নিজস্ব প্রতিবেদক, তমলুক : কাটমাণি নিয়ে সারা রাজ্য জুড়ে প্রতিনিয়তই গণ্ডগোল চলছে। আর এ নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। লোকসভা ভোটের পর থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের জমি শক্ত করতে সেই পটাশপুরকেই পাখির চোখ করেছে বিজেপি। যদিও বিধানসভাভিত্তিক ফলের নিরিখে এবারও পটাশপুরে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূলই। কিন্তু গত ২০১৪ সালের চেয়ে লিড এবার পটাশপুরে কমেছে তৃণমূলের। এই ব্যবধান কমিয়ে অনেকটাই এই অর্থে জয় হিসেবে দেখে পটাশপুরে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা কাঁথি সাংগঠনিক জেলা যুব মোর্চার সহ-সভাপতি শম্ভু চক্রবর্তী বলেন, “এখানে সব বুথে যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট হত, বিজেপি এগিয়ে থাকত।বেশি দিন তৃণমূল এটা ধরে রাখতে পারবে না। পটাশপুরে আমরা এখন ভালো জায়গায় রয়েছি।”

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সভাধিপতি দেবব্রত দাস অবশ্য এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “সকলে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন, ভাবার কোনও কারণ নেই। সব কেন্দ্রেই তৃণমূল জিতেছে। তবু বিজেপি জয়ী দলের মতো লাফাচ্ছে! মানুষ বুঝে গিয়েছেন বিজেপি বলে কেউ নেই। সিপিএম হার্মাদেরাই ঝাণ্ডা বদলে নিয়েছে।” সেইসঙ্গে তাঁর দাবি, স্থানীয় কিছু কারণে কোথাও কোথাও ভোট কমেছে।তবে সেটা আশঙ্কার নয়। নিচু তলার কর্মীদের সংযত হতে বলা হয়েছে। পুরনো লোকেদের দলে ফিরিয়ে এনে জনসংযোগ যাত্রায় সামিল করা হচ্ছে। সামনের ভোটেও বুঝবেন, পূর্ব মেদিনীপুর তৃণমূলেরই গড়।” বৃহস্পতিবার বিজেপির পক্ষ থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর-১ ব্লকে ২০ দফা দাবিতে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে বিজেপির তরফে বিডিও’র কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে। বিজেপির দাবি, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প থেকে নেওয়া কাটমাণি অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। প্রত্যেক গরীব মানুষকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার পাকাবাড়ি দিতে হবে।

বিজেপি সূত্রের খবর, এ দিন পটাশপুরের সিংদা বাজার ও অমর্ষি বাজার থেকে বিজেপির দুই মণ্ডল সভাপতি গোবর্ধন দাস ও মানস সামাইয়ের নেতৃত্বে কয়েক হাজার কর্মীদের নিয়ে দু’টি বিশাল মিছিল এসে অমর্ষিতে পটাশপুর-১ ব্লক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে টাকা ফেরত চেয়ে বিক্ষোভ দেখান। তবে বিজেপির বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন ঘিরে উত্তেজনা এড়াতে এগরার এসডিপিও আকতার আলির নেতৃত্বে বিশাল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী, কমব্যাট ফোর্স, মহিলা পুলিশ ও সিভিকদের মোতায়েন করা হয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়।

তবে শান্তিপূর্ণভাবে ডেপুটেশন হয়েছে বলে দাবি বিজেপির। প্রসঙ্গত, গত সোমবার পটাশপুরের সরিদাসপুরে বিজেপির প্রচার গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সেইসঙ্গে দফায় দফায় বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করেছিল। পুলিশকে মার ও গাড়ি ভাঙচুরও করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় ২৪ জন বিজেপির নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর বিজেপির পক্ষ থেকে পটাশপুর থানা ঘেরাও করে অবস্থান বিক্ষোভ চলে। পুলিশ অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিন বিজেপির ডেপুটেশনে নেতৃত্বে ছিলেন কাঁথি সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক মোহনলাল শী ও দেবম পাল, জেলা যুব মোর্চার সভাপতি অরুপ দাস, যুব মোর্চার জেলা নেতৃত্ব সোমনাথ পাত্র ও কৃষ্ণগোপাল দাস, মহিলা মোর্চার নেত্রী সাথী পট্টনায়ক, স্থানীয় দুই মণ্ডল যুব মোর্চার সভাপতি দেবীপ্রসাদ চক্রবর্তী ও গুরুপদ জানা প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here