ডেস্ক: একসময় রাজ্যে বিজেপি সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনিই। এখন দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদক থাকলেও বঙ্গ বিজেপি যে ‘অপদার্থ’ তা নিজের মুখেই স্বীকার করে নিলেন রাহুল সিনহা। সভাপতি পদে এখন দিলীপ ঘোষ থাকলেও রাজ্য রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তাঁর দল যে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় নেই তা ভালভাবেই জানেন রাহুল। অন্যদিকে, শিয়রে এসে পড়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচন। সেই নির্বাচনে আশাবাঞ্জক ফল না হলে যে মোদী-শাহদের খাড়া নেমে আসবে তাও আন্দাজ করছে তাঁর দল। তাই অনেকের মত, দলকে আসলে ‘পেপ টক’ দিতে এমন মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় সম্পাদক। কিন্তু তাঁর এই মন্তব্যের অন্য মানেও বের করতে তৎপর হয়ে উঠেছেন শাসকদলের নেতা মন্ত্রীরা।

প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারে রাজ্যে আসতে চলেছে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। প্রথম দফায় ৮ এপ্রিল শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে এবং ৯ এপ্রিল কলকাতায় তাঁর সাংগঠনিক বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। শাহের সফরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে দলীয় কর্মীদের নিয়ে এক বৈঠকে রাহুল সিনহা বিজেপির ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একটি প্রথম সারির বাংলা সংবাদপত্রের দাবি, বাঙালি রাজ্য ত্রিপুরার কথা টেনে রাহুল বলেন, সেখানেও বিজেপি সরকার গঠন করল। কিন্তু সেখানে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও যাননি রাহুল। কারণ জানিয়ে তিনি নিজেই বলেন, ”শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে এই দলের জন্ম। অন্য রাজ্যগুলি শ্যামাপ্রসাদের পায়ে অঞ্জলি দিলেও তাঁর জন্মভূমি বাংলাতেই আমরা কিছু করতে পারছি না। এতটাই অপদার্থ আমরা। এ ব্যাথা বলে বোঝাতে পারব না।”

উল্লেখ্য, এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় সহ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এখানেই দিলীপবাবু রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের প্রকল্পগুলিকে নিজেদের নাম দিয়ে চালানোর মারাত্মক অভিযোগ তোলেন। বিজেপি সভাপতির দাবি, ”কেন্দ্রের প্রায় ১০০টা প্রকল্পের নাম বদলে নিজেদের বলে চালানো হচ্ছে। পঞ্চায়েত ভোটেই প্রচারপত্র বিলি করে সাধারণ মানুষকে জানিয়ে দেওয়া হবে যে সেগুলি আসলে কেন্দ্রের প্রকল্প।”

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here