ডেস্ক: পিতার মৃত্যুর পর ক্লাস সেভেনেই সমাপ্তি ঘটেছিল পড়াশুনার। তারপর চাষবাস করে টেনেছেন সংসার। শেষে রাজনীতির মাঠে পা দিয়ে, বেশ দাপটের চালিয়ে গিয়েছেন রাজনীতি। বর্তমানে রাজস্থানের বসুন্ধরা রাজের সরকারের একজন বিজেপি বিধায়ক তিনি। তবে অশিক্ষিত হওয়ার লজ্জা এতদিন তাড়া করে বেড়াচ্ছিল তাঁকে। শেষে সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেললেন, ধিরে ধিরে এক একটা গণ্ডি টপকাতে টপকাতে আজ ৫৫ বছর বয়সে বিএ প্রথম বর্ষের পরীক্ষা দিতে বসলেন রাজস্থানের বিজেপি বিধায়ক ফুলসিং মিনা।

শিক্ষার সত্যিই যে কোনও বয়স হয় না তার অন্যতম উদাহরণ রাজস্থানের এই বিধায়ক। কিন্তু এত বছর পর কেন হঠাৎ শিক্ষার প্রতি এত আগ্রহ জাগ্ল ফুল সিংয়ের? এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের তিনি জানান, শিক্ষার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে একাধিকবার তিনি ছাত্রছাত্রীদের সামনে ভাষণ দিয়েছেন, কিন্তু তিনি নিজে অশিক্ষিত এই বিষয়টি তাঁকে যন্ত্রনা দিত বারবার। যার জেরেই নতুন করে সবকিছু শুরু করার আগ্রহ জাগে তাঁর মধ্যে। এবিষয়ে তাঁকে উৎসাহিত করতে
এগিয়ে এসেছিল তাঁর ৫ কন্যা। তাঁর কথায়, ‘সেনাকর্মী পিতার মৃত্যুর পর ক্লাস সেভেনেই পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যায়। তারপর চাষবাস করেই সংসারের হাল ধরি। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর আমার মেয়েরাই আমাকে নতুন করে পড়াশুনা শুরু করার উৎসাহ যোগায়। তাঁরা আমাকে বারবার বলে, যেহেতু আমাই একজন বিধায়ক সেক্ষেত্রে সরকারি আধিকারিক থেকে শুরু করে নেতা মন্ত্রীদের সঙ্গে আমাকে চলতে হয় যেখানে পড়াশুনাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। কিন্তু নিজের বয়স দেখে আমি পিছিয়ে আসি। পরে অবশ্য ভেবে দেখি ওরাই ঠিক।’

এবিষয়ে, ওই বিধায়কের তৃতীয় কন্যা দীপিকা বলেন, ‘আমার বাবা যথেষ্ট কাজ করেন যার মধ্যেই তিনি ক্লাস ১০ ও ১২ পাশ করেছেন। এখন গ্রাজুয়েশান করছেন। ওনার জন্য আমরা গর্বিত। তবে রাজনীতিতে থাকার দরুন নিয়মিত ক্লাসে হয়ত যেতে পারেন না উনি, এবে পড়াশুনাটা মনোযোগ শকারেই করেন।’

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here