news bengali kolkata

Highlights

  • দিলীপ ঘোষ তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘ভালো লাগল। ওরা আমায় স্বাগত জানানোর জন্য ঝান্ডা লাগিয়েছে’
  • এলাকার এক বাড়ি থেকে চা এনে খাওয়ানো হয় বিজেপি রাজ্য সভাপতিকে
  • ক্ষুব্ধ দিলীপ বলেন, গণতন্ত্রে কারও জমিদারি চলে না

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওড়া: হাওড়ায় বিজেপির ‘চায়ে পে চর্চা’ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা উঠল তুঙ্গে । বিজেপি রাজ্য সভাপতি জনসংযোগ করতে এসে দেখলেন এলাকায় চায়ের দোকান বন্ধ। বন্ধ বাজার। এলাকা জুড়ে লাগানো রয়েছে তৃণমূলের পতাকা। রেগে গিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন রাজ্যের শাসকদলকেই। শুক্রবার সকালে মধ্য হাওড়ার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের দয়াল ব্যানার্জি লেনের আটের পল্লীতে দিলীপ ঘোষকে নিয়ে ‘চায়ে পে চর্চা’-র আয়োজন করেছিল স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি জনসংযোগ করতে এসে দেখেন পাড়ার মোড়ে কোনও চায়ের দোকান খোলা নেই। শুধু তাই নয় বন্ধ ছিল বাজারও। এই নিয়ে বিজেপির তরফ থেকে শাসকদলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়েছে। দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘আমাদের ভয় পেয়ে তৃণমূল আগে থেকেই সমস্ত চায়ের দোকান, বাজার বন্ধ করে দিয়েছে। পাড়ার মোড়ে মোড়ে বিজেপির ঝান্ডা খুলে তৃণমূলের ঝান্ডা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

এই নিয়েই শুক্রবার সকালে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে ওঠে। এদিন বিজেপি মধ্য হাওড়া মণ্ডল-২ এর উদ্যোগে শুক্রবার সকালে ‘চায়ে পে চর্চা’-র আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, জেলা সভাপতি সুরজিৎ সাহা, মণ্ডল সভাপতি শিবশঙ্কর সাধুখাঁ সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ বিজেপি রাজ্য সভাপতি প্রথমেই এসে পৌঁছান নরসিংহ দত্ত রোডের বিজয়ানন্দ পার্কে (ধাপার মাঠ)। সেখানে তিনি বেশ কিছুক্ষণ প্রাতঃভ্রমণ করেন। এলাকায় সময়ও কাটান। প্রাতঃভ্রমণকারীদের সঙ্গে দেখা করেন। কথাবার্তাও চলে। পার্কের বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

তারপরেই বিজেপির দাপুটে নেতা সোজা চলে আসেন হাওড়ায় বিজেপির দ্বিতীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের দয়াল ব্যানার্জি লেনে আটের পল্লীতে তিনি আসেন ‘চায়ে পে চর্চা’য় যোগ দিতে। বিজেপির অভিযোগ, সেখানে আগেভাগেই সব চায়ের দোকান বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। বিজেপির দলীয় পতাকা খুলে রাতেই সেখানে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের পতাকা। অগত্যা এক বাড়ি থেকে চা এনে দিলীপ ঘোষকে দেওয়া হয়। রাস্তায় দাঁড়িয়েই তিনি চায়ে চুমুক দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গেও।

দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘তৃণমূল আমাদের যে কত ভয় পায় তার প্রমাণ আজকের ঘটনা। এখানে ‘চায়ে পে চর্চা’ অনুষ্ঠান হবে জেনে আগে থেকেই চায়ের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মানুষকে এরা কষ্ট দিচ্ছে। আমি এসেছি মানুষের সঙ্গে দেখা করতে এবং তাদের সঙ্গে চা খেতে। কিন্তু তা বলে এলাকায় কোনও চায়ের দোকান খুলবে না ? এটা কি ধরনের রাজনীতি ? এত ভয় কেন ? যারা মানুষকে ভয় করে তাদের রাজনীতি করাই উচিত নয়। আমাদের চেয়ে ওদের ঝান্ডা বেশি।’ এরপরেই বলেন, ‘ভালো লাগল ওরা আমায় স্বাগত জানানোর জন্য ঝান্ডা লাগিয়েছে। অন্তত বছরে একবার বেরিয়ে ঝান্ডা লাগাচ্ছে ওরা। কিন্তু দিলীপ ঘোষ আসছে বলে চায়ের দোকান খুলবে না, বাজার খুলবে না এ রাজ্যে এ ধরনের রাজনীতি হওয়া উচিত নয়। ভয় দেখানো আর ভয় পাওয়া দুটোই বন্ধ হওয়া উচিত। গণতন্ত্রে কারো কোনও জমিদারি হয় না। সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষিত করতে আমি এখানে এসেছি।’

বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের নবান্নে যাওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, ওনার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর পুরানো সম্পর্ক উনি যেতেই পারেন। এই প্রথমবার যাচ্ছেন না, বলেও দাবি করেন দিলীপ। বলেন, এতে বিজেপির কোনও অস্বস্তি নেই। বিজেপির মুখ বিজেপিতেই আছে। আর কেউ নয়। যে কাজ করবে পার্টিতে সেই মুখ হয়ে যাবে।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি কখনও বলেছেন, রোগ ঠেকাতে মায়ের প্রসাদ খাওয়ার কথা, কখনও বলেছেন, বড় ভাইরাস তাই এত মাস্ক দেওয়া সম্ভব নয়। বাড়িতেই কাপড় কেটে মাস্ক বানানোর উপায় বলে বিতর্কে জড়িয়েছেন একাধিকবার। এদিন করোনা প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিদেশ থেকে যারা এসেছে তাদের নিয়েই ভয়। সকলে সাবধানে থাকুন। সতর্ক থাকুন। কিছু হবে না।’ কলকাতা ও হাওড়ায় পুরভোটের প্রসঙ্গে বলেন, ‘এর আগেও বিজেপি লড়াই করে লোকসভায় ১৮টা আসন জিতেছে। এবারও লড়াই করে বিজেপি জিতবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here