ডেস্ক: পঞ্চায়েত নির্বাচনকে মাথায় রেখে লোকসভা নির্বাচনে শান্তি বজায় রাখতে বাংলার প্রত্যেকটি বুথকে অতি স্পর্শকাতর বলে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে বিজেপি। যদিও বিজেপির এই দাবিকে অমূলক বলে দাবি করে, শুক্রবার এর প্রতিবাদে রানি রাসমণি রোডে ধর্নায় বসেছে তৃণমূলের মহিলা সেল। যার নেতৃত্বে রয়েছেন তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তবে তৃণমূলকে পাল্টা দিতে এবার মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিল বিজেপিও। রানি রাসমণি রোডের যেখানে তৃণমূল ধর্নায় বসেছে তার ঠিক পাশেই এবার ধর্নায় বসার সিদ্ধান্ত নিল বিজেপিও।

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের সমস্ত বুথকে অতি স্পর্শকাতর তকমা দেওয়ার দাবিতে গান্ধী মূর্তীর পাদদেশে ধর্নায় বসবে বিজেপি। এবং সেই ধর্না মঞ্চে থাকবেন বিজেপির দিলীপ ঘোষ, ভারতী ঘোষের মতো নেতৃত্বরা। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সামনে দিলীপ ঘোষের দাবি, ‘সারা পশ্চিমবঙ্গ যে স্পর্শকাতর তা একটা বাচ্চা ছেলেও জানে। এই বাংলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীদের মনোনয়ন পেশ করতে দেওয়া হয়নি। বিরোধীদের উপর হামলার সমস্ত তথ্য প্রমাণ নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছি আমরা।’ অন্যদিকে, বাংলা স্পর্শকাতর বিজেপির তরফে এই দাবি ওঠার পরই বিজেপি বাংলাকে অপমান করেছে এই অভিযোগে এবং ওই তকমা না দেওয়ার দাবিতে এদিন ধর্নায় বসেছেন তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সহ একাধিক তৃণমূলের মহিলা সেল। এই প্রসঙ্গে চন্দ্রিমার দাবি, ‘এদের দাবি দেখে মনে হচ্ছে বাংলার সাড়ে ৯ কোটি মানুষ প্রতিদিন লড়াই করছে। এই দাবি তুলে বাংলার মানুষকে অপমান করছে বিজেপি। আগেও এখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছে। কিন্তু তার পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর বাংলার মানুষের সমর্থন আরও বেড়েছে।’

উল্লেখ্য, বাংলার সমস্ত বুথকে অতি স্পর্শকাতর তকমা দেওয়া হোক এই দাবিতে বুধবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে আবেদন জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ ও মুকুল রায়ের মতো নেতারা। এই আবেদনের পরই বিষয়টির খতিয়ে দেখার জন্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছ রিপোর্ট চেয়ে পাঠায় কমিশন। যদিও বিজেপির এই দাবির পর তীব্র প্রতিবাদ জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট ভাবে তিনি দাবি করেন, ‘বাংলা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ রাজ্য। এই ধরণের দাবি তুলে বাংলাকে অপমান করছে বিজেপি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here