ডেস্ক: চলতি মাসেই বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ত্রিপুরায়। সেই উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যেই প্রচারের সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়েছে বাম ও বিজেপি। দুর্বল হলেও পিছয়ে নেই তৃণমূলও। ত্রিপুরায় পরিবর্তনের ডাক দিয়ে ‘চলো পাল্টাই’ স্লোগান নিয়েই এবার রাজ্য জয়ের স্বপ্ন দেখছে গেরুয়া শিবির। বেশ কয়েকটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ওপিনিয়ন পোলও বিজেপির দিকেই ঝুঁকে। পরবর্তী সরকার এই রাজ্যে কোন দল বানাবে তা অবশ্য ৩ মার্চই সাফ হয়ে যাবে। কিন্তু আত্মবিশ্বাসে ফুটতে থাকা গেরুয়া শিবির ইতিমধ্যেই ধরে নিয়েছে তারাই সরকার বানাবে। কিন্তু সরকার বানালে ত্রিপুরায় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন এই নিয়ে ইতিমধ্যেই দুটি ভাগ তৈরি হয়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে চলে এসেছে দলের অন্দরমহলের মতবিরোধ।

বিজেপির একাংশ চাইছেন রাজ্য সভাপতি বিপ্লব দেবকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দেখতে। অন্যদিকে, আরেক পক্ষ সুদীপ রায় বর্মনকে মুখ্যমন্ত্রী দেখতে চান। এই নিয়ে আপাতত দুই ভাগে বিভক্ত ত্রিপুরার বিজেপি শিবির। তবে কী কারণে এই মতের অমিল তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। ত্রিপুরায় দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন সুদীপবাবু। একসময় যখন তিনি কংগ্রেসে ছিলেন তখন থেকেই সুপরিচত এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ তিনি। ফলে সুদীপ শিবিরের দাবি তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করা হোক। অন্যদিকে, রাজ্য সভাপতি বিপ্লববাবুর শিবিরের লোকেরা বলছেন, সুদীপবাবু নির্ভরযোগ্যই নন। সেই কারণে ত্রিপুরায় যখন কংগ্রেসের শাসন ছিল তখনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি তাঁকে। এছাড়াও, কংগ্রেস ছাড়ার পর দিনকয়েকের জন্য তৃণমূলেও ‘ঢুঁ’ মেরে যান তিনি। ফলে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও সন্দেহের অবকাশ থাকছে। এমনটাই মত বিপ্লববাবুর অনুগামীদের।

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার বিষয়ে বিপ্লববাবু অবশ্য এককদম এগিয়ে রয়েছেন তাঁর আরএসএস যোগের জন্য। সঙ্ঘের পছন্দসই ব্যক্তি হিসাবে সুনাম রয়েছে তাঁর। একই সঙ্গে দলের পুরনো সংগঠক হিসাবেও খ্যাতি রয়েছে তাঁর। কিন্তু দক্ষ রাজনীতিবিদ হিসাবে সুদীপবাবুকে কোনও ভাবেই অস্বীকার করা যায়না। ২০১৩ সালে ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচনের সময় কংগ্রেসের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর পদপ্রার্থী হিসাবে দাঁড়িয়েছিলেন সুদীপবাবুই। বলাই বাহুল্য মানিক সরকারের কাছে বিপুল ভোটে হেরে যান তিনি। এবার দলবদল করে ফের একবার মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে নাম লিখিয়েছেন সুদীপ রায় বর্মন।

সবমিলিয়ে ভোটমুখী ত্রিপুরায় বিজেপি জিতবে এমনটা ধরেই এগোচ্ছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন এই নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিপ্লব দেব এবং সুদীপ রায় বর্মন উভয়েই অবশ্য জানেন, এই ক্ষেত্রে মোদী-শাহ জুটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অভিজ্ঞতার দৌড়ে অবশ্য সুদীপবাবু এগিয়ে থাকলেও, আরএসএস যোগের কারণে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার রেসে একধাপ এগিয়েই থাকবেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি বিপ্লব দেব।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here