নিজস্ব প্রতিবেদক, বালুরঘাট: কেউ বলছেন এ ঘটনা গেরুয়া শিবিরের অন্তর্দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ, আবার কেউ বলছেন গেরুয়া শিবিরে ঝামেলা লাগাতে শাসক শিবিরের চাল। আবার কারও কারও অভিমত এ কম্ম কিছু অতি উৎসাহী অনুগামীদের। যারা নেতার নামে দেওয়াল লিখে ফেলেছিলেন। ঘটনার পিছনের সত্য যাই হোক না কেন সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে তার জল গড়িয়েছে অনেকটাই। ঘটনার জেরে সব থেকে বেশি অস্বস্তিতে পড়েছেন বিজেপির সেই নেতা যার নামে এই দেওয়াল লিখন হয়েছিল। লেখাতা আর কিছুই নয়, ওই নেতাকে চলতি লোকসভার নির্বাচনে রাজ্যের দক্ষিন দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট আসনে বিজেপির প্রার্থী হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। নেতাটি অবশ্য যে কেউ সে নয়, তিনি জেলার বিজেপি সভাপতি শুভেন্দু সরকার।

দক্ষিন দিনাজপুর জেলার সদর শহর বালুরঘাটের যুবশ্রী মোড় এলাকায় কয়েকদিন আগে একটি দেওয়াল লিখনে দেখা গিয়েছিল, বালুরঘাট আসনে বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন দলের জেলা সভাপতি শুভেন্দু সরকার। কিন্তু ঘটনাচক্রে বিজেপি এখনও তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণাই করেনি। স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি নিয়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়। পরে কেউ আবার সেই দেওয়াল লিখনে প্রার্থীর নামটি মুছেও দেয়। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সেই দেওয়াল লিখন কার্যত ছড়িয়ে পড়েছে গোটা জেলা জুড়েই। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেশ অস্বস্তিতে পড়তে হয় শুভেন্দুবাবুকে। পরে তিনি এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘এটি একটি ঘৃণ্য চক্রান্ত। বিজেপির কোনও প্রার্থীর নাম এখনও ঘোষিত হয়নি। আমি বিষয়টি জানা মাত্রই ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নিয়েছি। যদিও আমি সেখানে গিয়ে তেমন কিছুই পাইনি। হয়তো বিজেপির মধ্যে দ্বন্দ্ব লাগাবার জন্য কেউ একাজ করতে পারে। তবে যিনি একাজ করেছেন তিনি বিজেপির শুভাকাঙ্খী নন। খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি আমার নাম প্রার্থী হিসাবে লিখে ছবি তুলেই তা আবার মুছে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দলীয় স্তরে তদন্ত হবে। পুরো ঘটনাটি জানিয়ে রাজ্য নেতৃত্বকে অবগত করিয়েছি। তবে এসব নোংরামি করে বিজেপিকে আটকানো যাবে না।’

 

এই যখন বিজেপির ভুক্তভোগী নেতার দাবি, তখন শাসক শিবির থেকে দাবি করা হচ্ছে গেরুয়া শিবিরের অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। দল ওই আসনে কোন প্রার্থীর নাম ঘোষণাই করেনি। অথচ জেলা সভাপতির নামে দেওয়াল লেখা হয়ে গেল। এটা যদি দলের উঁচু তলার নেতারা জানতে পারেন তাহলে শুভেন্দুবাবুর কপালে যদিও বা প্রার্থী পদ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকত সেটাও নষ্ট হয়ে যাবে। পাশাপাশি তার পদ নিয়েও টানাপোড়েন চলতে পারে। আসলে হয়ত শুভেন্দুবাবুকে দলে কোনঠাসা করতেই এই ঘটনা ঘটনো হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারনা শুভেন্দুবাবুরই কোন অনুগামী অতিউৎসাহী হয়ে এই ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here