suvendu adhikari
খেজুরির সভায় শুভেন্দু।
suvendu adhikari
খেজুরির সভায় শুভেন্দু।

মহানগর ডেস্ক: সোমবার দক্ষিণ কলকাতার পদযাত্রায় শামিল হয়ে বলেছিলেন সব কিছুর উত্তর তিনি খেজুরির সভায় দেবেন। কিন্তু, খেজুরির সভা থেকে তৃণমূলনেত্রীর দিকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছোড়ার ভঙ্গিতে বললেন, দু’জায়গায় নয়, আপনাকে নন্দীগ্রাম থেকেই লড়তে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে খেজুরির সভা থেকে ঠিক এই ভাষাতেই চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে মমতা ভোটের সময় পাঁচ বছর অন্তর  আসেন বলেও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। সভায় বাবুল সুপ্রিয় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রামে দাঁড়াতে চাইছেন কারণ ভবানীপুর কেন্দ্রে হারার ভয় পেয়েছেন ।

সোমবার নন্দীগ্রামের সভা থেকে তৃণমূল নেত্রী ঘোষণা করেন, তিনি নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হতে পারেন। তার জবাবে আজ মঙ্গলবার বিজেপির সভা ছিল খেজুরিতে। সভায় শুভেন্দুর পাশাপাশি ছিলেন বাবুল সুপ্রিয় ও লকেট চট্টোপাধ্যায়। ছিলেন বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বও।

সভায় শুভেন্দু বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক ভাবে হতাশ হয়ে পড়েছেন। কোথায় সভা করছেন, তা-ও বলতে পারছেন না। নন্দীগ্রামের শহিদদের নামও কাগজ দেখে পড়তে হচ্ছে। ভোটের জন্য পাঁচ বছর পর পর আসেন।’’ তবে কবে, কোথায়, কী ঘটনা ঘটেছিল সব তাঁর মুখস্থ বলে জানিয়ে এক এক করে পর পর শুনিয়ে যান নন্দীগ্রামের শহিদদের নাম। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় কার কবে মৃত্যু হয়েছিল, সে সব ইতিহাসও বলে যান ‘ভূমিপুত্র’ শুভেন্দু।

দু’জায়গায় প্রার্থী হওয়ার প্রসঙ্গে মমতা সোমবার বলেছিলেন ভবানীপুর বড় বোন আর নন্দীগ্রাম হল মেজো বোন। সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘‘বড় বোন, মেজো বোন, যাই হোক, দু’জায়গায় কোথাও দাঁড়াতে দেব না আপনাকে। নন্দীগ্রামেই দাঁড়াতে হবে। কিন্তু কার ভরসায় নন্দীগ্রামে দাঁড়াবেন? আমপানের টাকা চোর, আর এখন বলছে করোনার টিকা চোর। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর লেটারপ্যাড তৈরি রাখুন।’’

এই সভাতেই শুভেন্দু সিঙ্গুরের কথাও টেনে আনেন। তাঁর কথায়, ‘‘উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সিঙ্গুরের ইতিহাস লিখেছেন। তার একটা অংশ পাঠ্য বইয়েও রয়েছে। কিন্তু সেখানে নন্দীগ্রামের জন্য এক লাইনও নেই। উনি আসলে নন্দীগ্রামকে ভুলে গিয়েছেন। আমি সিঙ্গুরকে ছোট করতে চাই না। কারণ সিঙ্গুরে শুকনো ঘাসফুলকে সরিয়ে পদ্ম ফুটিয়েছেন লকেট চট্টোপাধ্যায়।’’

শুভেন্দু এ দিন সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নিয়েই স্লোগান দেন, ‘‘তোলাবাজ ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হঠাও।’’ মমতাকে নিশানা করে শুভেন্দুর কটাক্ষ, উনি তোলাশ্রী, মিথ্যাশ্রী পুরস্কার পাবেন।

তবে এ দিন শুভেন্দুর সভায় যোগ দিতে আসার পথে আক্রান্ত হন বিজেপি কর্মীরা। অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের দিকে। এই নিয়ে শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, ‘‘পুলিশকে সাত দিন সময় দিলাম। তার পর আমি তমলুকে বসে থাকব।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here