ত্রুটিপূর্ণ এনআরসির জন্য ‘বাঙালি বিদ্বেষী’ হাজেলাকে দায়ী করলেন বিজেপি সাংসদ

0
607
rajdip kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবসাইড: নাগরিকপঞ্জির তালিকা ইচ্ছাকৃতভাবে ত্রুটিপূর্ণ করেছেন প্রতীক হাজেলা৷ বিস্ফোরক মন্তব্য শিলচরের বাঙালি বিজেপি সাংসদ রাজদীপ রায়ের৷ তাঁর সাফ প্রশ্ন, আদালতেই প্রমাণ দিতে হলে এত খরচ করে এনআরসির কী প্রয়োজন?’,পাশপাশি তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ,’রাজ্যে সুষ্ঠুভাবে এনআরসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে, সুপ্রিম কোর্ট ওই পদটিকে যে সমস্ত ক্ষমতা দিয়েছিল, তার দুর্ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি অসম্পূর্ণ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রায় ১৮০০ কোটি টাকা খরচ করেও একটি শুদ্ধ এনআরসি তৈরি করতে পারেননি সুপ্রিমকোর্ট থেকে নিয়োঝিত প্রতীক হাজেলা৷ তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বাঙালি ও গেরুয়া সংগঠনগুলি পথে নেমে প্রতিবাদ করেছে৷ বনধ করেছে বিভিন্ন অ-অসমিয়া সংগঠন৷ এবার বিজেপির দলের ভেতরেই প্রতিবাদ করছেন বাঙালি সাংসদ, বিধায়করা৷ উল্লেখ্য নমনি অসমের বরাক উপ্যতকায় বাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চলে ১২৬ বিধানসবা আসনের মধ্যে ১৫টি আসন আছে৷ তাছাড়া অসম ভোট রাজনীতিতে হিন্দু বাঙালি ও মুসলিম বাঙালি(মিঞা) নির্ণায়ক ফ্যাক্টর৷ সেখানে নাগরিক পঞ্জিতে হিন্দু ১২ ও মুসলিম ৬ লক্ষ বাঙালি নাগরিকের নাম বাদ পড়েছে৷ ফলে রাজ্যের শাসক বিজেপির বাঙলি সাংসদ, বিধায়করা এর বিরোধিতায় সরব হতে বাধ্য হয়েছেন৷

প্রতীক হাজেলা নিজেদের কায়েমি স্বার্থে অহমিয়াদের সুবিধার্থে পদের পরিস্কার অপব্যবহার করেছেন প্রতীক হাজেলা৷ সোজা কথা শিলচরের বিজেপি বাঙালি সাংসদ রাজদীপ রায়ের৷ এর আগে একই অভিযোগ করেছিলেন বরাক উপত্যকার দাপুটে বিজেপি হিন্দু বাঙালি বিধায়ক শিলাদিত্য দেব৷ রাজদীপের সাফ অভিযোগ, ‘এনআরসি তালিকা সম্পূর্ণ প্রকাশের পরে দেখা গিয়েছে এখানে অনেকের নাম ভুল লেখা হয়েছে ৷ এমনকী তাদের বাবার নামও ভুল দেওয়া হয়েছে৷ আসলে এই তালিকায় সংশোধন করাই হয়নি৷ ১৮০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে নাগরিকপঞ্জি তালিকা প্রস্তুত করতে৷ তবে আমার মনে হয় এতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে’৷ পাশপাশি তিনিহাজেলার বিরুদ্ধে পথে নেমে প্রতিবাদের ইঙ্গিত দিয়েছেন৷ আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিমকোর্টের কাছে এব্যাপারে আবেদনও জানানো হয়েছিল। মহামান্য আদালত প্রতীক হাজেলাকে বেশ কয়েকবার হুঁশিয়ারিও দেন। কিন্তু এতে কোনো কাজ হয়নি, এনআরসি চূড়ান্ত তালিকা ভুলে ভরা এবং এর জন্য দায়ী সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা।’

স্বাধীনতার জন্য যারা লড়াই করে গেছেন তাদের উত্তরসূরিরা আজ এনআরসির তালিকার বাইরে, এটা ভারতবর্ষের কাছে লজ্জার বিষয়। প্রাক্তন সৈনিক থেকে শুরু করে ইসরোর বিজ্ঞানী, সবার নাম বাদ পড়ছে। এনআরসি আধিকারিকদের ভুলের জন্য সাধারণ মানুষকে কোর্টের কাছে গিয়ে নিজের ভারতীয়ত্ব প্রমাণ করতে হবে। এটাই যদি হওয়ার ছিল, তাহলে এত টাকা খরচ করে এই বিশাল প্রক্রিয়া করার কোনও দরকার ছিলনা। আমি এনআরসির বিরুদ্ধে নই, আমরা চাই সারাদেশে প্রত্যেক রাজ্যের এনআরসি হোক। কিন্তু এভাবে অসম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় নয় অত্যন্ত সুন্দর এবং সুষ্ঠভাবে হতে হবে। আমাদের রাজ্যে এনআরসির কাজে নিযুক্ত করা হয়েছিল তাদের কোনও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। একই নথি কোন কোন জায়গায় গ্রহণ করা হয়েছে আবার কেউ কেউ গ্রহণ করেনি। সুপ্রিম কোর্ট থেকে বলা হয়েছিল রিফিউজি কার্ড এবং ক্যাম্প রেজিস্ট্রেশন কার্ডকে গ্রহণযোগ্য বলে ধরা হবে। কিন্তু বিভিন্ন এনএস খেতে আধিকারিকরা এই কথা মানতে রাজি হননি। হলে আজ সাধারণ মানুষ হেনস্তার সম্মুখীন হচ্ছেন।

প্রতীক হাজেলা নাগরিকপঞ্জি তৈরিতে একেবারে স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন৷ কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানে এসে বাংলার বিজেপি সবাপতি দীলিপ ঘোষের সামনে এমন স্পষ্ট অভিযোগ করে গেলেন অসমের শিলচরের বিজেপি বাঙালি বিধায়ক রাজদীপ রায়৷ সম্প্রতি কাছাড় জেলায় এনআরসিতে নাম থাকা ৮২জন ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে বিদেশি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এর বিরোধিতায় সরব হয়েছেন উপত্যকার বিজেপির হিন্দু বাঙালি সাংসদ ও বিধায়করা৷

চলিত মাসের ২০ তারিখ শিলচরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজদীপ রায়ের পিতা প্রয়াত বিমলাংশু রায়ের জন্ম বার্ষিকী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা রাম মাধব শিলচর আসছেন। ২৩ সেপ্টেম্বর রাজ্যের ১৪টি জায়গায় ৩৭০ ধারা লোপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশেষ আলোচনা আয়োজন করেছে বিজেপির রাজ্য কমিটি। শিলচরে এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসবেন নেডার আহ্বায়ক তথা রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি ফের নাগরিকপঞ্জি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করবেন ৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here