ডেস্ক: গ্রাম বাংলার মাটিতে এখনও যে মমতা ম্যাজিক অটুট তা বোঝা গেল শনিবার তৃণমূলের সমাবেশে৷ মেদিনিপুর কলেজ মাঠে এদিনের সভায় সবচেয়ে বড় চমক ছিল বিজেপির আহত সমর্থকরা৷ তাঁরা যোগ দিলেন এই বিপুল ভিড়ের সমাবেশে৷ এছাড়াও বিজেপির বিভিন্ন মণ্ডলের সভাপতিরা এই সমাবেশে যোগ দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস যোগ দিতে চান বলেও ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন বলে দাবি মহা-সচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের৷

বাপের ব্যাটা হলে আমি মিথ্যা বলছি প্রমাণ কর, মোদীকে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের

কিন্তু কিভাবে এটা সম্ভব হল? আসলে পার্থক্যটা গড়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং৷ মানবিক মমতার কাছেই মুখ থুবড়ে পড়ল নরেন্দ্র মোদী তথা বিজেপির রণকৌশল। ঠিক এই জায়গাতেই গত ১৬ জুলাই নরেন্দ্র মোদীর সভায় শামিয়ানা ভেঙে পড়ে আহত হন ৯০ জন বিজেপি সমর্থক। তৎক্ষণাৎ আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি কার হয়। মিটিং শেষে মোদী অবশ্য আহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন৷ কিন্তু রাজ্য বিজেপি কিংবা মোদীর পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্যেক কোনও প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়নি৷ এবং পরবর্তী সময়ে স্থানীয় কোনও বিজেপি নেতাকে হাসপাতালের ধারে কাছে ঘেঁষতে দেখা যায়নি৷

শামিয়ানায় ফেল মোদী, মেদিনীপুরের মাঠ কাঁপাল ঘাসফুল

অথচ, নিজের ব্যস্ত সময় এবং কর্মসূচি কাটাছাঁট করতে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই আহত সহ-নাগরিকদের দেখতে ছুটে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ লোক দেখানো নয়, আহতদের হাতে সাহায্য তুলে দিয়েছিলেন আর্থিক সাহায্য। যা কল্পতরু মমতার মানবিক মুখকে বিজেপির আহত সমর্থকদের আকৃষ্ট করেছে৷ শনিবার তৃণমূলের পাল্টা সভাতে আহত বিজেপি কর্মীরা উপস্থিত হয়েছেন৷ শুধু তাই নয়, বিজেপি ছেড়ে তাঁর যোগ দিচ্ছেন ঘাসফুল শিবিরে। এদের প্রত্যেকেরই দাবি, ওই দিন নরেন্দ্র মোদী চোখের দেখা দেখতে এলেও, পাশে পাওয়া যায়নি এলাকার কোনও বিজেপি নেতাকে৷ তাঁরা বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী এসে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা, চিকিৎসা খরচ দিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এলাকার তৃণমূল নেতাদের বলে গিয়েছেন, আহতদের পাশে দাঁড়াতে। সমস্ত অসুবিধায় পাশে থাকতে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মানবিকতা বোধ আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। তাই আর বিজেপি নয়, আমরা তৃণমূলের সঙ্গেই থাকতে চাই৷’

উল্লেখ্য, মমতা মুখে যা বলেন সেটাই করেন ফের একবার প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনি৷ কেবল প্রতিশ্রুতিতে থেমে থাকা নয়, মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে চিকিৎসার জন্য আহতদের ১ লক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা সাহায্য করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই হাসপাতালে চেক দিয়ে আসেন আসেন সরকারি আধিকারিকরা। চেক হাতে পাওয়ার পর হাসপাতালের বেডে শুয়ে আবেগে চোখ ছলছল করছিল সুমিত্রা মাহাত, শকুন্তলা মাহাতো, কৌশিক মাহাতো, সুখদা মাহাতো, সূর্যকান্ত চন্দ্র, উত্তম দাসদের। এবং এদিন তাঁরা পদ্মফুল প্রত্যাখান করে তৃণমূলের সমাবেশে দেন৷

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here