দুর্ঘটনার পর ঘুম ভাঙল! আগামী বছর থেকে কচুয়ায় মেলা আয়োজনের ব্যবস্থা করবে সরকার

0
92

নিজস্ব প্রতিবেদক, বারাসত: কচুয়া ধামে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার দায় রাজ্য প্রশাসনের। ভিড় সামলাতে ব্যর্থ পুলিশ। শুক্রবার বিকালে বারাসত জেলা হাসপাতালে কচুয়া মন্দিরের দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে এসে এমনই অভিযোগে সরব হলেন বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু। পুলিশের জন্যই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ কেন লাঠিচার্জ করতে গেল? ভিড় সামলাতে ব্যর্থ পুলিশ।’ এপ্রসঙ্গে রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও অভিযোগের কাঠগড়ায় তুলেছেন সায়ন্তন বসু। তাঁর কথায়, ‘পুলিশকে কেন ভিড় সামলানোর ব্যাপারে প্রস্তুত করা হয়নি। এদিনের দুর্ঘটনার জন্য পুলিশমন্ত্রী সম্পূর্ণভাবে দায়ী। রাজ্য প্রশাসনকে এই দায় নিতে হবে.’

যদিও এদিনের দুর্ঘটনার জন্য মন্দির কমিটিকে অভিযোগের কাঠগড়ায় তুলেছিলেন রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তার জবাব দিয়ে সায়ন্তন বসু বলেন, ‘এটা আইন-শৃঙ্খলার ব্যাপার। মন্দির কমিটির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্ব নয়। এটা পুলিশের দায়িত্ব। কিন্তু পুলিশ যে এই দায়িত্ব সামলাতে, ভিড় সামাল দিতে ব্যর্থ- তার প্রমাণ আগেও মিলেছে।’ একইসঙ্গে নতুন করে মন্দির কমিটি গড়া প্রসঙ্গে বিজেপি নেতার কটাক্ষ, ‘আরেকটা মন্দির কমিটি গঠন করে আসলে হস্তক্ষেপ করতে চায় সরকার।’ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এরকম অনেক কমিটি গঠিত হয়েছে এবং ফিরহাদ হাকিম সহ তৃণমূলের বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রীরা কমিটিগুলির মাথায় থেকে সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে বলেও তোপ দাগেন সায়ন্তন। মন্দির কমিটির বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা দোকানগুলি থেকে টাকা তোলার যে অভিযোগ জ্যোতিপ্রিয় করেছেন, তার জবাবে সায়ন্তনের পাল্টা প্রশ্ন, ‘এলাকার পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদ, বিধায়ক, সাংসদ- সবই তো তৃণমূলের। তাহলে এতদিন ধরে তারা কী করছিল? ঘুমোচ্ছিল?’ এপ্রসঙ্গে মিড-ডে মিলে দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে সরাসরি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে আক্রমণ করে বিজেপি নেতার মন্তব্য, ‘আগে মিড ডে মিল এর ডিম টা ফেরৎ দিন তার পর ট্রাস্টি বোর্ড নিয়ে চিন্তা করবেন।’

কচুয়া ধামে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার খবর পেয়ে এদিন সকালেই সেখানে ছুটে গিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভোররাতের দুর্ঘটনার জন্য কচুয়ার লোকনাথ মন্দির কমিটিকে দায়ী করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের তরফে বহুবার বলা সত্ত্বেও মন্দিরে পুজো দেওয়ার ব্যাপারে প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করতে দেয়নি মন্দির কমিটি। চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী যেরকম চলে আসছে, তার ব্যতিক্রম করতে চায়নি। এমনকি প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই রাস্তার ধারে অস্থায়ী দোকান বসেছিল এবং মন্দির কমিটি এই দোকানগুলি থেকে টাকা তুলত বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে কেবল অভিযোগ তুলেই থেমে থাকেননি মন্ত্রী, এই দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সরকার তার ব্যবস্থা করবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। নতুন করে মন্দির কমিটি গঠন করা হবে এবং মেলার আগে মন্দির কমিটিকে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করতে হবে নির্দেশ দিয়ে জ্যোতিপ্রিয় বলেন, ‘২-৩ মাস আগে মেলা করার ব্যাপারে মন্দির কমিটিকে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করতে হবে। আমরা মন্দির চত্বরে জলের লাইন, পাকা রাস্তা করে দেব এবং মেলার সময় ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা ঘিরে দেওয়া হবে। যাতে ওই রাস্তা দিয়ে কেবল একজনই যেতে পারবে। সে জল ঢেলে বেরিয়ে আসার পর আরেকজন ঢুকতে পারবে। নির্দিষ্ট লাইন করে গিয়েই পুণ্যার্থীরা জল ঢালবেন।’

প্রসঙ্গত, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে লোকনাথের মাথায় জল ঢালতে এবার কচুয়ায় রেকর্ড সংখ্যক ভিড় হয়। তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মাঝরাত থেকে পুণ্যার্থীরা মন্দিরে জল ঢালতে যান। অগণিত পুণ্যার্থীর ভিড় আর তুমুল বৃষ্টিতেই ভোররাত তিনটে নাগাদ ঘটে যায় বিপর্যয়। মন্দিরের পাশের পাঁচিল ভেঙে গিয়ে আহত হন পুণ্যার্থীরা। পুকুরে পড়ে যান অনেকে। তারপর ভিড় হটাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেন পুণ্যার্থীরা। তখনই পদপিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় অপর্ণা সরকার, পূর্ণিমা গড়াই ও তরুণ মণ্ডলের। গুরুতর আহত হন কমপক্ষে ১৬ জন। পরে হাসপাতালে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনার খবর পেয়েই এদিন সকালে আহতদের দেখতে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও এসএসকেএম হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা, গুরুতর আহতদের ১ লক্ষ টাকা ও সামান্য আহতদের ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও ঘোষণা করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here