news bengali

মহানগর ওয়েবডেস্ক: যত দিন যাচ্ছে কোভিড–১৯ সংক্রমণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভাইরাস সংক্রমণকে সাম্প্রদায়িক মোড়ক দেওয়ার প্রচেষ্টা। তার সাম্প্রতিতম উদাহরণ উত্তর প্রদেশের এক বিজেপি বিধায়কের উক্তি। দেওড়া জেলায় এক বিজেপি বিধায়ক সুরেশ তিওয়ারি জনসমক্ষেই সকলকে মুসলিম বিক্রেতাদের কাছ থেকে সবজি কিনতে বারণ করেন কারণ তিনি জানান, ”সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিক্রেতারা সবজিতে লালারস লাগিয়ে সংক্রামিত করে দিচ্ছে এমন অনেক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।”

স্যোশাল মিডিয়ায় প্রচারিত একটি ভিডিও–য় সেই বিধায়ককে সরকারি অফিসারদের সামনেই বলতেই শোনা যায়, ”একটা কথা মনে রাখবেন, আমি সকলকে খোলাখুলি বলছি, কেউ মিঞাদের (মুসলমান) কাছ থেকে সবজি কিনবেন না”। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এর তরফে সেই বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই কথাটি তিনি গত সপ্তাহে নগর পালিকা অফিস পরিদর্শনে গিয়ে বলেছিলেন যেখানে বহু সরকারি আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। ”একটি সম্প্রদায়ের মানুষ সবজি বিক্রি করার আগে তার মধ্যে লালারস লাগিয়ে দিচ্ছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এই অভিযোগ পেয়ে আমি উপদেশ দিয়েছিলাম, যদি কারও কোনও সন্দেহ থাকে, তাহলে তারা (ক্রেতা) যেন তাদের কাছ থেকে (সবজি) না কেনেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারপর তারা যা চান তাই করবেন” বলে সুরেশ তিওয়ারি সংবাদ মাধ্যমটিকে জানান।

তিনি শুধু মাত্র তার মতামত জানিয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের ওপর নির্ভর করছে তারা কী করবে এই মন্তব্য করে বিধায়ক দিল্লির নিজামউদ্দিনে তবলিঘ–ই–জামাত সভা থেকে কোভিড–১৯ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ”প্রত্যেকেই দেখেছে জামাত সদস্যরা কী করেছে।” নিজামউদ্দিনের জামাত সভার পর একটি ভিডিও স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় যেখানে দেখা যায় কয়েকজন জামাত সদস্য সরকারি আধিকারিকদের গায় থুথু ছিটিয়ে দিচ্ছে। পরবর্তী কালে ওই ভিডিওটি ভুয়ো প্রমাণিত হলেও সেই ভিডিওটির জন্যই টুইটারে ‘করোনাজেহাদ’ শব্দটি ট্রেন্ডিং হয়ে ওঠে।

ভারতীয় জনতা পার্টির একাধিক রাজনীতিবিদ জামাতি সদস্যদের আচরণকে ‘করোনা সন্ত্রাস’ আখ্যা দেন। এই মানষিকতার বিরূদ্ধে চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করে বলেন, এভাবে সংক্রামক ব্যাধির সঙ্গে কোনও একটি সম্প্রদায়কে চিহ্নিত অথবা দোষারোপ করলে সেই সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে সার্বিক ভাবে এক অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হবে, এবং এর ফলে দশকের পর দশক ধরে পোলিও ও যক্ষা চিকিৎসার পরিসরে যে তাদের নিয়ে আসার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে সেই উদ্যোগও ব্যর্থ হবে। যদিও সেই সাবধানবাণী যে কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি সেটি প্রমাণিত হয়ে যায় যখন মুম্বাইয়ের শহরতলি মিরা রোডের এক বাসিন্দা অনলাইনে অর্ডার দেওয়া খাবার নিতে অস্বীকার করেন এই কারণে যে যিনি সেই খাবার দিতে এসেছিলেন তিনি ধর্মীয় পরিচয়ে মুসলমান। পরে সেই ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও প্রচারের ফল যে ফলতে শুরু করেছে সেটি স্পষ্ট হয়ে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here