ডেস্ক: লোকসভা ভোটের এখনও বাকি বেশকিছু মাস। কিন্তু রাজনৈতিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে কিছু মাসের ব্যাপারটা নিতান্তই সামান্য। আর লোকসভা ভোটের জন্য বাংলা যে বিজেপির কাছে অন্যতম বড় ফ্যাক্টর তা বলাই বাহুল্য। সেইমতো কাজ শুরু করেছে বঙ্গ বিজেপি ব্রিগেডও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পর্যুদস্ত করতে মাঠে নেমে পড়েছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। ভরা জনসভায় মমতাকে বাক্যবাণে বিদ্ধ করতে এতটুকু কার্পণ্য করছেন না একদা মমতা সঙ্গীই।

উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে এক জনসভায় মুকুল রায় হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন দিবানিদ্রায় রয়েছেন। নিদ্রা থেকে উঠে দেখবেন লোকসভা নির্বাচনে তাঁর দল ২০টি আসনেও জিততে পারে নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, দিদির এখন দুটি কাজ, কাকে কী করে জেলে পাঠানো যায় এবং ভাইপো অভিষেককে কিভাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় সেটা ভাবার। এছাড়া আর কোনও কাজ নেই। মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের মন ভুলিয়েছেন তিনি। লন্ডন হবে বলে লোভ দেখিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু আমরা জানতাম বাংলা লন্ডন হবে না, তবু তাঁর সঙ্গ দিয়েছিলাম। শুধু চেয়েছিলাম বাংলায় গণতন্ত্র ফিরে আসুক, কিন্তু সবই বৃথা। তাঁর সাফ বক্তব্য, জ্যোতি বসু, বুদ্ধবেব ভট্টাচার্যরা যদি রাজ্যকে ৩০ বছর পিছিয়ে দিয়ে থাকেন তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যকে পিছিয়ে দিয়েছেন ১০০ বছর!

এখানেই থামেননি মুকুল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত নিয়ে তিনি আরও বলেন, রাজ্যে নারী নির্যাতন কমানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তা কিচ্ছু কমেনি। উল্টে নারী নির্যাতনে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে। অন্যদিকে, ব্রিজ বিপর্যয়, আগুন, বিস্ফোরণের একের পর এক ঘটনায় রাজ্য অশান্ত, আতঙ্কিত। এর জবাব তাঁকে দিতেই হবে দাবি করেন মুকুল রায়। এর পাশাপাশি পঞ্চায়েত ভোট নিয়েও মমতাকে একহাত নিতে ছাড়েন নি তিনি। তাঁর বক্তব্য, যেভাবে পঞ্চায়েত ভোট হয়েছে তা সকলেই জানেন। বিরোধীদের গলা টিপে যেভাবে শাসন চালাচ্ছে শাসকদল তার প্রতিবাদ করতেই হবে। এই বিষয়েই আসন্ন লোকসভাকে মাথায় রেখে তৃণমূল বিরোধীতায় কংগ্রেস, সিপিআইএম ও ফরওয়ার্ড ব্লক কর্মীদের জোটবদ্ধ হতে আহ্বান জানান বিজেপি নেতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here