মহানগর ওয়েবডেক্স: ত্রাণের টাকা নিয়ে দুর্নীতি হচ্ছে এই অভিযোগে উত্তর প্রদেশের বিজেপি’র বিধায়ক কোভিড–১৯ অতিমারীর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য দেওয়া অনুদানের টাকা ফেরত চাইল। হরদই বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক শ্যাম প্রকাশ ভেন্টিলেটর ও পিপিই কেনার জন্য তার এমএলএল্যাড থেকে ২৫ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছিলেন। এখন সরকারের কাছ থেকে সেই টাকা ফেরত চাওয়ায় উত্তর প্রদেশের শাসকদল যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছে।

একটি সংবাদ মাধ্যম (নিউজক্লিক) কে বিধায়ক জানান, তিনি যে টাকা অনুদান হিসেবে দিয়েছিলেন সেই টাকার হিসেব চাওয়ায় তাকে কোনও উত্তর দেওয়া হয়নি। তারপরই তিনি কেনাবেচার মাধ্যমে দুর্নীতির বিষয়টি জানতে পারেন। এখন তিনি চাইছেন সেই টাকা তাঁর এলাকার উন্নয়নে কাজে লাগাবেন। তিনি বলেন, ”আমি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় স্তরে চলা এই দুর্নীতির বিষয়ে কথা বলব এবং যে টাকা উন্নয়নের জন্য ব্যবহৃত হওয়ার কথা তার এমন অপচয় আমি মেনে নেব না।”

দুর্নীতির বিষয়টি আরও বিস্তারিত ভাবে জানতে চাইলে বিজেপি বিধায়ক শ্যাম প্রকাশ বলেন, সংবাদ মাধ্যম সূত্রে তিনি প্রথম এই দুর্নীতির খবর পান। তখনই তিনি তাঁর দেওয়া টাকার কোথায় কী খরচ হয়েছে সেটা বিশদ জানতে চান। ”আমি জেলার চিফ ডেভলপমেন্ট অফিসারকে চিঠি পাঠিয়েছি কিন্তু এখনও কোনও উত্তর পাইনি। আমি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কেও চিঠি লিখব কারণ আমি জানি উনি কোনও ধরনের দুর্নীতি সহ্য করেন না” বলে জানান বিধায়ক।

শাসক দলের বিধায়ক হয়ে সরকারি বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে হৈচৈ ফেলে দেওয়ার জন্য স্বাভাবিক ভাবেই দল ও সরকারের কোপের মুখে পড়েছে শ্যাম প্রকাশ। এপ্রিলের ২৮ তারিখ দলের সভাপতি বিদ্রোহী বিধায়ককে তাঁর কাজের কারণ দর্শানোর জন্য চিঠি পাঠান। সেই চিঠি পেয়ে অবশ্য বিন্দুমাত্র দমে না গিয়ে হরদই–এর বিধায়ক বলেন, ”আমি কিছু ভুল লিখিনি এবং দলকে উত্তর দেব। আমি দলের বিরুদ্ধে নই, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থেকে দলের বদনাম করছে”। তিনি জানান, কোভিড–১৯ অতিমারীর কারণে এক বছর ধরে এমএলএল্যাড–এ কোনও টাকা পাওয়া যাবে না। ফলে মানুষের টাকা সেখানেই খরচ হওয়া উচিত যেখানে সে টাকার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। এর আগে অবশ্য বদলাপুর, কেরাকাট, মুঙ্গরাবাদ সাহাপুর ও জাফরবাদের বিধায়করাও ত্রাণ তহবিলে দেওয়া টাকা ফেরত চেয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here