বিরোধ বিজেপির সেই সমস্ত দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদেরও দলে ঢোকাচ্ছেন মুকুল। পরিস্থিতি এমন হয় যে মুকুলের বিরুদ্ধেই খড়গহস্ত হয়ে ওঠেন দলের বাকি শীর্ষ নেতারা। সবশেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে গড়ে দেওয়া হয় কমিটিও। যার শীর্ষে বসান হয় রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। তবে দল ভাঙনের খেলা থামাতে রাজি নয় বিজেপি। আর সেই লক্ষ্যে মুকুলের রণকৌশলকেই ফের একবার হাতিয়ার করতে চলেছে তাঁরা।

সম্প্রতি শহরে চিন্তন বৈঠকে বসেছিলেন রাজ্য বিজেপির দাপুটে নেতারা। যেখানে ২০২১ সালে বাংলা দখলের উদ্দেশ্যে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হবে তার খসড়া তৈরিতে নেমেছিল দল। সেই বৈঠকেই একাধিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বাংলা দখল করতে মুকুল রায় যে পথে হেঁটেছেন কোনও ভাবেই সেই পথে থামা চলবে না। তৃণমূলের ভিতরে যে ভিতি ঢুকেছে তা কমতে দেওয়া যাবে না কোনও ভাবেই। সূত্রের খবর, এহেন বক্তব্যে দলের শীর্ষ নেতাদের মুখে সুনেই নিজের যুক্তি সাজান মুকুলও। তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রে গেরুয়া শিবিরের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও অন্য দল থেকে নেতাদের নেওয়া হচ্ছে। কারণ সর্বভারতীয় স্তরে এটাই বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল। এই বৈঠক শেষে দিলীপ ঘোষের মুখ তথেকেও শোনা যায় একই কথা। দিলীপ বলেন, যারা অন্য দল থেকে বিজেপিতে আসতে চাইছেন তাঁদের অবশ্যই দলে নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, মুকুলের হাত ধরে বিজেপিতে ভিড় জমেছে বেশ ভালই। তবে অভিযোগ উঠছিল বাছবিচার না করেই দলে লিজের ঘনিষ্ঠদের জায়গা করে দিচ্ছেন মুকুল রায়। কিন্তু এতদূর ঠিক ছিল সমস্যা বাধল তখন যখন, বিজেপি ছেড়ে হুড়মুড়িয়ে একাধিক নেতা ফের যোগ দিলেন তৃণমূলে। পাশাপাশি, দলের শীর্ষ নেতাদের না জানিয়ে নিজের ইচ্ছামতো লোক ঢোকানোর অভিযোগ উঠেছিল মুকুলের বিরুদ্ধে। রোষ ফুটে ওঠে তখন যখন দেখা যায় কাউকে কিছু না জানিয়ে দিল্লিতে বীরভূমের বিধায়ক মনিরুল ইসলামকে নিয়ে গিয়ে যোগদান করাচ্ছেন মুকুল রায়। গোটা ঘটনার জেরে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদান কাকে করানো হবে আর কাকে নয় তারজন্য গড়া হয় কমিটি। যার মাথায় রাখা হয় দিলীপ ঘোষকে। এতদিন অত্যন্ত বাছবিচার করেই সেই কাজ চলছিল এতদিন। এবার মুকুলের বক্তব্যকে সমর্থন যুগিয়ে দল বদলের কর্মকাণ্ডে গতি বাড়াতে চলেছে রাজ্য বিজেপি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here