kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, নদিয়া: আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সরকারের দেওয়া আমফান ঝড়ের টাকা বিলি নিয়ে স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। উল্লেখ্য, যারা আমফান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন, তাদেরকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করার জন্য কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে রাজ্য সরকারকে এক হাজার কোটি টাকা প্রদান করা হয়। সেইমতো রাজ্য সরকার প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেয়।

কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে যারা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা আর্থিক সাহায্য পাননি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে প্রতিটি পঞ্চায়েত এবং প্রধানের ঘনিষ্ঠরাই টাকা পেয়েছেন। এরপরে বিভিন্ন জায়গায় পঞ্চায়েত অফিস থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়িতেও বিক্ষোভ চলছে সাধারণ মানুষের। যার জেরে প্রশাসনের কাছে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে অনেকে। শুধু শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠেনি। অনেক জায়গায় বিজেপি’র বিরুদ্ধেও এই অভিযোগ উঠছে।

এবার নদিয়ার শান্তিপুর থানার বেলঘড়িয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোড়ালিয়া নরসিংহপুরের গ্রামের এক বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠল। চন্দনা পাল নামে ওই বিজেপি সদস্যার স্বামীর অ্যাকাউন্টে আমফান ঝড়ের টাকা ঢোকে। অভিযোগ, গ্রামবাসীদের চাপে তিনি বুধবার প্রায় ২০০ পরিবারকে ১০০ টাকা করে নিজের উদ্যোগেই ফেরত দেন। প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি টাকা প্রশাসনকে না জানিয়ে কারও অনুমতি না নিয়ে কীভাবে তিনি বিতরণ করতে পারেন?

এবিষয়ে চন্দনা পাল বলেন, আমার আর কিছু উপায় ছিল না। আমার স্বামীর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে আমি নিজেই জানতাম না। যেহেতু স্বামীর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে, তাই আমি সেই টাকা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায় ২০০ পরিবারকে ১০০ টাকা করে দিয়ে দিয়েছি। এবিষয়ে তিনি কারও কাছ থেকে অনুমতি নেননি তাও তিনি স্বীকার করেন।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শান্তিপুর ব্লকের বিডিও সুমন দেবনাথকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এবিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। তবে আমরা ওই পঞ্চায়েত সদস্যাকে লিখিত নোটিশ পাঠিয়েছি। প্রশাসনের ফান্ডে ওই টাকা ফেরত দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তিনি যদি সাধারণ মানুষকে টাকা বিলি করে থাকেন, সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু সরকারি টাকা প্রশাসনের ফান্ডে ফেরত দিতে হবে। যদি ফেরত না পাই তা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ওই পঞ্চায়েত সদস্যার বিরুদ্ধে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here