ডেস্ক: সাধারণত ভোটের একসপ্তাহ আগে থেকে উত্তাপ টের পাওয়া যায় নির্বাচনের। কিন্তু লোকসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পরই রাজ্যে চলে এসেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। শুরু হয়েছে রুটমার্চও। সবমিলিয়ে হাওয়া গরম বলাই চলে। এরই মধ্যে নতুন দাবি তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল বঙ্গ বিজেপি। এবার তাদের দাবি, নির্বাচনী প্রচার বা ভোটপর্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হোক তৃণমূলের চার নেতাকে। তাঁরা হলেন, অনুব্রত মণ্ডল, ফিরহাদ হাকিম, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং জিতেন্দ্র তিওয়ারি।

এই চার নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার কারণও অবশ্য খুব স্বাভাবিক। তবে ফিরহাদ ওরফে ববি হাকিমের নাম কেন নিষিদ্ধ নেতাদের তালিকায় রাখার আবেদন করা হল, তা নিয়ে অবাক হচ্ছেন বিজেপিরই অনেকেই। বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত ওরফে কেষ্ট যেভাবে গুড়-বাতাসা বা নকুলদানার দাওয়াই দিতে সিদ্ধহস্ত। তেমনই উত্তরবঙ্গেও দাপটের আরেক নাম রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। গত বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়ও বুথে ঢুকে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে থাপ্পড় মারতে দেখা যায় তাঁকে। একই সঙ্গে, কটুকথার মাধ্যমেও বেশ ভালোই ঝড় তুলতে জানেন তিনি। মঙ্গলবারও প্রচারে এসে এক সভা থেকে প্রকাশ্যে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী নির্বাচনের পর থাকবে না, আমরা থাকব সারা বছর। ভোটটা জোড়া ফুলেই দেবেন। ফলে বহুদিন ধরেই বিজেপির টার্গেটে রয়েছেন তৃণমূলের দুই দাপুটে নেতা।

অন্যদিকে ফিরহাদ হাকিম অভিযোগ তুলেছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী নাকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারির বিরুদ্ধে আবার অভিযোগ, বুথ থেকে পাঁচ হাজারের বেশি লিড এনে দিলেই এক কোটি টাকার টোপ দিয়েছেন তিনি। সবমিলিয়ে বিজেপির হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে তৃণমূলই। আর সেই অস্ত্রে শান দিয়েই কমিশনের কাছে নালিশ করেছে বিজেপি।

তৃণমূল কংগ্রেসের এই চার নেতাকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলে এদিন কমিশনে উপস্থিত হয় বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল। বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন। কমিশনের কাছে বিজেপি আবেদন করে, নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগে যেন তৃণমূলের এই চার নেতাকে নিষিদ্ধ করা হয়। পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকেই বাদ দিতে হবে এই চার নেতাকে। এমনটাই দাবি বিজেপির।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here