bjp tmc

bjp tmc

মহানগর ডেস্ক: ‘বিধায়ককে বহিস্কৃত না করলে আমরা দল ছেড়ে দেবো’শান্তিপুরের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর ঠিক এই ভাষাতেই ক্ষোভ উগরে দিলেন গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হওয়া বিজেপি নেতা বিপ্লব শিকদারের পরিবার। উল্লেখ্য ২০১৮ সালের ২৩শে মে পঞ্চায়েত নির্বাচনের কয়েক দিন পরেই নিজের বাড়িতেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হন নদীয়া শান্তিপুর থানার হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাকার বিজেপি বুথ সভাপতি বিপ্লব শিকদার। মূলত বিপ্লব শিকদারের নেতৃত্বেই এলাকায় পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপি জয় লাভ করে।এরপর সন্ধ্যা বেলা নিজের বাড়িতে খেতে বসার সময়েই কয়েক জন দুষ্কৃতী তার বাড়িতে চড়াও হয়। বিপ্লব শিকদার কে লক্ষ্য করে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিও চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। অভিযোগ ওঠে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য ও তার অনুগামীদের বিরুদ্ধে।যদিও অভিযোগ দায়ের করার পর এখনো সুবিচার পাননি বিপ্লব শিকদারের পরিবার। এই অবস্থায় বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ফলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তারা।তাদের দাবি এত দিন যখন আমরা কোনো বিচার পাইনি এখন তো তাহলে আর বিচার পাওয়ার কোন আশাই করতে পারিনা। অবিলম্বে অরিন্দম ভট্টাচার্য কে দল থেকে বহিষ্কৃত না করা হলে আমরা বিজেপি দলটির সঙ্গে আর থাকব না।

প্রসঙ্গত, ঘাসফুল ছেড়ে পদ্ম শিবিরে যাওয়ার যে হিড়িক শুরু হয়েছে, সেই দলবদলের ‘ট্রেন্ডে’ আরও এক বিধায়ক হারায় তৃণমূল-কংগ্রেস। বুধবার দিল্লিতে সটান বিজেপির সদর দফতরে এসে হাজির হন নদীয়ার শান্তিপুরের বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য। দেখা করেন বিজেপি কেন্দ্রীয় সদস্য কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের সঙ্গে।

অরিন্দম ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক জীবন শুরু কংগ্রেসের হাত ধরে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস ও বামজোটের প্রার্থী হিসেবে শান্তিপুর থেকে লড়াই করেছিলেন অরিন্দম ভট্টাচার্য। তিনি ছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী। নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অজয় দে-কে ১৯ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে ছিলেন অরিন্দম ।

এরপর ২০১৭-এর ২১ এপ্রিল তিনি তৃণমূলে যোগদান করেন তিনি। সেই সময় অরিন্দম ভট্টাচার্য ছিলেন যুব কংগ্রেসের সভাপতি। তাঁর সঙ্গেই সেদিন তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন রানাঘাট উত্তর পশ্চিম কেন্দ্রের বিধায়ক শঙ্কর সিংহ। একদিকে যেমন সেই সময় কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ৪৪ থেকে কমে ৩৬ হয়েছিল, ঠিক তেমনই নদীয়ায় তৃণমূল বিধায়কের সংখ্যা ১৭ এর মধ্যে ১৬ হয়েছিল। তবে অরিন্দম ভট্টাচার্যের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকে শান্তিপুরে তৃণমূল শিবির দুভাগে ভাগ হয়ে যায়। একদিকে অজয় দে, অন্যদিকে অরিন্দম ভট্টাচার্য।
রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ছে শান্তিপুর বিধানসভা। লোকসভা নির্বাচনে রানাঘাট কেন্দ্রে ভরাডুবি হয় তৃণমূল কংগ্রেসের। শান্তিপুরের ছটি পঞ্চায়েতের মধ্যে পাঁচটিতে পরাজিত হয়েছিল তৃণমূল। এলাকায় বিজেপির ভোট বৃদ্ধির পর থেকেই অরিন্দম ভট্টাচার্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে জল্পনা চরমে ওঠে। অন্যদিকে এলাকার বিজেপি কর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়। যদিও সেই সময় অরিন্দম ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, তিনি দল পরিবর্তন করছেন না। তার নামে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

২০২১-এর জানুয়ারিতে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা হলেও, গত ডিসেম্বরের শেষে অরিন্দম ভট্টাচার্য ঘটা করে সরকারের বঙ্গধ্বনি যাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। সেই ছবি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রোফাইলে আপলোড করেছিলেন। কিন্তু একমাস যেতে না যেতেই পদ্মের দিকে ঝুঁকে পড়লেন নদীয়ার এই তৃণমূল বিধায়ক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here