kolkata bengali news

জেলা ডেস্ক: মঙ্গলবার সন্ধ্যাতেই ঘোষিত হয়েছে এই রাজ্যের ১০টি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীদের নাম। সেই নাম ঘোষণার পরেরদিনই চোখে পড়ল রাজ্যের তিন প্রান্তে তিন বিজেপি প্রার্থীর প্রচার। প্রথমজন নদিয়া জেলার রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী মুকুট মনি অধিকারী, দ্বিতীয়জন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রের গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী দেবাশীষ সামন্ত এবং তৃতীয়জন হাওড়া জেলার সদর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রন্তিদেব সেনগুপ্ত। পেশাগত ভাবে প্রথম দুইজন চিকিৎসক হলেও তৃতীয়জন বর্ষীয়াণ সাংবাদিক। এদিন তিনজনকেই চোখে পড়েছে পায়ে পায়ে প্রচারে নেমে যেতে। দেখা গিয়েছে মানুষের সঙ্গে জনসংযোগে।

‘আমি জন্মগত ভাবে মতুয়া। আমি জানি মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ কত কষ্ট করে আছে। কত সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছে তারা। আমি মতুয়াদের মুখ হয়ে তাদের সমস্যার কথা দিল্লিতে তুলে ধরতে চাই ও তদের সমস্যার সমাধান করতে চাই। আশাকরি মতুয়া সম্প্রদায়ের সবাই আমায় ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন।’ বুধবার রানাঘাটে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে এসে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে এভাবেই কথা বলে নিজেকে মতুয়া সম্প্রদায়ের মুখ দাবি করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন বিজেপি প্রার্থী মুকুট মনি অধিকারী। বুধবার সকালে প্রথমে তিনি উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে মতুয়া মহাসঙ্ঘে যান। পরে সেখান থেকে রানাঘাটে এসে ভোট প্রচার শুরু করেন। ভোটে জয় লাভের বিষয়ে আশাবাদী মুকুট দাবি করেন রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের সমস্ত ভোটার তাকে যেমন আজ পাচ্ছেন, আগামী দিনেও ঠিক তেমনই পাবেন। মুকুট মনি প্রার্থী হওয়ায় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে এদিন বেশ উৎসাহও চোখে পড়ার মতন ছিল।

 

একই রকম ভাবে বুধবার সকাল থেকেই কোমর বেঁধে প্রচারে নেমে পড়লেন কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দেবাশীষ সামন্ত। দীঘা-নন্দকুমার সড়কের পাশে থাকা নাচিন্দা মন্দিরে পুজো দিয়ে এদিন প্রচার শুরু করলেন কাঁথি লোকসভার কেন্দ্রের এই বিজেপি প্রার্থী। বুধবার সকালে দেবাশিষবাবু প্রথমে কাঁথির খড়গপুর বাইপাসে বিজেপি দলীয় পাটি অফিসে এলে কর্মীরা তাকে বরণ করে নেয়। তারপরেই বিজেপি জেলা সভাপতি তপন মাইতি সহ শতাধিক কর্মীদের নিয়ে তিনি নাচিন্দা মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন। পুজো দেওয়ার পরই দেবাশীষবাবু কর্মী সর্মথক নিয়ে এলাকায় ভোট প্রচার শুরু করেন। বিজেপি প্রার্থী হাওয়ার পরে এলাকায় প্রার্থী নামে দেওয়াল লিখন শুরু হয়েছে। কাঁথির বিজেপি প্রার্থী দেবাশিষবাবু আগে ভগবানপুরের তৃণমূল নেতা ছিলেন। দলের জন্য তিনি চাকুরি ছেড়ে দেন বলেও জানা গেছে। পরে তিনি আবার তৃণমূলের উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে দল ছেড়ে দেন। তারপর এক বছর আগে বিজেপিতে যোগ দেন। চিকিৎসক দেবাশীষ সামন্তর ভোট যুদ্ধে এই প্রথম আসা। কাঁথির পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ শিশির অধিকারীর সঙ্গে তিনি কতটা পাল্লা দিতে পারেন এখন সেটাই দেখার বিষয়।

অন্যদিকে, ‘নরেন্দ্র মোদির হাত শক্ত করার জন্য আমাকে ভোট দিন। দেশের সাবভৌমত্ব, সুরক্ষা বজায় রাখার জন্য নরেন্দ্র মোদি কেই দরকার আরো ১০-১৫ বছর।’ এই কথা বলেই এদিন থেকে হাওড়া লোকসভা কেন্দ্রে প্রচার শুরু করলেন হাওড়া লোকসভায় বিজেপির প্রার্থী রন্তিদেব সেনগুপ্ত। অন্যান্য সব দলের প্রার্থী ঘোষণার পর মঙ্গলবার বিজেপির পক্ষ থেকে ওনার নাম ঘোষণা করা হ্বারবাংলার বিশিষ্ট সাংবাদিক বরুন সেনগুপ্তের দীর্ঘদিনের সহকর্মী পেশায় সাংবাদিক এখন নিজের স্বভাবসিদ্ধ ঢঙেই নিজেকে বহিরাগত প্রার্থী হওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে মন দিয়েছেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারে। হাওড়ার উন্নয়ন নিয়ে এদিন তিনি বলেন, ‘শুধু কিছু লাইট রাস্তায় লাগিয়ে দেওয়া উন্নয়ন নয়, সাধারণ মানুষ শান্তিতে নেই।’ সিন্ডিকেটরাজ নিয়েও তৃণমূল কংগ্রেসকে একহাত নেন তিনি। ভোটের ফলাফল যাই হোক তিনি হওড়াবাসীর পাশে যে আগামি দিনেও থাকবেন সে কথাও জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here