নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একুশের ভোটের ময়দানের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিলো আগেই। এবার সৈন্যদল সাজাতে শুরু করে দিল বিজেপি। লক্ষ্য তিন মাসে তিন কোটি সদস্য। শুক্রবার কলকাতার মুরলীধর সেন লেন থেকে এমনই হুংকার দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন থেকেই শুরু হয়ে গেল ‘আমার পরিবার, বিজেপি পরিবার’ এর ঘর ভরার প্রক্রিয়া। এই কর্মসূচি চলবে বিজেপি সেই চিরাচরিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী। বিজেপির পরিবারে যোগ দিতে এক্ষেত্রে শুধুমাত্র একটি মিসডকলই যথেষ্ট হবে। তার জন্য রাজ্য বিজেপির ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে নিদৃষ্ট নম্বর। এই নম্বরে মিসডকল দিলেই বিজেপি পরিবারের সদস্য হওয়া যাবে।

দিলীপ ঘোষের কথায়, তৃণমূলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে একমাত্র বিকল্প বিজেপি। যা ইতিমধ্যেই মানুষ বুঝেছে। রাজ্য বিজেপির সভাপতির দাবি, রাজ্যবাসী যে বিজেপিকে চাইছে তার ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত মিলেছে। গতবছরই বিজেপির সদস্য অভিযানে পশ্চিমবঙ্গে ৯৪ লক্ষ সদস্য হয়েছে বলে এদিন দাবি করেন তিনি। সংখ্যাটা ৯৪ লক্ষ কিনা এই নিয়ে সংশয় থাকলেও, গত এক বছরে পশ্চিমবঙ্গের যে বিজেপি নিজেদের মাটি অনেকটাই শক্ত করেছে, সে বিষয়ে প্রায় সংশয় নেই বাকি রাজনৈতিক দলগুলোরও। যার প্রমাণ মিলেছে ২০১৯ লোকসভা ভোটেই। ২০১৪ সালে ২ টি আসনের পর ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে এক লাফেই পশ্চিমবঙ্গে ১৮ টি আসন দখল করে বিজেপি। বর্তমানে রাজ্যে শাসকদলের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী বিরোধীপক্ষ হিসেবে রাজ করছে বিজেপি একথা অনস্বীকার্য। তবে এখানেই থেমে থাকতে নারাজ বিজেপি কর্তারা।

রাজ্যে মাটি শক্ত করার পর, এবার রাজ্যশাসনের দিকে লক্ষ্য রেখে এগোতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। এ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতি জানান, ইতিমধ্যেই ১৪৪ টি বিধানসভা পর্যালোচনা হয়েছে। বাকি ১৫০ টি বিধানসভার পর্যালোচনা খুব শীঘ্রই শেষ হবে। দিলীপ ঘোষের কথায়, বিজেপি একমাত্র দল যে নতুন টেকনোলজিকে কাজে লাগাতে পেরেছে। ৬০টি ভার্চুয়াল মিটিং হয়েছে, যা অন্য পার্টি করতে পারিনি। প্রত্যেকদিন চল্লিশটি করে বিধানসভা নিয়ে মিটিং চলছে। নির্বাচনী প্রস্তুতি সবদিক থেকেই জোরকদমে চলছে বলে দাবি করেন দিলীপ ঘোষ। ফলে রাজ্যে ঘাসফুলের বদলে পদ্ম ফুল ফুটতে আর বেশি দেরি নেই, এদিন অন্তত এমনটাই আভাস দেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here