kolkata news

নিজস্ব প্রতিনিধি : ভাঙা কোমর নিয়ে লড়তে গিয়েই মুখ থুবড়ে পড়েছে বিজেপি! অন্তত গেরুয়া শিবিরের একাংশে পাক খাচ্ছে এমন আলোচনাই। তবে এ ব্যাপারে দলের অন্দরে এখনও সেভাবে উচ্চবাচ্য করেননি কেউ। যদিও বিস্ফোরণ হতে কতক্ষণ!

হাওয়া ছিল গেরুয়া পালেই। প্রচারে ঝড়ও তুলেছিলেন। তার পরেও শেষ রক্ষা হয়নি।  বিজেপি নেতাদের আশার বেলুন গিয়েছে চুপসে।  কারণ কী? এর একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রবীণ বিজেপি নেতা তথাগত রায়। তাঁর মূল্যায়ন, ‘নগর নটী’দের টিকিট দেওয়ায়ই বিপর্যয় হয়েছে বিজেপির।এনিয়ে হইচই কম হয়নি গেরুয়া শিবিরের অন্দরে। তথাগতকে তলব করা হয়েছে দিল্লিতে। কৈফিয়ত দিতে রাজধানীর উড়ান ধরেছেন তিনি। তথাগতের ব্যাখ্যার সঙ্গে সহমত পোষণ করেন বিজেপির অনেকেই। তবে উচ্চ নেতৃত্বের শাস্তির খাঁড়ার মুখে পড়তে হবে ভেবে মুখে কুলুপ এঁটেছেন এঁরা। 

‘নগর নটী’র তত্ত্ব ছাড়াও আরও একটি ‘সত্যকথন’ আবডালে করছেন বিজেপি নেতাদের একটা বড় অংশ। তবে সেকথাও উচ্চকিত হয়ে বলার সাহস নেই অনেকেরই। তাঁরা বলছেন, ভাঙা কোমরে লড়তে গিয়েই স্বখাত সলিলে ডুবেছে গেরুয়া শিবির।

বিষয়টি খোলসা করেছেন বিজেপির ওই নেতাদের কেউ কেউ। তাঁদের মতে, রাজ্যের চৌত্রিশ হাজারেরও বেশি বুথে সংগঠনই নেই বিজেপির। দলের শীর্ষ নেতারা সেদিকে নজর না দিয়ে ‘গ্যাস’ খেয়ে গিয়েছেন নিচুতলার কয়েকজন নেতার কথায়। যাঁদের না আছে জনভিত্তি, না আছে সংগঠন গড়ার ক্ষমতা! স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের অনেক বুথেই ভোট হয়েছে যেখানে পোস্টার সাঁটিয়েছে ভাড়াটে লোকজন। এই একই অনুযোগ করেছিলেন তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলও। তিনিও  বলেছিলেন, অনেক জায়গায়ই পোস্টার সাঁটানোর লোক ছিল না বিজেপির।

বিজেপির যে নেতারা ভাঙা সংগঠনের কথা বলছেন, দলে তাঁরা এখনও ব্রাত্যই রয়ে গিয়েছেন। ক্ষমতা না পাওয়ায় ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাচ্ছেন না তাঁরা। তাই ভাঙা কোমর জোড়া লাগেনি। বলা ভালো, লাগানোর চেষ্টাই হয়নি। এর খেসারত দিতে হবে বিজেপিকেই। হয়তো ‘২৬এর লোকসভা নির্বাচনেও বিরোধী বেঞ্চেই বসতে হবে এ রাজ্যের বিজেপি নেতাদের। বাম-কংগ্রেসের মতো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও অমূলক নয়। বিজেপি নেতারা ভেবে দেখেছেন তো?      

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here